'রাক্ষুসে মাছ'-বিপদ কোথায়? 'MFOI, VVIF কিষাণ ভারত যাত্রা' গুজরাটের বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে কৃষকদের সম্মানিত করেছে কাঁচা আম খেলে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ হবে এবং এই সমস্যাগুলো দূর হবে!
Updated on: 22 January, 2021 12:40 AM IST
Mango Tree (Image Source - Google)

এই সময়টি অর্থাৎ পৌষ-মাঘ মাস হল আম, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল বাগানের পুনর্নবীকরণের সময়। পুরোনো ফল বাগানের নানান সমস্যা আছে। যেমন – ফলন কমে যাওয়া, ফলের গুণগত মান হ্রাস পাওয়া ও রোগপোকার (Pest & Disease) উপদ্রব ইত্যাদি। এই সমস্ত সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য বাগানের যত্ন ও পরিচর্যা একান্ত প্রয়োজন।

আম বাগানের পুনর্নবীকরণ প্রযুক্তির সংক্ষেপ বর্ণনা (Brief description of mango orchard renewal technology) –

এই সময় প্রথমে যন্ত্রচালিত হাত করাত দিয়ে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করে দিতে হবে, যাতে পরে সেখান থেকে ডালপালা ও পাতা জন্মাতে পারে। সতর্কতার সাথে ডালপালাগুলি কাটতে হবে যাতে সেখানে চিড় না ধরে।

ডালের কাটা অংশে কপার অক্সিক্লোরাইডের পেষ্ট বানিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। পৌষ থেকে জৈষ্ঠ মাসে ১৫ দিন অন্তর ও আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত ২৫ দিন অন্তর জলসেচ দিতে হবে। ফাল্গুন মাসে সার প্রয়োগ করতে হবে। ৭৩০ গ্রাম নাইট্রোজেন, ৪০০ গ্রাম ফসফরাস,৭৮০ গ্রাম পটাশিয়াম, ১৬০০ গ্রাম নিম কোটেড ইউরিয়া, ২৫০০ গ্রাম সি. সু. ফসফেট, ১২৫০ গ্রাম মিউরেট অফ পটাশ এই সারগুলি দুভাগে ভাগ করে বর্ষার আগে ও পরে প্রয়োগ করতে হবে।

  • বাগানে জৈব সার প্রয়োগ আবশ্যিক। প্রতি বছর ১০০ কেজি জৈব সার ও ১০০ গ্রাম ট্রাইকোডার্মা ভিরিডি ব্যবহারে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়।

  • বর্ষার সময় সুস্থ্য নীরোগ ডালগুলি রেখে অতিরিক্ত ডাল কেটে ফেলতে হবে ও পুনরায় কপার অক্সিক্লোরাইডের পেষ্ট কাটা অংশগুলিতে লাগিয়ে দিতে হবে।

  • দ্বিতীয়বার ডাল কাটার পর ২-৩ ঝুড়ি গোবর সার ও ১.২৫ কেজি ইউরিয়া আবার প্রয়োগ করতে হবে।

  • ফুল আনার জন্য ছাঁটাইয়ের ২০ মাস পর প্যাকোবুট্রাজন হরমোন স্প্রে করা যেতে পারে। তবে এই হরমোন দ্বিতীয়বার প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না।

  • পুনর্নবিকৃত আম গাছের পরিচর্যায় অতিরিক্ত সতর্কতার ও যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ।

আরও পড়ুন - স্মার্ট ফার্মিং - কৃষি কাজে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ছে ফসলের ফলন (Smart Farming)

আমের কিছু রোগ -

পাউডারি মিলডিউ -

পাউডারি মিলডিউ আমের অন্যতম মারাত্মক রোগ। প্রায় সকল প্রজাতিতেই এটি দেখা যায়। রোগের লক্ষণ হল পাতাগুলিতে সাদা পৃষ্ঠের উপর এবং পাউডারের ন্যায় ছত্রাকের বৃদ্ধি। ক্ষতিগ্রস্থ ফুল এবং ফলগুলি প্রাক-পরিপক্কভাবে ঝরে পড়ে। ফুল ফোটার সময় বৃষ্টি হলে বা রাতে আবহাওয়া শীতল হয়ে গেলে এই রোগ বৃদ্ধি পায়।

নিয়ন্ত্রণ:

রোগের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়েটটেবল সালফার ০.২ শতাংশ (২ গ্রাম সালফেক্স / লিটার), ট্রাইডেমার্ফ ও.১ শতাংশ (১ মিলি ক্যালসিন / লিটার) এবং বাভিস্টিন @ ০.১% এর স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রথম স্প্রে মঞ্জরীর আবির্ভাবের সময় করতে হবে।

অ্যানথ্রাকনোজ :

এই রোগটি কচি কান্ড, ফুল এবং ফলের গুরুতর ক্ষতি ঘটায়। এই রোগে পাতার দাগ, শুকনো ডগা, দাগ এবং ফলের পচন দেখা যায়।

নিয়ন্ত্রণ:

রোগাক্রান্ত ডালগুলি কাটা পাতার সাথে ছাঁটাই করতে হবে। ফুল ফোটার সময় ১৫ দিনের ব্যবধানে কার্বেনডাজিরন (বাভিস্টিন 0.১%) এর সাথে দু'বার স্প্রে করে ফুলের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ফোমা ব্লাইট:

রোগের লক্ষণ পুরানো পাতায় লক্ষ্য করা যায়। প্রাথমিকভাবে, হলুদ থেকে হালকা বাদামী বর্ণের দাগ পাতার ল্যামিনার উপর ছড়িয়ে থাকে। রোগ বৃদ্ধির সাথে সাথে তা আরও গাঢ় বর্ণ ধারণ করে। পরবর্তীকালে এই জাতীয় দাগ সংক্রামিত পাতাগুলি সম্পূর্ণরূপে ক্ষয়ে যায়।

নিয়ন্ত্রণ:

বেনোমিল (০.২%) স্প্রে করে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তারপরে ২০ দিনের ব্যবধানে ০.৩% মিলটক্স (কপার অক্সিচ্লোরিড + জিনেব) স্প্রে করতে হবে।

ব্যাকটিরিয়াল ক্যাঙ্কার :

ক্যাঙ্কার ভারতে একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগের ফলে ফল ঝরে যাওয়া (১০-৭০%), ফলন হ্রাস (১০-৮৫%) এবং স্টোরেজ রট (৫-১০০%) হয়। ল্যাংড়া, দশেহরি, আম্রপালী, মল্লিকা এবং তোতাপুরী সহ আমের অনেক বাণিজ্যিক চাষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাতা, শাখা এবং ফলে এই রোগ দেখা যায়। গুরুতর সংক্রমণে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং কচি ফলগুলিতেও দেখা রোগের সংক্রমণ দেখা দেয়।

নিয়ন্ত্রণ:

এই রোগের নিয়ন্ত্রণে স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন (০.০১%) বা অ্যাগ্রিমাইসিন -১০০ (০.০১%) স্প্রে ১০ দিনের ব্যবধানে এবং কার্বেনডাজিম (বাভিস্টিন 0.১%) বা কপার অক্সি ক্লোরাইড (0.৩%) মাসে একবার প্রয়োগ কার্যকর।

আরও পড়ুন - জানুন আমের ফুল ও ফল ঝরে পড়া রোধের জন্য কি কি করণীয়

English Summary: Mango yield is declining? Take care of the garden at this time to increase the yield in this way
Published on: 21 January 2021, 11:49 IST

எங்களுக்கு ஆதரவளியுங்கள்!

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)