সাদা বাটন মাশরুমের সাহায্যে উপার্জন করুন লক্ষাধিক

Friday, 25 October 2019 09:27 PM

বর্তমানে কৃষকরা ছোট ব্যবসা শুরু করতে এবং তার থেকে ভালো ফলন পেতে পারেন। বিগত কয়েক বছরে, কৃষিক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং এর সাথে সাথে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তিও বিকাশ করা হচ্ছে। সুতরাং, লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে ইচ্ছুক কৃষকরা সাদা বাটন মাশরুম চাষ করতে পারেন। সাদা বাটন মাশরুম খুব উপকারী বলে প্রমাণিত। ভারতের সাধারণ মানুষ সাদা বাটন মাশরুম পছন্দ করেন।

সাদা বাটন মাশরুম এমন একটি বৈচিত্র্যময় জিনিস, যাতে মিনারেল এবং ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর চাষের জন্য খুব বেশি জায়গার দরকার নেই। বর্তমানে, এই মাশরুমগুলি খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এভাবে আপনি সাদা বাটন মাশরুম চাষ করে খুব সহজেই প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ভারতে বাটন মাশরুম জন্মানোর উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। প্রথমদিকে ২২ থেকে ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা এর ভালো ফলনের জন্য প্রয়োজন। এই তাপমাত্রায় এটি বেশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, এরপর ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা এর জন্য  উপযুক্ত। ১৮ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা এই মাশরুমগুলির জন্য ক্ষতিকারক। বাটন মাশরুম চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কম্পোস্ট সার প্রয়োজন। এই প্রস্তুত কম্পোস্ট সারকে কাঠের বাক্সে বা ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি পুরু জারে ছড়িয়ে দিন। কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করার জন্য আপনি ধানের খড় ব্যবহার করতে পারেন। ধানের খড় ভিজিয়ে রেখে ডিএপি, ইউরিয়া, পটাশ, গম, ব্রান, জিপসাম, ক্যালসিয়ামের সাথে মিশ্রিত করে পচাতে হবে। এই মিশ্রণটি প্রায় ৩০ দিনের জন্য রাখতে হবে। ১৫ দিন পর এতে নিম কেক, বেকিং গুড় এবং গুড় মিশিয়ে নিন। একমাস পর বাভাসিনিন এবং ফর্মালিন স্প্রে করার পরে এটিকে তার্পল দিয়ে ৬ ঘন্টা রাখুন। এইভাবে তাজা কম্পোস্ট প্রস্তুত করা যাবে।

মাশরুমের খুম্বি মাটিতে রোপণের ১৫-২০ দিন পরে,  কম্পোস্ট এতে প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি বোতামের আকারে বৃদ্ধি পায়। খুম্বিটির ক্যাপটি শক্ত হয়ে গেলে এবং এর নীচে ঝিল্লি সম্পূর্ণ রূপ ধারণ করলে, এটি সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এরপর হালকাভাবে খুম্বিটি পৃষ্ঠদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। তবে উন্নত ফলনের জন্যে খুম্বি টাটকা ব্যবহার করাই ভাল।

পলিথিন ব্যাগ মাশরুম চাষ বিক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। সাদা বর্ণের মাশরুমের চাহিদা বেশি। বোতাম খুম্বির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১০০-১২৫ টাকা। এখন প্রায় সকল মরসুমেই এর ব্যাপক চাহিদা। তাই এটির চাষ করলে এখন কৃষক সহজেই লাভবান হতে পারবেন।

স্বপ্নম সেন (Swapnam@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.