
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় পঞ্চায়েত দিবস উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে দেশের পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ এদিন একইসঙ্গে ই-গ্রাম স্বরাজ পোর্টাল এবং স্বমিতভা যোজনার সূচনা করেন তিনি।
করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন৷ ২১দিনের লকডাউন করা হলেও পরে পরিস্থিতি বিচার করে তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যা আগামী ৩মে পর্যন্ত চলবে বলে ঘোষণা করা হয়৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে এই মারণ ভাইরাসের চেন ভাঙার পর্ব৷ এদিনের অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সেই দেশের সমস্ত পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা সারেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি জানান, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে সকলকে, হতে হবে আত্মনির্ভরশীল, আর এই লড়াইয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পঞ্চয়েতগুলি৷
এদিন তিনি ই-গ্রাম স্বরাজ পোর্টাল এবং স্বমিতভা স্কিম লঞ্চ করেন৷ পোর্টালটির জন্য নজর রাখতে হবে egramswaraj.gov.in-এ৷ এর অ্যাপ মোবাইলেও ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে৷ সমাজের উন্নয়নের উদ্দেশ্যেই এই পোর্টাল লঞ্চ করা হয়েছে বলে জানানো হয়৷ সমগ্র দেশে গ্রামগুলিতে যাতে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সহজে উন্নয়ন করা যায় তার জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে৷
তিনি আরও জানান, পঞ্চায়েতগুলি কী কী কাজ করছে, সব থাকবে ই-গ্রাম স্বরাজ অ্যাপে। গ্রামের যে কেউ মোবাইলেই নিজের পঞ্চায়েতের কাজের খুঁটিনাটি দেখে নিতে পারবেন। এর ফলে সেই গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মদক্ষতা বাড়বে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে৷ তাঁর মতে, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রও তত শক্তিশালী হবে। আর তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান নরেন্দ্র মোদী৷

কী এই ই-গ্রাম স্বরাজ পোর্টাল এবং অ্যাপ?
egramswaraj.gov.in পোর্টালে পঞ্চায়েতের তালিকা বিস্তারিত উল্লিখিত থাকবে৷ গ্রাম পঞ্চায়েতি ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান(জিপিডিপি)-এর অধীনে প্রতিটি গ্রামে কাজের পরিকল্পনা থেকে তার বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হবে এই পোর্টালে৷
এর তাৎপর্য কী?
প্রথমত, প্রতিটি গ্রামে কী কী কাজ হচ্ছে, তা কতটা দ্রুত করা সম্ভব তা পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হবে এই পোর্টালের তথ্যের মাধ্যমে৷ দ্বিতীয়ত, কাজের গতিবিধি দেখে কত টাকা প্রয়োজন সেই ধারণাও তৈরি হবে এবং সেই অনুযায়ী তহবিলে টাকা দেওয়া হবে৷ তৃতীয়ত, এই পোর্টালের মাধ্যমে পঞ্চায়েত রাজের সমস্ত কাজ সম্পর্কে সকলেরই সম্য়যক ধারণা তৈরি হবে৷ চতুর্থত, এই পোর্টালে উল্লিখিত তথ্যের মাধ্যমে কাজের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে বলেও আশা করা হচ্ছে৷ পঞ্চমত, গ্রাম স্বরাজ অভিযান প্রকল্পে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এতে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে কাজে লাগানো হবে।
এই অ্যাপে কারা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে?
গ্রামের কাজ সম্পর্কে জানতে যে কেউ এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে৷ পঞ্চায়ের কতটা, কী কাজ করছে করছে, গ্রামের উন্নয়নের অবস্থা কী সে সম্পর্কে এই পোর্টাল বা অ্যাপ থেকেই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে৷
বর্ষা চ্যাটার্জ্জী (barshachatterjee.news@gmail.com)
Share your comments