ধান গাছের উফরা রোগ ও শিকড়ে গাঁট সৃষ্টিকারী নিমাটোড ও তার প্রতিকার

Monday, 27 August 2018 01:48 PM

নিমাটোড হল একধরনের পরজীবী কৃমি জাতীয় প্রাণী। এদের আক্রমণে ফলন অনেক কমে যায়। কৃষকেরা রোগপোকা দমনের জন্য কীটনাশক দেন কিন্তু নিমাটোড দমন করার কথা ভাবেন না। কারণ অনেকেই বুঝতে পারেননা নিমাটোডের আক্রমণ হয়েছে। কিছু কিছু লক্ষণ দেখলে সহজেই বোঝা যায় নিমাটোডের আক্রমণ হয়েছে, যেমন –

ধান গাছের উফরা রোগ ডাইটিলেনকাস অ্যাংগুসটাস নামক পরজীবী নিমাটোডের আক্রমণে হয়। এরা ধান গাছের কান্ডে আক্রমণ করে। আক্রান্ত অংশের কোষগুলি স্ফীত হয়ে পড়ে। ধানের পাতা দড়ির মত হয়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, গাছ ঝিমিয়ে পড়ে, থোর বের হয় না বা শিষ বেঁকে যায়, ফলন অনেক কমে যায়, কান্ডের ওপরের অংশে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।

শিকড়ে গাঁট সৃষ্টিকারী (Melodogyme graminicola) নিমাটোডের আক্রমণে শিকড়ের মাঝে মাঝে ফুলে ওঠে ও গাঁট তৈরী হয়। পাতার ডগা শুকিয়ে আসে, গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয় ও পাশকাঠির সংখ্যা কমে যায়।

প্রতিকার :

  1. গ্রীষ্মকালে চাষ দিয়ে জমি ফেলে রেখে ভালো করে রোদ খাওয়াতে হবে।
  2. জমি চাষ দেওয়ার আগে ধানের গোড়াগুলি পুড়িয়ে ফেলা উচিত।
  3. চাষ শুরু করার সময় জৈব সারের সঙ্গে বিঘা প্রতি ২ কেজি প্যাসিলোমাইসিস লিনাসিসাস জৈব নিমাটোডনাশক জমির চাষের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
  4. শস্য পর্যায়ে পাট বা গাঁদা ফুলের চাষ অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
  5. বীজতলা ও মূল জমিতে কার্বোফিউরান ১ – ২ কেজি প্রতি একর জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
  6. বীজ শোধন করে বীজতলায় বীজ বোনা ও চারা শোধন করে চারা রোয়া উচিত।
  7. নিমখোল ১০০ কেজি প্রতি একর জমিতে প্রয়োগ।
  8. জমিতে সঠিক মাত্রায় N P K সার প্রয়োগ ।
  9. প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা উচিত।

 - রুনা নাথ

English Summary: Nematode

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.