পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে মৌমাছির ভূমিকা

Monday, 01 January 0001 12:00 AM

পেঁয়াজ একটি দ্বিবর্ষজীবী, কন্দ জাতীয়, একবীজপত্রী উদ্ভিদ। প্রাচীন কাল থেকেই পেঁয়াজের ব্যবহার ভারত সহ পৃথিবীর বহু দেশে সুপ্রচলিত। ভারতের কৃষিঅর্থনীতিতে পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতে সবজি জাতীয় ফসলগুলির মধ্যে, উৎপাদন ও চাষের জমির পরিমাণের হিসাবে, আলুর পরেই পেঁয়াজের স্থান। পেঁয়াজ বানিজ্যে ভারত বহুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা  লাভ করে।  সারা পৃথিবীতে কাঁচা বা প্রক্রিয়াকরণজাত (শুকনো, লেই, ইত্যাদি ) পেঁয়াজ বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত হয়। ভারতের রান্নাঘরে এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রান্না ছাড়াও এটি ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। ভারতে লাল বা গোলাপি কন্দের ঝাঁঝাল গন্ধযুক্ত পেঁয়াজের চাহিদা সর্বাধিক। যদিও পৃথিবীর বহু দেশের মানুষ সাদা বা হলুদ কন্দের সল্প ঝাঁজযুক্ত বা ঝাঁজ বিহীন মিষ্টি পেঁয়াজ ব্যবহার করেন।

পৃথিবীতে পেঁয়াজ উৎপাদনে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপন্ন করে। পশ্চিমবঙ্গ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভর নয়।  ভারতে মোট পিঁয়াজ উৎপাদনের ৩০ শতাংশর অধিক মহারাষ্ট্রে হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে  কেবল ২.৫ শতাংশ উৎপাদন হয়। পশ্চিমবঙ্গে হুগলী, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদিয়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলাগুলিতে সর্বাধিক পেঁয়াজ চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গে মূলত সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ শীতকালীন ফসল হিসাবে চাষ হয়।

বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ থেকে উৎপন্ন হয়। অধিক ফলন পেতে গেলে উচ্চ গুনমানের বীজ ব্যবহার করা আবশ্যিক। ভারতে প্রতি বছর ৯৪০০ টন পেঁয়াজ বীজ লাগে। এর মধ্যে ৫৪% বীজ সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যোগান দেয়। বাকি বীজ চাষিরা নিজেরাই তৈরি করে। এই বীজের গুণগত মান বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভালো হয় না। পশ্চিমবঙ্গের বহু চাষি নিজেদের চাষের প্রয়োজন মেটাতে ছোট জায়গায় ও অল্প কিছু চাষি বাণিজ্যিক ভাবে বড় জায়গায় পেঁয়াজের এই জাতের বীজ উৎপাদন করেন। কিন্তু কন্দের গুণগত মানের অভাব ও সঠিক প্রযুক্তির ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রেই বীজের কম উৎপাদনের কারন হয়ে দাড়ায়। পেঁয়াজ বীজের ফলন পেঁয়াজের জাত, জমির ভৌগলিক অবস্থান, চাষের সময়, মাটির প্রকৃতি, বীজ উৎপাদনের পদ্ধতি ইত্যাদি বহু বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। পেঁয়াজ বীজ দুটি পদ্ধতিতে করা যায়, বীজ থেকে বীজ এবং কন্দ থেকে বীজ। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বীজের গুণগত মান ভালো হয়।

স্থানভেদে পেঁয়াজে ৬০-৯৫% পরাগ সংযোগ কাজ মৌমাছি সুসম্পূর্ণ করে। মৌমাছির নানা প্রজাতি আছে। এদের মধ্যে এপিস ডরসাটা, এপিস সেরেনা, এপিস মেলিফেরা অন্যতম। এপিস ডরসাটা এবং এপিস সেরেনা এক এক বারে গড়ে ৭.৫ এবং ৫.৪ টি ফুল পরিদর্শন করে। এপিস ডরসাটা সকাল ৬.৩০ থেকে সন্ধ্যে ৬.৫৫ পর্যন্ত,  এপিস সেরেনা  সকাল ৬.৩০ থেকে সন্ধ্যে ৬.৩০ পর্যন্ত এবং এপিস মেলিফেরা সকাল ৭.২৫ থেকে সন্ধ্যে ৬.২০ পর্যন্ত মাঠে থাকে।

ড: জয়দীপ মণ্ডল (অধ্যাপক , পল্লী শিক্ষা ভবন, বিশ্বভারতী, শ্রীনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ)

পেঁয়াজ চাষ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে মৌমাছির ভূমিকা সম্বন্ধে বিস্তারে জানতে পড়ুন কৃষি জাগরণ পত্রিকার নভেম্বর মাসের সংখ্যাটি।

- রুনা নাথ

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.