বীজ - ওলের চাষ - লাভ জনক এক ব্যবসা

Tuesday, 15 May 2018 11:48 AM

বীজ - ওলের চাষ - লাভ জনক এক ব্যবসা

                  

 

কেন চাষ করব ?

ওল চাষ লটারির মত লাভ জনক হলেও মরশুমে  উন্নত জাতের  ও মানের বীজ- ওল আজও দুর্লভ। চাষিরা লাভের আশা করলেও স্থানীয়,  অনুন্নত আর রোগাক্রান্ত  ওল থেকেই কেটে  বীজ - ওল বানিয়ে চাষে বাধ্য হন। ফলে  যে লাভ পাবার কথা, তা হয় না। অথচ আলুর ভালো  বীজের মতোই  - 

  • ভালো জাতের ওলের চাহিদা থাকে তুঙ্গে ।
  • বীজ- ওলের ওজনের জন্য চাষিরা কাছাকাছি  জায়গায়  সহজলভ্যতা চান। এতে পরিবহন খরচও বাঁচে ।
  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাতে গোনা কয়েকটি সরকারী / বেসরকারী কৃষিকেন্দ্র ছাড়া, উন্নত জাত পাওয়া  যায়  না।
  • বড় ওল থেকে কেটে বীজওল করার চেয়ে ৮০০ গ্রাম - ১ কেজি গোটা ওল বীজ ওল হিসেবে  ২৫-৩০% বেশী ফলন দেয়। প্রতি ওলে সম্পূর্ণ  মূখী থাকে ।
  • কাটাকাটির ফলে ছত্রাক আক্রমণের আশঙ্কা থাকে ফলে, ওল চাষের সঙ্গে উন্নত জাতের বীজ ওল চাষ করলে চাহিদার নিয়মে সহজেই এটি ব্যবসার উপায় হবে।

 

সাধারণ ওল আর বীজ ওলে পার্থক্য  -

বাজারে সবজি হিসাবে বিক্রীত ওল এক একটি  ৭/১0 - ১৫/২০ কেজি হয়। সাধারণ চাষিরা  চাষ করতে একেই মুখি রেখে  ৫০০ গ্রামের মত কেটে লাগান। আর বীজ ওল হল ছোট আকারের (১০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি) সম্পূর্ণ মূখী সমেত গোটা এক একটি ওল  যার প্রত্যেকটি থেকে ১০০% গাছের নিশ্চয়তা।

কিভাবে চাষ?

বীজ ওল চাষে উৎসাহী চাষিরা একবার কষ্ট করে এক কুইন্টাল ভালো জাতের ওল (কাভুর বা বিধান কুসুম ) নির্ভরযোগ্য কৃষি কেন্দ্র / বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনে নিলেই এক বিঘার ওল বীজ তৈরী করতে পারবেন। মাঘ ফাল্গুনে আনা বড় ওল উপর নিচে আড়া আড়ি চার ভাগে কেটে উপর ও নিচের ফালি থেকে ১০০-১৫০ গ্রামের ছোট টুকরো করতে হবে। গোবর গোলা জলে (বা শুধু জলে) লিটার প্রতি ৩ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম + ম্যানকোজেবের মিশ্র ছত্রাক নাশকের দ্রবনে ওলের টুকরো ১৫/২০ মিনিট ভিজিয়ে ছায়াতে শুকিয়ে দেড় ফুটের ব্যবধানে এক ফুটের ছোট গর্ত করে প্রতি গর্তে শুকনো গোবর সারের সঙ্গে ২৫ গ্রাম নিম দানা (নিম উর্জা ইত্যাদি) ও ৫০ গ্রাম হিউমিক অ্যাসিড দানা (হিউম্যাক্স, বায়োজাইম ইত্যাদি) দিয়ে মুখি উপরের দিকে করে বসাতে  হবে। মাথার কাটা অংশ থেকে মাসখানেক ও নিচের কাটা অংশ থেকে দেড়-দুমাসে গাছ বেরোবে। এসময়ে সেচের যত্নের ঘন করে লাগানো ওলের জমি  আগাছা মুক্ত রাখুন। মূল মোটা গাছের পাশ থেকে বেরোনো ডগা শাক হিসেবে বিক্রি করে আয়ও করতে পারেন। টুকরো ওল বসানোর ২/৩/৪ মাসে গোড়ায়, মাটি তুলে  নিকাশী ঠিক রেখে এক চামচ ইউরিয়া + এক চামচ ১০:২৬:২৬ সার + এক চামচ হিউমিক / বায়োদানা দিন। আশ্বিনের শেষ থেকে কার্তিকে গাছ শুকিয়ে এলে কেজি খানেকের মত, গোটা ওল তুলে কিছু দিন রোদ – বাতাস খাইয়ে বসানোর সময়ের মত ছত্রাক নাশকে শোধন করে খড় বিছানো ঘরে একসারিতে রেখে ভালো দামে বিক্রি করুন সবজি ওল। অর্ধেক বিক্রি করে বাকি অর্ধেকে সবজি ও বীজ ওলে আবার বাড়ান। মাত্র এক কুইন্টালে ২৫০০ টাকায় (২৫/-কেজি) ২.৫ কাঠায় লাগিয়ে ৮-১০ কুইন্টাল ফলনে অনায়াসে ২৫-৩০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করতে পারেন। সবজি করুন বা সবজির জন্য বীজ ওল – লাভটা নিজেই হিসাব করুন। পরামর্শে যোগাযোগ ৯৪৭৪৫৭৮৬৭১।

 

রুনা নাথ

 

Share your comments


CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.