গ্রামীন অর্থনীতিতে গাঁদা ফুল চাষের গুরুত্ব

Monday, 27 August 2018 01:14 PM

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে ফুল চাষের গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে। শুধু শখের জন্যই নয় বানিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ ক্রমবর্ধমান। কারণ ফুলের চাহিদা ও গুরুত্ব সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা বা রজনীগন্ধার তুলনায় গাঁদা ফুলের দাম কম হওয়ায় এই ফুলের চাহিদা খুব বেশী। পুজো অর্চনা ও নানা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রচুর গাঁদা ফুলের প্রয়োজন হয়। আজকাল আবার ভিন রাজ্যে ও বিদেশে শুকনো গাঁদাফুলের চাহিদা বাড়ছে । পোল্ট্রি পালনে ও গোখাদ্যেও শুকনো গাঁদাফুলের ব্যবহার বিশেষ উপকারী কারণ এতে আছে রাইবোফ্ল্যাভিন ( Vitamin B2) যা পশুখাদ্যের পুষ্টিগুণ বাড়ায় খামারের পশু- পাখিদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া জৈবিক পদ্ধতিতে জমিতে নিমাটোড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা গাঁদা ফুল চাষের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আমাদের রাজ্যে মূলত পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা ইত্যাদি জেলায় গাঁদা ফুলের চাষ হয় তবে অন্যান্য জেলাতেও এর চাষ দিন দিন বেড়ে চলেছে। প্রধানত তিন রকমের গাঁদার বানিজ্যিক চাষ হয় –

 (১) আফ্রিকান বা হলুদ গাঁদা – এর বিভিন্ন প্রজাতি গুলি হল – গোল্ড কয়েন, গোল্ডেন ইয়েলো, সানসেট জায়েন্ট ইত্যাদি, আর দেশীজাত গুলি হল – পুসা, বাসন্তী , ভাঙড় ইত্যাদি।

(২) ফ্রেঞ্চ বা রক্ত গাঁদা  - এর বিভিন্ন প্রজাতি গুলি হল – জিপসি, রেড চেরী, বলেরো, হানিকম্ব, স্টার ডাস্ট ইত্যাদি।

(৩) হাইব্রিড গাঁদা - এর বিভিন্ন প্রজাতি গুলি হল – ইনকা, বিউটি, রয়াল ইত্যাদি।

গাঁদা ফুলের চাষ পদ্ধতি সংক্ষেপে দেওয়া হল  -

সাধারণত বেশী গরমের ১-২ মাস বাদে এরাজ্যে সারা বছরই গাঁদা ফুলের চাষ করা যায় তবে উঁচু ও  ভালো জল নিকাশী ব্যবস্থাযুক্ত জমি হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ গাঁদা গাছ জমা জল সহ্য করতে পারে না।

সার - মাটিতে জৈব সার বেশী থাকলে ফুলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়, ফুল অনেক দিন ধরে সতেজ থাকে ও অনেকদিন ধরে ফুল পাওয়া যায়। জৈব সারের সঙ্গে অ্যাজোটোব্যাক্টর মিশিয় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

রাসায়নিক সার হিসাবে নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশের পরিমাণ ১৭৫ : ১০০ : ১০০ কেজি প্রতি হেক্টর। মূল সার হিসেবে ইউরিয়া ২৯.৩ কেজি / বিঘা, সিঙ্গল সুপার ফসফেট ৮৩.৩ কেজি প্রতি বিঘা ও মিউরেট অফ পটাশ্ ২২.১ কেজি / বিঘা প্রয়োগ করতে হবে।

জুলাই থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে  চারা তৈরি করা হয়। বীজ থেকে বা ডাল কলম বা কাটিং থেকে চারা তৈরী করা যায়।  বীজ থেকে গাঁদা চাষের জন্য বিঘা প্রতি ২০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন।

গাছে বেশী সংখ্যায় ফুল আসার জন্য গাছের ডগা কেটে দিতে হবে, এতে গাছে ডালপালার সংখ্যা বাড়ে ও বেশী ফুল হয়। কুঁড়ি আসার সময় নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে রসের টান না হয়। এছাড়াও রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।

 - রুনা নাথ

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.