Shifting Cultivation: স্থানান্তর কৃষির ভূমিকা ও প্রভাব

Shifting Cultivation
Shifting Cultivation

বিভিন্ন রকমের কৃষিকার্যের সঙ্গে মানুষ জড়িত। বিজ্ঞানের প্রযুক্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে গতি বেড়েছে। কৃষিকার্যের এসেছে নয়া সম্ভাবনা। তবুও মানুষ এখনও পুরোনো কৃষিকার্যের কৌশলগুলি ভুলতে পারেনি। স্থানান্তর কৃষি। এমনই এক প্রাচীন কৌশলের চাষাবাদ পদ্ধতি যেখানে বনাঞ্চলে বসবাসকারী আদিম অধিবাসীগন কোন অঞ্চলের জঙ্গল পুড়িয়ে, জমি পরিষ্কার করে সেই জমির প্রাকৃতিক উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে পরপর দুই তিনবছর ফসল চাষ করার পর সেই স্থান ত্যাগ করে অপর কোন স্থানে একই পদ্ধতিতে জঙ্গল পুড়িয়ে ফসল উৎপাদন করে।  যেহেতু চাষের জমি দুই বছর পরপরই স্থানান্তর করা হয় তাই এই পদ্ধতিকে স্থানান্তর কৃষি নাম দেওয়া হয়েছে। 

এই কৃষি পদ্ধতি ভারত ছাড়াও গোটা পৃথিবী জুড়ে বহুদিন পালন হয়ে আসছে। বিভিন্ন দেশের অরণ্য এবং পার্বত্য অঞ্চলে এই স্থানান্তর কৃষি আজও লক্ষ্য করা যায়।

স্থানান্তর কৃষির বৈশিষ্ট্য (Definition)

পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে দুই তিন বছর বাদে বাদে জঙ্গল পুড়িয়ে আদিম উপজাতিরা এই ভ্রাম্যমান কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলে। আদিম যুগ থেকে এই কৃষি ব্যবস্থা গোটা বিশ্ব জুড়ে চালু রয়েছে। মূলত পাহাড়ি অঞ্চলেই এই স্থানান্তর কৃষি লক্ষ্য করা যায়। জনবসতি থেকে অনেকটা দূরে জঙ্গল কেটে বিক্ষিপ্ত ভাবে এই চাষাবাদ করা হয়। এই চাষাবাদে জমির কোনও পরিচর্যা করতে হয় না। মৃত্তিকার গুণাগুণকে কাজে লাগিয়ে দুই থেকে তিন বছরের জন্য বিভিন্ন খাদ্যশস্য যেমন ধান, গম, বাজরা, জোয়ার ইত্যাদির চাষ করা হয়। জমির মালিকানা কারোর একার অধিকারে থাকে না। জমির অধিকার হয় গোষ্ঠীভিত্তিক। উপজাতি অথবা আদিবাসী শ্রেণীর মানুষেরাই মূলত এই স্থানান্তর কৃষির সঙ্গে যুক্ত।

জেনে নেওয়া যাক আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানান্তর কৃষির বিবিধ নাম-

 

১. ঝুম                            অসম

২. পোনম                        কেরালা

৩. পোড়ু                         অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা

৪. বেওয়ার                       মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৫. মশান                         মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৬. বীরা                           মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৭. পেস্তা                          মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৮. দাহিয়া                         মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়

৯. কুমারী                         পশ্চিমঘাট

১০. ওয়াতরা                      রাজস্থান (দ: পূর্ব)

স্থানান্তর কৃষি পুরোপুরি পরিবেশের উপর নিয়ন্ত্রিত। বনজঙ্গল কেটে পুড়িয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈজ্ঞানিক প্রথায় এই চাষাবাদ হয় বলে পরিবেশে বিভিন্ন রকমের না-বাচক প্রভাব দেখা যায়।

আরও পড়ুন: Turkey Rearing: টার্কি চাষের সহজতম পদ্ধতি

স্থানান্তর কৃষির নেতিবাচক প্রভাব (Negative side of Shifting Cultivation)

১) জঙ্গল ভীষণ রকমের ক্ষতিগ্রস্থ হয় এই কৃষি ব্যবস্থায় 

২) এই বিশেষ কৃষি ব্যবস্থায় ভূমিক্ষয় ও প্রাকৃতিক দূষণ বেড়ে যায়

৩) জঙ্গল কেটে ফেলায় ভূমিক্ষয় বাড়ার সঙ্গে নদীর গভীরতা হ্রাস পায় ফলে বন্যার মতন প্রাকৃতিক দুর্যোগ লক্ষ্য করা যায়।

৪) জঙ্গল দহন করে এই কৃষিব্যবস্থা বারংবার চলে বলে জমির উর্বরতা ক্রমশ কমতে থাকে। এই কারণবশত উর্বর জমি পতিত জমিতে রূপান্তরিত হয়।

৫) স্থানান্তর কৃষিকার্যে ফসলের উৎপাদন কম হওয়ায় অতিরিক্ত ফসল বেঁচে থাকে না ফলে তা বাজারজাত করার কোনও প্রশ্নই থাকে না। বাজারে বিক্রি না করতে পারার কারণে, অতিরিক্ত অর্থাগমও ঘটে না।

আরও পড়ুন: Peace Lily Farming: ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে রাখুন পিস লিলির গাছ

Like this article?

Hey! I am কৌস্তভ গাঙ্গুলী. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters