এপ্রিল মাসের চাষবাস ও পরিচর্যা

Monday, 08 April 2019 12:46 PM

ফাল্গুন চৈত্র মাসে বিভিন্ন রকমের গরমের সবজি (যেমন – পটল, ঢেঁরস, লঙ্কা, গরমের বেগুন, লাউ, কুমড়ো, উচ্ছে, ঝিঙে, শশা ইত্যাদি )লাগানোর সময়। এই মাসে আম ও লিচু গাছের বিশেষ যত্ন নিলে আম ও লিচুর ভালো ফলন পাওয়া যায়। এমাসে আম, লিচু ও সবজি চাষে কিভাবে পরিচর্যা করবেন, বোরো ধান, পাট চাষ, মুগডাল চাষে কিভাবে রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ করবেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ রইলো।

 

  • ধান - বোরো ধানে থোর আসার মুখে ৭.৫ কেজি প্রতি বিঘা ইউরিয়া চাপান দিতে হবে। দানা পুরু হওয়া পর্যন্ত ২ ইঞ্চি জল ধরে রাখতে হবে। মাজরা পোকা নিয়ন্ত্রণে কারটাপ হাইড্রোক্লোরাইড ১ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন।
  • পাট - মিঠা পাট ও তিতা পাটে কেড়ি ও শুঁয়োপোকা দমনে ফ্লুবেন্ডামাইড ১ মিলি প্রতি ৩ লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। অথবা প্রফেনোফস + সাইপারমেথ্রিন ২ মিলি প্রতি লিটার বা ইন্ডক্সাকার্ব ১ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন। এমাসেও পাট লাগানো চলে।
  • ডালশস্য - মুগডালে ল্যাদাপোকা থেকে বাঁচতে উপরের পাটের মত স্প্রে করুন । যারা জৈব চাষ করছেন তারা ২৫ গ্রাম নিমবীজের গুঁড়ো প্রতি লিটার জলে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে স্প্রে করতে পারেন। ডাল শস্যের গোঁড়া পচা নিয়ন্ত্রণে থায়োফ্যানেট মিথাইল ১.৫ গ্রাম বা ভ্যালিডামাইসিন ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে গোড়া ভিজিয়ে স্প্রে করুন।
  • তৈলবীজ - তিল, সূর্যমুখী ও চিনেবাদামকে শুঁয়োপোকা থেকে বাঁচাতে ১ মিলি ফ্লুবেন্ডামাইড ৩ লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।
  • সবজি – এখন গরমের সময় সকল সবজিতে সেচের ব্যবস্থা রাখুন। পেঁয়াজ তোলার পর মাটি পরিষ্কার করে ঝাড়াই বাছাই-এর পরে গ্রেড অনুযায়ী ভাগ করে সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিন। কারন আগামীতে বয্ষাকালে পেঁয়াজের বেশী দাম পাবেন।

বর্ষা সহনশীল বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষের জন্য বীজতলা করার এখন প্রকৃষ্ট সময়। এর জন্য ভালো মানের হাইব্রিড জাত বেছে নিন।

কুমড়ো জাতীয় সবজি যেমন মিষ্টিকুমড়ো, ঝিঙে, শশা, উচ্ছে/করলা ইত্যাদি লাগানোর প্রকৃষ্ট সময় যেগুলি বর্ষার সময় ফলবে। এক্ষেত্রে দেশী ভালো উন্নত জাত ও হাইব্রিড জাত নির্বাচন করে জমিতে মাদা করে বুনুন। সার পুরো জমিতে ব্যবহার না করে মাদায় প্রথম চাপান / দ্বিতীয় চাপান এভাবে দেবেন। তবে সবজি চাষের জমিতে পর্যাপ্ত জৈব সারের সঙ্গে ট্রাইকোডার্মা হার্জিয়ানাম ও সিউডোমোনাস ফ্লুরোসেন্স ব্যবহার করুন বিঘা প্রতি এক কেজি করে।

গরমে কালবৈশাখীর সঙ্গে ঝঞ্ঝা ও বৃষ্টি হলে সাময়িক আর্দ্র আবহাওয়ায় ধ্বসার প্রাদুর্ভাব হতে পারে। এক্ষেত্রে জমা জল বের করে দিয়ে জলনিকাশী ব্যবস্থা ভালো করে থায়োফ্যানেট মিথাইল ১.৫ গ্রাম ও ভ্যালিডামাইসিন / কাসুগামাইসিন ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে গোঁড়া ভিজিয়ে  ও গাছে আঠা সহযোগে স্প্রে করতে হবে।

  • পান - পান গাছে খোল পচা সার দিন।
  • আম ও লিচুর ফল বাগিচা – ছোট গুটিতে ফল ফাটা ও ফল ঝরা রোধে বোরন ১ গ্রাম ও তরল ক্যালসিয়াম ৩ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করুন। এর সাথে কোন ছত্রাক / কীটনাশক মিশাবেন না। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাগিচায় সেচের ব্যবস্থা রাখুন। মাটি ভিজিয়ে সেচের অভাবে ফুট স্প্রে মেশিন দিয়ে শুধু জল দিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করুন সপ্তাহে ২/৩ বার।

আমে সুলি পোকার আক্রমণ রুখতে ইমামেকটিন বেঞ্জয়েট ১ মিলি প্রতি লিটার জলে আঠা সহযোগে স্প্রে করুন ও ফলের মাছির জন্য গাছ প্রতি একটি মিথাইল ইউজিনল ফাঁদ ঝুলিয়ে দিন।

লিচুর গুটি বড় হলে বোঁটার গুঁড়ো পোকা রুখতে আমের সুলি পোকার মত ব্যবস্থা নিন

এখন মাটিতে রস থাকা অবস্থায় ফল বাগিচায় গ্রেড – ২ অনুখাদ্য মিশ্রন সুপারিশ মাত্রায় প্রয়োগ করুন।

  • ফুল – এই সময় অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাস অবধি রজনীগন্ধার কন্দ বসানো হয়। আবার মে-জুন মাসেও কন্দ লাগানো যায়। কন্দ লাগানোর আগে ৪০ গ্রাম ব্লাইটক্স ১০ লিটার জলে ১০-১৫ কেজি রজনীগন্ধার কন্দ ৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে শোধন করে ছায়াতে শুকিয়ে নিতে হবে।

জমি তৈরির সময় ১৫-২০ টন কম্পোস্ট সার ও ৫ টন কেঁচো সার জমিতে ছড়িয়ে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। কন্দ বসানোর নালীতে ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে।

কন্দগুলি দ্বিসারি পদ্ধতিতে লাগানো হয়। ২০ সেমি দূরত্বে ২ টি সারি ৪০ সেন্টিমিটার ব্যবধানে তৈরি করা হয়। প্রতি সারিতে ১০ সেন্টিমিটার চওড়া ও ৪ সেন্টিমিটার গভীর নালা তৈরি করে জৈব ও রাসায়নিক সারের মিশ্রণ তৈরি করে রাখা হয়। প্রতি ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে মাটির ৫-৬ সেন্টিমিটার গভীরে কন্দ বসাতে হবে। প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার সুস্থ্য কন্দের প্রয়োজন হয়।

রজনীগন্ধা চাষে সার প্রয়োগ – এক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে ২০০ কেজি নাইট্রোজেন, ১৫০-২০০ কেজি ফসফেট এবং ১৫০-২০০ কেজি পটাশ সারের প্রয়োজন। এই সারকে ৩ ভাগে ভাগ করে প্রথম বছর কন্দ বসানোর আগে এক ভাগ, কন্দ বসানোর ৪৫ দিন ও ৯০ দিন পরে বাঁকি দুই ভাগ সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া প্রতি হেক্টরে ৫০০ কেজি সরষের খোল বা নিমখোল মেশালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। রাসায়নিক সারের সাথে জৈবসার বা কম্পোস্ট সার মিশ্রিত করলে ফুলের ঔজ্বলতা ও স্থয়ীত্ব বাড়ে।

কন্দ বসানোর পর ২-৩ সপ্তাহ অন্তর আগাছা দমন ও গাছের গোড়ার মাটি আল্গা করে দিতে হবে।

তথ্যসূত্র: ড. শুভদীপ নাথ, সহ উদ্যানপালন অধিকর্তা, উত্তর ২৪ পরগণা,

রুনা নাথ(runa@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.