পশ্চিমবঙ্গে খরিফ পেঁয়াজ চাষের উপযোগি জাত- এগ্রিফাউন্ড ডার্ক রেড

Friday, 31 May 2019 10:59 AM

 আমাদের রাজ্যে বর্ষার উপযোগী জাত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে ‘এগ্রিফাউন্ড ডার্ক রেড’ নামক কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার জাতটি খরিফ মরশুমে চাষের উপযুক্ত। এটির খোসা শক্ত ও মাঝারী ঝাঁঝযুক্ত। কন্দের ব্যাস ৪-৬ সেমি। চারা রোয়া করার ৯০-১১০ দিনে ফসল তোলা যায়। বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি গড় ফলন ৩৫ কুইন্টাল তবে এখানে বলা উন্নত প্রযুক্তি-প্যাকেজে ৪০ কুইন্টালের বেশী ফলন অনায়াসে সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, এ জাতের কন্দের আকার, গাঢ় লাল রঙ আর ঝাঁঝ বাঙালীর হেঁসেলের খুব উপযোগী।

পশ্চিমবঙ্গে খরিফ পেঁয়াজ চাষের সময় – আমাকে অনেক চাষিভাই বর্ষার পেঁয়াজ কখন লাগাবো এ প্রশ্ন করেন। আমাদের রাজ্যে বৃষ্টির গতি-প্রকৃতি আর জমির নিকাশী অবস্থার সঙ্গে এই ফসল যখন উঠবে তার বেশী দাম পাওয়াটাই আসল উদ্দেশ্য। তাই আমি বলি অঙ্ক কষে চাষ-বাস। বীজতলায় ৪০-৪৫ দিন ধরে রোয়ার পর ১০০-১১০ দিন হিসাবে মোট পাঁচ মাসের ফসলে গত কয়েক বছরে শরতের পর চড়া দামের সময় ও ট্রেন্ড (গতি-প্রকৃতি) দেখে ৫ মাস পিছিয়ে বোনা ও রোয়ার সময় নির্ধারণ করুন। সাধারন হিসাবে এই জাত আষাঢ়ের মাঝ থেকে নাবি করে ভাদ্রের প্রথমার্ধ অবধি লাগানো যাবে।

 

বীজতলা ও চারা তৈরি – বীজতলার উপর প্লাস্টিক-আচ্ছাদনের (পলি টানেলের) ব্যবস্থা করে চারা তৈরি করতে হবে। উপযুক্ত জলনিকাশী ব্যবস্থাযুক্ত উঁচু জমিতে ৬-৮ ইঞ্চি গভীর করে কুপিয়ে বীজতলা করতে হবে। পচা শুকনো গোবরসার বা কেঁচোসার প্রতি বর্গমিটারে ৩-৪ কেজির সঙ্গে জৈব-ছত্রাকনাশক ট্রাইকোডার্মা হার্জিয়ানাম ও সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স  ২ গ্রাম করে মিশিয়ে দিন। একবিঘার বীজতলার জন্য ১৫ মিটার লম্বা ১ মিটার চওড়া বীজতলা যথেষ্ট। বিঘাপ্রতি এগ্রিফাউন্ড ডার্করেড বর্ষার পেঁয়াজ চাষে ৭০০-৭৫০ গ্রাম বীজই যথেষ্ট। শোধন করা বীজ না পেলে প্রতি কেজি বীজের হিসাবে ২-৩ গ্রাম থাইরাম/ক্যাপটান/কার্বেন্ডাজিম মাখিয়ে বুনুন। বীজতলায় বীজ ছিটিয়ে না বুনে ৩-৪ ইঞ্চি দূরত্বে লাইন করে বুনলে বীজ সাশ্রয়ের সঙ্গে আগামীতে চারার স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। বীজবোনার পর বীজতলা ট্রাইকোডার্মা মেশানো শুকনো গোবর/কেঁচোসার দিয়ে হালকা করে ঢেকে তার উপর শুকনো খড়ের আস্তরণ দিয়ে দিন। যদি উই বা পিঁপড়ের উপদ্রব থাকে তবে ক্লোরপাইরিফস্ ২০ ই.সি. ২ মিলি/লি. জলে হালকা করে খড়-মাটি আস্তরণ ভিজিয়ে স্প্রে করুন। বর্ষার পেঁয়াজ বীজতলায় অন্য সবজি ফসলের মতই বাঁশের বাখারি দিয়ে উপরে পলিথিনের শীট দিয়ে ঢেকে দিন। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ, চাষিরা কমদামী যে পলিশীট ব্যবহার করেন ও বীজতলা খুব আঁটোসাটো করে ঢেকে দেন, তা না করে একটু মোটা পলিশীট অল্প বেশী খরচে কিনুন ও বাঁশের বাখারি চওড়া করে দুপাশে হাওয়া চলাচলের জায়গা রাখুন। এতে চারার বৃদ্ধি হবে সুন্দর ও ড্যাম্পিং অফের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বীজ ফুটতে শুরু করলে খড়ের আচ্ছাদন সরিয়ে বৃষ্টির গতি-প্রকৃতি বুঝে পলিশীট সরিয়ে রোদ-হাওয়া খাওয়ান। দিন ১০-১৫ ও মাসখানেকে মিশ্র-ছত্রাকনাশক কার্বেন্ডাজিম+ম্যানকোজেব ১ গ্রাম/লি. হিসাবে স্প্রে করে রাখুন। খরিফে ৪০-৪৫ দিনের চারা রোয়ার উপযোগী হয়। কম বয়সের চারা মাটিতে ভালভাবে দাঁড়ায় না, আবার বেশী বয়সের চারাতে ফলন মার খায়।

খরিফ পেঁয়াজ এগ্রিফাউন্ড ডার্ক রেড চাষ সম্বন্ধে আরো জানতে কৃষি জারণ পত্রিকায় চোখ রাখুন

রুনা নাথ(runa@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.