হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন অতি জনপ্রিয় এক পর্যটন কেন্দ্র রূপেও বিশেষ পরিচিত। সম্প্রতি উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, এখানে জন্ম হচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের, যা কিনা প্রায় অসম্ভব। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কবলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হলেও বলা যেতে পারে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য এই ঝড়ের হাত থেকে মানব সভ্যতাকে রক্ষা করেছে। এই অরণ্য না থাকলে ঝড়ের কারণে আরও অনেক ক্ষতি হত । সুতরাং, এই অরণ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হল, নোনাজলের এই উদ্ভিদ গঙ্গার মিষ্টি জলে কি করে জন্মাচ্ছে?
এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওড়ার শিবপুরের এই বোটানিক্যাল গার্ডেনে গঙ্গার পাড় বরাবর বাইন, ওঁরাও, কৃপাণের মতো ম্যানগ্রোভ অরণ্যের শ্বাসমূল দেখা যাচ্ছে। বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শুরু করে বেলুড় পর্যন্ত গঙ্গার পাড় বরাবর প্রাকৃতিক ভাবেই বেড়ে উঠছে এই ধরণের উদ্ভিদ।
নোনাজলের এই উদ্ভিদ গঙ্গার মিষ্টি জলে জন্মানোর রহস্য উন্মোচনে তৎপর হয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ুর পরিবর্তনই এর প্রধান কারণ। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, সেই নোনাজল সমুদ্র থেকে ১২ কিমি. –এর বেশী দূরত্বে থাকা কলকাতা ও হাওড়া সংলগ্ন গঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় ক্রমশই ঢুকে পড়ছে। ফলে এই সমস্ত এলাকায় গড়ে উঠছে ম্যানগ্রোভ জন্মানোর অনুকূল পরিস্থিতি।
তবে এ নিয়ে বেশ চিন্তিত বিজ্ঞানীরা, কারণ কলকাতার মতো বড়ো শহরের অধিকাংশ মানুষই গঙ্গার জলকেই পানীয় জল রূপে গ্রহণ করেন। সেই জলে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অঘটনের আশঙ্কা থাকে বৈকি।
স্বপ্নম সেন ([email protected])
Share your comments