Process of Pointed Gourde Farming: পটল চাষ করে হয়ে উঠুন অর্থবান

Pointed Gourd Farming
Pointed Gourd Farming

সবজির প্রতি ভালোবাসা বাঙালির বরাবরের। নিরামিষের বিভিন্ন পদ বাঙালিরা আমিষের পাশাপাশি চেটেপুটে খায়। নিরামিষ পদ যখন আমিষের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে যায়, তখন তাকে সোনায় সোহাগ বলতে কোনও দ্বিধাই থাকে না। পটল। বাঙালিদের রসনা তৃপ্তির অন্যতম এক সবজি, যেকোনও ভাবে খাওয়া যায় না। পটল চিংড়ি, দই পটল, পটল মোরব্বা অথবা পটলের পুর-- এই সবকটি পদ বাঙালিদের অত্যন্ত আদরের। সবজি হিসাবেও পটল খুব অর্থকরী ফসল। পটলের চাহিদা বাজারে প্রচুর পরিমাণে হওয়ায়, পটল চাষে চাষিরা ভালোই লাভ পান।

পটলের পুষ্টিগুণ প্রচুর হওয়ায়, এই ভীষণ রকমের স্বাস্থ্যসম্মত। গ্রীষ্মকালীন এই সবজি চাষে চাষিরা বহু উপার্জন করতে পারেন। পটল চাষ করে অত্যন্ত বেশি ফলন চাইলে সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন, মালচিং, রোগ ও পোকা-মাকড় দমন এগুলোর দিকে ভালো ভাবে নজর দেওয়া উচিত।

পটল চাষের উপযুক্ত মাটি ও জলবায়ু: (Soil and Climate)

এই চাষ করতে গেলে দো-আঁশ অথবা বেলে দো-আঁশ মাটি সর্বোত্তম। অপেক্ষাকৃত উঁচু বা কম উঁচু জায়গায় এই সবজির চাষ করা উচিত। জল নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন মাটিতে পটল চাষ করা ভালো। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু পটল চাষের জন্য আদর্শ। এই চাষ সূর্যালোক যখন উজ্জ্বল থাকে তখন করলে ভালো। পটল চাষ করার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত চাষের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। 

চাষের সময়:  (Proper time of Cultivation)

পটল চাষের সঠিক সময় অক্টোবর থেকে  নভেম্বর অথবা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস। অক্টোবর মাসের আগেই পটল চাষের জন্য জমি বানানো উচিত। পলিব্যাগে চারা করে জমিতে পুঁতলে পটলের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়।

 

পটল চাষের জমি তৈরী: (Land Preparation)

পটল চাষের জন্য অবশ্যই প্রথমে জমিতে ভালো ভাবে চাষ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে পটল চাষের জন্য তৈরী হয় জমির মাটি ঝুরঝুরে হলে ভালো। পটল চাষ সবসময় বেড পদ্ধতিতে করা ভালো এতে বর্ষায় ক্ষেত সহজে নষ্ট হবে না। সাধারণত একটি বেড ১.০-১.৫ মিটার চওড়া হয়। বেডের মাঝামাঝি ১ মিটার থেকে ১.৫ মিটার বা ২ হাত থেকে ৩ হাত পর পর মাদায় চারা রোপণ করতে হয়। ১  বেড থেকে আর ১  বেডের মাঝে ৭৫ সেমি. নালা রাখতে হবে। মাদা বা পিট তৈরির ক্ষেত্রে, মাদা বা পিটের আকার- দৈর্ঘ্য- ৫০ সেমি. প্রস্থ- ৫০ সেমি. গভীরতা- ৪০ সেমি. নালা- ৭৫ সেমি।

সার প্রয়োগ: (Fertilizer)

পটল চাষ করার সময় প্রত্যেক মাসে ক্ষেতে সার দিতে হবে। ক্ষেতের প্রতি শতকে ৭৫ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৬০ গ্রাম এমওপি সার ক্ষেতের মাটিতে ছিটিয়ে নিয়ে সেচ দেওয়া হলে পটলের মান উন্নত হয় এবং স্বাভাবিক ভাবে ফলনও বাড়ে। পটল চাষ সবসময় মাচায় করা উচিত, এর ফলে পটল মাটির সংস্পর্শে আসে না, এবং এর ফলে রোগের হাত থেকে এই সবজি বেঁচে যায়। বাঁশের তৈরী অনুভূমিক মাচা এবং দড়ি দিয়ে তৈরী অনুভূমিক মাচা পটল চাষের জন্য আদর্শ।

আরও পড়ুন: Post Covid Diet: কোভিডের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে কি খাবেন?

পোকামাকড় ও রোগদমন: (Pest and Disease control)

মাছি পোকা এবং লাল মাকড় পটল চাষের যম হিসাবে বিবেচিত হয়। এই দুই পোকাই পটল ক্ষেতের অত্যন্ত ক্ষতি করতে পারে। বিষটোপ এবং ফেরোমোন প্রয়োগ করে মাছি পোকার হাত থেকে ক্ষেতকে বাঁচানো যায়। লাল মাকড় দমনের অন্যতম উপায়, বেশ কিছুটা নিমবীজ ১০ লিটার জলে ঘন্টা বারো ভিজিয়ে রেখে পাতায় স্প্রে করে ছড়িয়ে দিতে হবে। ওমাইট অথবা টলস্টার কীটনাশক প্রয়োগ করেও এই পোকাগুলিকে দমন করা যায়।

ফসল সংগ্রহ: (Harvest)

ভোর বেলা বা গোধুলী লগ্নে পটল সংগ্রহ করার আদর্শ সময়। পটল কচি অবস্থায় থাকার সময়ই তা সংগ্রহ করে নিলে ভালো। এর ফলে সবজির মানও ভালো থাকে। গাছে ফুল আসার ১০ থেকে ১২ দিনের মাথায় পটল সংগ্রহ করে নেওয়া উচিত।

পটল অত্যন্ত অর্থকরী ফসল হওয়ায়, এই চাষ করে চাষিরা সহজেই মুনাফা অর্জন করে নিতে পারেন। কম বিনিয়োগে অধিক লাভের জন্য পটল চাষ চাষিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি চাষাবাদ।

আরও পড়ুন: Composting Cow Dung: কিভাবে গোবর থেকে জৈব সার বানাবেন? শিখে নিন পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am কৌস্তভ গাঙ্গুলী. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters