কৃষক নন তবুও তিনি কৃষক

KJ Staff
KJ Staff

কলকাতা শহরের আনাচে কানাচে কত কৃষি প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে এবং সঠিক মূল্যায়নের অভাবে তা নষ্ট হতে চলেছে। এমনই এক প্রতিভার খোঁজে আজ গিয়েছিলাম কলকাতা শহরতলির খড়দহতে শ্রী পল্লব কর্মকারের কাছে, তিনি পেশায় একজন কেবল অপারেটর হলেও কৃষির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। বি.এসসি নিয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করবার পর তিনি কৃষি ও পশুপালন নিয়ে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোর্স করে ফেলেছেন বিগত কয়েক বছরে, যেমন- এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট থেকে হর্টিকালচার ও ফ্লোরিকালচার ট্রেনিং নিয়েছেন, আই সি এ আর (রহড়া) থেকে ফ্রেস ওয়াটার অ্যাকোয়া কালচার এর কোর্স করে শংসাপত্রপ্রাপ্ত হয়েছেন, এছাড়া কল্যাণী ইউনিভার্সিটি থেকে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রস্তুতের ট্রেনিং নিয়েছেন, ফিসারি ম্যানেজমেন্ট ও ফিস ব্রিডিং এর উপর ট্রেনিং নিয়েছেন, ডাইরেক্টরেট অব অ্যানিমেল রিসোর্স এন্ড অ্যানিমেল হেলথ (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) থেকে শিপ ও গোটারী সায়েন্স এর উপড় একটি কোর্স করেছেন, দি এগ্রি-হর্টিকালচার সোসাইটি অব ইন্ডিয়া থেকে বনসাই এর উপর একটি বিশেষ কোর্স করেন, এবং মাইক্রো স্মল মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের একটি কর্মশালায় যোগদান করে প্যাকেজিং সম্পর্কেও বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ তিনি চাষি না হয়েও কৃষির প্রতি ভালোবাসা ও বিজিগীষার জন্য তিনি যখনই কোনো কৃষি সম্পর্কিত শিক্ষা শিবিরের খোঁজ পেয়েছেন সেখানেই যোগদান করেছেন এবং সম্পূর্ণ শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি শংসাপত্রও হাতে নিয়েছেন। অত্যন্ত সরল মনের মানুষ পল্লব বাবু বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ কমিউনিকেশন এন্ড সার্ভিসেস সেন্টারের সাথে যুক্ত আছেন এবং তিনি ইকো-প্রিনিউরশিপ নিয়ে একটি কোর্স করে শংসিত হয়েছেন।

সত্যই অবাক লাগে একজন মানুষ কৃষক না হলেও কৃষির প্রতি কতখানি মজ্জাগত হলে এত বিষয় নিয়ে রীতিমত চর্চা করেছেন, তিনি কৃষির প্রায় সব বিন্দুকেই স্পর্শ করেছেন, কৃষি অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন। এখন তিনি কলকাতা শহরের ইট কাঠ পাথরে তৈরি মনুষ্য হৃদয়গুলিকে দিতে চাইছেন মাটির সরল ছোঁয়া। ব্যস্ত হয়েছেন আর্বান-গার্ডেনিং এর কাজে। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তিনি রীতিমত ওয়ার্কশপ করেছেন মানুষের মধ্যে একটু উদ্ভিদ প্রেম জাগরিত করবার জন্য। তাঁর কথায় কলকাতা শহরে মানুষের মধ্যে গার্ডেনিং এর মানসিকতা থাকলেও রয়েছে মাটির অভাব। তিনি চান মানুষকে একটি প্রস্তুত মাটি প্রদান করতে। এর জন্য উনি একটি গবেষণা করে তৈরি করেছেন পটার মিক্সচার যেটি একটি রেডি টু ইউস পদার্থ। নিমখোল, দোআঁশ মাটি, ভার্মিকম্পোস্ট, কোকো-পিট সঠিক ও নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে তৈরি করেছেন এই পটার মিক্সচার। এখন তিনি আরেকটি বিষয় নিয়ে একটু বাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনা চালু করছেন সেটি হল একধরণের ব্যাগ যা কিনা আর্বান-গার্ডেনে ব্যবহার হয় খুব বেশী। ছাদে অনেকেই ভারি টব রাখতে চান না তাঁরা এই ধরণের ব্যাগ পছন্দ করেন খুব বেশি, তাছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি এই ধরণের ব্যাগ সরবরাহ করতে ইচ্ছুক। সুতরাং উনি পরিশ্রমের শেষ সীমা পর্যন্ত যেতে পারেন যদি শহরের মানুষ একটু নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করার ভাবনা চিন্তা করেন।

পল্লব বাবুর আক্ষেপ রয়েছে আমাদের বঙ্গীয় কৃষি ও কৃষকের প্রতি। তাঁর কথায় কৃষকরা সহজে নতুন কোনো ফসলের নিরীক্ষণ করতে চান না, তাঁরা ঐ এক মান্ধাতা আমলের কৃষির প্রতি নির্ভরশীল, তাঁরা যদি একটু বিষয়টিকে নিয়ে ভাবতো তাহলে আজ প্রতিটা কৃষক তাঁর ফসলের থেকে ভালো উপার্জন পেত। বাংলায় এখন অনেক লাভজনক ফসল চাষের মতো পরিবেশ ও পরিস্থিতি রয়েছে, সরকারি সহায়তা রয়েছে, কিন্তু কৃষকের এই সমস্ত বিষয়ে জানকারি নেই। লাভজনক ফসল চাষ করে লাভবান হতে হলে কৃষকদের একটু অন্যরকম চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আধুনিক কৃষকরা অনেকেই জৈব চাষ নিয়ে ওয়াকিবহাল নয়।

পল্লব বাবু বলেছেন তাঁর ভবিষ্যৎ ইচ্ছার কথা। তিনি বলেছেন কৃষি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান রয়েছে প্রচুর, অভাব শুধু জমির। তাঁর ইচ্ছা ভবিষ্যতে তিনি কিছু জমি ইজারা নিয়ে সেখানে স্ট্রবেরী, ঘেরকিন ও আরও বহু অচিরাচরিত ফসল চাষ করবেন যেখানে লাভের সাথে মিলবে মানসিক আনন্দ। তিনি চান বাংলার কৃষক নতুন কিছু ভাবুক, নতুন কিছু উৎপাদন করুক, ও নতুন কিছু আনন্দ উপভোগ করুক।

- প্রদীপ পাল (pradip@krishijagran.com)

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters