চাহিদা বাড়ছে লাভজনক গ্রীষ্মের ফুলকপি চাষে, রইলো চাষ পদ্ধতি ও জাতসমূহ

KJ Staff
KJ Staff
Cauliflower (Image Size - Google)
Cauliflower (Image Size - Google)

ফুলকপি শুধু আর এখন শীতের সব্জি নয় | প্রায় সারা বছর বাজারে দেখা মেলে ফুলকপির | সে কারণেই কৃষকরা বেশি ঝুঁকছেন গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে। প্রায় বিগত বছরগুলিতে গরমে ফুলকপির চাষ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে | কৃষকদের মতে, শীতকালে ফুলকপি চাষের খেতে একটা লাভ বা ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায় | তাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

মূলত জুন-আগস্ট মাসে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ হয় | আর সেই সময়, শুরু হয় বাঙালির উৎসব দুর্গাপুজো, কালীপুজো | এই উৎসবে ফুলকপির চাহিদাও থাকে ব্যাপকভাবে | দাম বেশি হলেও কেনার কমতি থাকেনা, আর সেখানেই থাকে লাভের মুখ | গ্রীষ্মে ফুলকপি চাষে () খরচ বিঘা প্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা | শীতকালে ফুলকপি মাঠে পাইকারি হিসাবে বিক্রি হয় ৩ টাকায় | বিঘা প্রতি মোট লাভ দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকা | কিন্তু, গ্রীষ্মকালে কপির দাম পাওয়া যায় গড়ে ৮ টাকা | বিঘায় লাভ দাঁড়ায় ৪৮ হাজার টাকা,ফলত লাভের অঙ্কটা অনেকটাই বেড়ে যায় | তাই, রাজ্যের কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে আগ্রহ বাড়াচ্ছে | জমি উঁচু ও নিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত হলেই গ্রীষ্মকালীন কপি চাষ করা যায়। তাই , জেলার বহু চাষীই এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন ইদানীং |

উপযুক্ত মাটি (Suitable soil) :

ফুলকপি চাষের জন্য সুনিকাশযুক্ত উর্বর দোয়াশ ও এটেল মাটি সবচেয়ে ভালো।  উঁচু জমি যেখানে জল জমে না এবং সারা দিন রোদ পায় এরূপ জায়গা ফুলকপি চাষ ভালো হয় । এই চাষের মাটিতে যত জৈব পদার্থ থাকবে ফলন ততই ভালো হবে। মাটির অম্লমান বা পিএইচ ৬.০-৬.৫ ফুলকপি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় |

বীজের হার (Seed rate) :

এক শতক জমিতে রোপণের জন্য ২ থেকে ২.৫ গ্রাম বীজের চারার প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে একরপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

ফুলকপির চারা তৈরী:

প্রধানত, ফুলকপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার লম্বায় ৩ মিটার ও পাশে ১ মিটার হতে হবে | সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরাঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম এমওপি, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ১৫০ গ্রাম টিএসপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে | এরপর যদি চারা ঠিকমতো না বাড়ে তবে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দিতে হবে |

রোপণ (Plantation) :

বীজ গজানোর প্রায় ১০-১২ দিন পর গজানো চারা দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তর করতে হয়। চারায় ৫-৬টি পাতা হলেই তা রোপণের উপযুক্ত হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করা হয় | সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হয় ৬০ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট এবং প্রতি সারিতে চারার মধ্যে দূরত্ব রাখতে হবে ৪৫ সেন্টিমিটার বা দেড় ফুট।

সার প্রয়োগ (Fertilizer application) :

জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার, পুরো টিএসপি, অর্ধেক এমওপি এবং বোরন সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর সার চারা রোপণের ১ সপ্তাহ আগে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে | এরপর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হবে | ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমওপি ও বোরন সার ৩ কিস্তি -তে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তির সার দিতে হবে চারা রোপণের ৮-১০ দিন পর, দ্বিতীয় কিস্তি সার দিতে হবে চারা রোপণের ৩০ দিন পর এবং শেষ কিস্তির সময় সার দিতে হবে ৫০ দিন পরে | প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সময় প্রতি ১০ লিটার জলে ১০-১৫ গ্রাম বোরিক পাউডার গুলে পাতায় স্পে করে করতে হবে |

আরও পড়ুন - জানুন ব্রাসেল স্প্রাউট বা মিনি বাঁধাকপির চাষাবাদের নিয়ম

রোগ ও প্রতিকার (Diseases management) :

ফুলকপির সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হল মাথা খেকো লেদা পোকা। এর জন্য চাষের জমি সবসময়  পরিষ্কার রাখতে হবে | সাইপারমেথ্রিন ( রিপকট/ কট/রেলোথ্রিন ) ১ মিলি/ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে | এছাড়াও, পাতায় দাগ ও কালো পচা রোগ প্রধান সমস্যা | বোরন সারের ওয়াভবে ফুলে বাদামি দাগ পরে |

নিবন্ধ:- রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - জেনে নিন এপ্রিকট বা খুবানি ফল চাষের বিবরণ

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters