ব্রাহ্মী চাষ করে করুন অধিক উপার্জন

Friday, 02 August 2019 04:17 PM

ব্রাহ্মী পশ্চিমবঙ্গে অনেক জায়গাতেই চাষ হয়। প্রায় সকলেই ব্রাহ্মীর উপকারিতা সম্পর্কে জানেন। তবে শুধু শরীরের উপকারই নয়, ব্রাহ্মী চাষ করে কৃষক লাভবান হতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বকখালিতে কল্পতরু ওয়েলফেয়ার সোসাইটি-র সহায়তায় ১৫০ একর জমিতে ২৫০ মেট্রিক টন ব্রাহ্মীর চাষ করে ৪০০০০ টাকার উপর লাভ করেছেন চাষীরা। কীভাবে চাষ করবেন ব্রাহ্মী ? সেই সম্পর্কে রইল কিছু তথ্য-

মাটি এবং জলবায়ু –

প্রধানত জলজ এলাকায় অর্থাৎ আদ্র জলাভূমিতে এবং খালে এর চাষ হয়। নিষ্কাশিত মাটিতে স্বাভাবিকভাবেই এই উদ্ভিদগুলি বৃদ্ধি পায়। অম্লীয় প্রকৃতির মাটি এই ব্রাহ্মী চাষের জন্য যথোপযুক্ত। এই উদ্ভিদ উপ-ক্রান্তীয় এবং ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের অধীনে বৃদ্ধি পায়। ৩৩০-৪০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা এবং ৬০-৬৫ শতাংশ আপেক্ষিক আদ্রতা এই উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত।

উদ্ভিদটির সম্প্রসারণ –

উর্বর নরম মাটিতে এর সম্প্রসারণ ঘটে। উদ্ভিদটি যাতে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে, সেজন্য সমগ্র উদ্ভিদটিকে ছোট ছোট অংশে কাটা হয় এবং মাটিতে নিমজ্জিত করা হয়। এক হেক্টর এলাকা রোপণ করার জন্য প্রায় ৬২,৫০০ টি ক্ষুদ্র অংশের প্রয়োজন হয়। শিকড় এবং কিছু পাতা সহযোগে ৫-৬ মি. দৈর্ঘ্যে এবং ১০*১০ সেমি. ব্যাসার্ধে আদ্র মাটিতে প্রতিস্থাপিত করা হয় এই উদ্ভিদটি। উদ্ভিদটি রোপণ করার পরেই শুধুমাত্র সেচ প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ পরিমাণে ফলনের জন্য উদ্ভিদের কাটা অংশগুলিকে জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা উচিৎ।

সার –

ব্রাহ্মী চাষের ক্ষেত্রে জৈব সার প্রয়োগ করলে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫ টন ফার্ম ইয়ার্ড ম্যানিয়োর (এফওয়াইএম) সার দিয়ে মাটি প্রস্তুত করতে হবে। অজৈব সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে নাইট্রোজেন,ফসফরাস,পটাশিয়াম (NPK) প্রয়োগ করতে হবে।

ব্রাহ্মীর উপকারিতা –

কেন খাওয়া উচিৎ ব্রাহ্মী ? কি কি উপকার হবে ব্রাহ্মী খেলে ? দেখে নেওয়া যাক ব্রাহ্মীর বেশ কিছু গুণ-

  • গ্যাস্ট্রিক আলসারের মতো রোগ কে দূরে রাখে –

ব্রাহ্মী শাকে উপস্থিত শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ দেহে প্রবেশ করে আলসার সৃষ্টি করি এইচ.পাইলোরি ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে, ফলে আলসারের মতো রোগের আশঙ্কা কমে যায়।

  • এপিলেপসি থেকে মুক্তি –

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাহ্মী শাকে উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র কিছু নিউরো ট্রান্সমিটারের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে এপিলেপসির মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

  • স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটির মাত্রা কমায় –

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ব্রাহ্মী শাক খেলে মস্তিষ্কের অন্দরে স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটির জন্ম দেওয়া কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ যেমন কমে, তেমনই মনের হারিয়ে যাওয়া আনন্দও ফিরে আসে। প্রসঙ্গত বলা যায়, বর্তমান দিনে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে চাকুরীজীবী সকল মানুষই নানা কারণে ভীষণ মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, ফলে ডিপ্রেশনের মতো মানসিক রোগের কবলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এরকম পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মী শাক খেলে সমস্তরকম মানসিক রোগ থেকে মেলে মুক্তি।

  • ক্যান্সারের মতো রোগ থেকে মুক্তি দেয় ব্রাহ্মী শাক-

এই শাকটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এই উপাদানটি শরীর থেকে নানাবিধ ক্ষতিকর উপাদানদের বের করে দিয়ে একদিকে ক্যান্সার কোষের জন্ম রোধ করে এবং অন্যদিকে সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে।

  • অ্যালঝাইমার রোগকে দূরে রাখে –

ব্রাহ্মী শাকে উপস্থিত ব্যাকোসাইড নামক এক ধরনের রাসায়নিক জৈব-বস্তু (বায়ো-কেমিক্যাল)। এটি ব্রেন টিস্যুর ক্ষত সারিয়ে তাদের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রেন-এর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। অপরদিকে, কগনিটিভ ফাংশান কমে যাওয়ার সম্ভবনাও কম থাকে, ফলে অ্যালঝাইমার রোগের আশঙ্কা কমে যায়।

  • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে –

অতিরিক্ত টেনশনের কারণে ব্লাড প্রেশার ওঠা নামা করে। ব্রাহ্মী শাক রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে যাতে কোনও ধরণের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

  • বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় –

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাহ্মী শাকে উপস্থিত অনেক ধরণের কার্যকরী উপাদান। এই উপাদানগুলি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হিপোকম্পাস অংশটির ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়, ফলে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি চোখে পড়ার মতো বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মনোযোগ বাড়াতেও ব্রাহ্মী বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে, কারণ ব্রেনের হিপোকম্পাস অংশটির ক্ষমতার উপর মনোযোগ কমা বাড়ার তারতম্য নির্ভর করে। তাই ব্রাহ্মী শাক নিয়মিত খেলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

  • রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মী –

নিয়মিত এই শাকটি খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করে তুলতে সাহায্য করে। এর ফলে অনায়াসেই রোগের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়।

স্বপ্নম সেন (swapnam@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.