জৈব কৃষির একটি সহজ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা তরল সার (Organic Farming)

Wednesday, 03 February 2021 07:40 PM
Organic Farming (Image Credit - Google)

Organic Farming (Image Credit - Google)

জৈব উপায়ে (Organic Farming) উৎপাদিত ফসলে রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয়। রাসায়নিক সার প্রয়োগে গাছ রোগ পোকা প্রবণ হয়ে পড়ে। দেশজ ফসল, মিশ্র ফসল ও সাথী ফসল থাকা ও জৈব সার প্রয়োগের জন্য রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয়। রাসায়নিক কৃষিতে এই বিষয়ের উপর কোন নজর দেওয়া হয় না। রোগ পোকার আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত রোগ ও পোকার অংশটি তুলে ফেলে দিতে হবে। সময়ের ফসল সময়ে লাগাতে হবে। যেমন গ্রীষ্মকালে লাগানো মূলত শীতকালীন ফসল বাঁধাকপি ও ফুলকপিতে ব্যাপক রোগ ও পোকার আক্রমণ হয়। কৃষক বেশী লাভ পাওয়ার জন্য বেশী কীটনাশক স্প্রে করেন। আবার শীতকালে বেগুনে পোকা কম হয়।

রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ (Pest & Disease Management) – 

মাটির উপকারী ছত্রাক ট্রাইকোডারমা ভিরিডি উদ্ভিদ রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ক্ষতিকর ছত্রাককে আক্রমণ করে। বাজারে টিভি নামে প্রচলিত এই ছত্রাক উদ্ভিদের রোগের জন্য স্প্রে করা হয়। মাটিতে পাওয়া এক জীবানু ব্যসিলাস থুরিনজিয়েনসিস-এর স্পোর বানিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে বিটি নামে। পিসিলিমাইসেস নামক মাটিতে বসবাসকারী ছত্রাক মাটির কৃমি নিমাটোড প্রতিহত করতে সাহায্য করে। শীতকালে (সর্ব্বোচ্চ ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়) বিভিন্ন সবজি লেদা পোকার জন্য স্প্রে করা হয়। ওই স্পোর লেদা পোকার পাকস্থলীতে প্রবেশ করার পর পাকস্থলী নষ্ট করে দেয় , পোকার আক্রমণ কমে।

একটি ৩০-৪০ লিটার জল ধরবে এই রকম একটি মাটির জ্বালায় ২ কেজি গোবর, ৪ লিটার গোচনা, ২০০ গ্রাম করে কুচো করা আতা, বাসক, নিসিন্দা ও ভাট পাতা, ২০০ গ্রাম করে টক দই, চিটে গুড় ও ব্যসন দিয়ে জল ভরে দিতে হবে। উপরে সরা চাপা দিয়ে রাখতে হবে এবং রোজ দু-এক বার করে নাড়তে হবে যাতে বাতাস চলাচল ভালো হয়। এক মাস পর গন্ধ কমে গেলে ওই তরল সার বালতি বা অন্য পাত্রে স্থানান্তরিত করে শেষবার ধান জমিতে চাষ করার পর ছিটিয়ে দিতে হবে। তিনটি জ্বালা রাখতে হবে এক বিঘা জমির জন্য, ১৫-২০ দিন অন্তর ছেটাতে হবে। এক রাত ধরে কাপড়ের ঝুলিতে ছেঁকে নিয়ে এক ভাগ ছাঁকা তরল সারের সঙ্গে ৩ ভাগ জল মিশিয়ে সবজিতে স্প্রে করলে অনুরুপ ফল পাওয়া যাবে।

  • দয়ে পোকা, মাকড় ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রনের জন্য বরফ ঠান্ডা জল বা ১০০ গ্রাম এরারুটের আঠা বা ১০০ গ্রাম এটেল মাটি ১০ লিটার ঠান্ডা জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

  • বেগুন ও টমাটোর ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য ৫০ গ্রাম রসুন, ৩০ মিলি কেরোসিন তেলে থেতো করে একরাত ভিজিয়ে রাখতে হবে, ছেঁকে নিয়ে ২০ লিটার জলে সামান্য সাবান (৫-৭ গ্রাম)গুলে স্প্রে করতে হবে। তামাক পাতা ভেজানো জল স্প্রে করলে অনেক পোকা কম থাকে।

  • সিট্রোনেলা তেল ৩ মিলি এক লিটার জলে গুলে স্প্রে করলে ধানের গন্ধি পোকা কম হয়।

  • ১০ লিটার জলে এক কেজি গোবর গুলে (ছেকে নিয়ে) তার সঙ্গে ২ লিটার গোচনা মিশিয়ে ধানে ও অন্যান্য ফসলে স্প্রে করলে রোগ পোকা কমে ও বৃদ্ধি ভালো হয়। এর দ্বারা ধানের গন্ধি পোকা কমে। এক কেজি কেঁচো সার ১০ লিটার জলে গুলে নিয়ে ভালো করে ছেঁকে নিয়ে স্প্রে করলে গাছের রোগ পোকা কম হয় ও বৃদ্ধি ভালো হয়।

আরও পড়ুন - কম খরচে আলু চাষ করে আয় করুন দ্বিগুণ (Potato Cultivation At Low Cost)

৩০ মিলি বাদাম পাতার রস ১০ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করলে বাদাম ছাড়া অন্য ফসলের অনেক রোগ কমে যায়। রোগ পোকা নিয়ন্ত্রনের জন্য এই ধরনের অনেক দেশজ পদ্ধতি আছে। এই সব পদ্ধতি হাইব্রিড বা আধুনিক জাতের জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে। মাঠে ইঁদুর দেখা দিলেই ইঁদুর নিয়ন্ত্রনের জন্য ইঁদুর কল ফাঁদ, বাঁশের তৈরী বিশেষ ফাঁদের ব্যবহার। পটল মূলের রসে/ঢোল কলমির পাতার রসে ভেজানো গম বীজ ইঁদুরের গর্তে ছড়িয়ে দেওয়া। আলকুশির বীজের উপরের রোঁয়া ইঁদুরের গর্তের মুখে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইঁদুরের শরীরে ওই রোঁয়া লাগলে ইঁদুরের অস্বস্তি হয়, ওই জায়গা ছেড়ে পালায়। এক ভাগ সিমেন্টের সঙ্গে তিন ভাগ আটা মিশিয়ে (শুকনো অবস্থায়) কাগজের উপর জমিতে রেখে দিতে হবে। পাকস্থলীতে ওই মিশ্রণ জমাট বেঁধে মৃত্যু ঘটায়। ইঁদুরের গর্তে শুকনো লংকার ধোঁয়া দিলে পালিয়ে যায়। এই ধরনের বহু দেশজ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা আছে।

প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় মাকড়সার মত মাংসাশী পোকা ফসল আক্রমণকারী নিরামিষাশী পোকা ধ্বংস করে। কিছু পোকা শত্রু পোকার শরীরে ডিম পাড়ে। এর ফলে শত্রু পোকার সংখ্যা কমতে থাকে। জৈব কৃষির উদ্দ্যেশ্য হল প্রাকৃতিক খাদ্য খাদক সম্পর্ককে স্বাভাবিক রাখা তা হলেই ফসল সুরক্ষিত থাকবে।

আরও পড়ুন - মৎস্য চাষিদের জন্য ৫০ শতাংশ অনুদান দিচ্ছে সরকার, দেখুন আবেদন পদ্ধতি (50 percent subsidy for fish farmers)

English Summary: Liquid fertilizer is a simple control system of organic farming

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.