বীজ উদ্দীপনা কৌশল

Thursday, 04 July 2019 02:35 PM

বীজ উদ্দীপনা একটি প্রাক বপন কৌশল যার মাধ্যমে বীজের অঙ্কুরদ্গম এবং বীজ বৃদ্ধি সহজ থেকে সহজতর করা যায়।

বীজ উদ্দীপনার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকে, এই কৌশলের উদ্দেশ্য বীজতলার ভলো উত্থান, বীজতলায় চারার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে বীজতলার সময়কালকে ছোট করে আনা এবং বায়বীয় ও জীবক্রিয়া থেকে বীজকে রক্ষা করা।

বীজ উদ্দীপনা কৌশলগুলি নিম্নলিখিতভাবে আলোচনা করা হলো –

  • জলবাহী চিকিৎসা : বীজের অঙ্কুরোদ্গমে যেমন জল, অক্সিজেন এবং উপযুক্ত তাপমাত্রার প্রয়োজন, জলবাহী চিকিৎসায় কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হবে –
  1. বপনের পূর্বে বীজ ভেজানো : এই পদ্ধতিতে বীজগুলিকে জলে ভেজানো হয় যাতে বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার বৃদ্ধি পায়।
  2. জলে ভেজানো বা চোবানো কৌশল : সর্বপ্রথমে বীজগুলিকে ১-২ দিন স্বচ্ছ জলে চোবানো বা ভেজানো হয় এবং তার পর বীজগুলিকে ছেঁকে নিয়ে বপনের আগে শুকিয়ে নেওয়া হয় কোনো ধরনের রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই। এই পদ্ধতি পরিবেশগত ভাবে নিরাপদ, জলে ভেজানো বা চোবানো বীজ উদ্দীপনায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, অঙ্কুরোদ্গমের হার বাড়ায়, চারার গুণগত মান বাড়ায় সর্বোপরি ফলন বাড়াতে সহায়তা করে প্রতিস্থাপিত এবং সরাসরি উভয় প্রকৃতির বীজতলার ক্ষেত্রে।
  3. শক্তকরণ বা কঠোরতা (Hardening) : শক্তকরণ বা কঠোরতাকে ভিজে, শুকনো এবং জলবাহী নির্গমন বোঝায়। এটি ভেজা ও শুকনো এই দুই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি কৌশল। বীজ শক্তকরণের উপকারী প্রভাবগুলি প্রথমিকভাবে ভ্রুণের প্রাক বৃদ্ধি, বায়োকেমিক্যাল এনজাইম অ্যাক্টিভেশন পরিবর্তন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পুরানো বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার বৃদ্ধি করে
  • নিজ খামারে বীজের কৌশল বৃদ্ধি (On farm seed priming) :

এই পদ্ধতির মূল বিষয় হলো ফসলকে কিছু সময় জলে ভেজানো তারপর জল থেকে তুলে খামারের মেঝেতে ফেলে বীজ শুকিয়ে নেওয়া। এই পদ্ধতিকে নিজ খামারে বীজের কৌশল বৃদ্ধি বলে। নিজ খামারে বীজের সতেজ কৌশল পদ্ধতি একটি কমখরচের এবং কম ঝুঁকির পদ্ধতি, পাশাপাশি সবল ও দ্রুত বীজতলার বৃদ্ধি এমনকি প্রতিকূল মাটি, পরিবেশে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের সেরা কৌশল।

  • জল এবং রাসায়নিক মিশ্রণ গত কৌশল (Osmopriming):

এটি জলবাহী চিকিৎসার একটি অন্য রূপ যার সাহায্যে বীজকে ভেজানো হয়দ্রবীভূত রাসায়নিক এবং জলের মিশ্রণে। এর মূখ্য বা প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো উন্নত অঙ্কুরোদ্গম এবং তার সাথে সুস্থ্য সবল চারা তৈরী। এই কৌশল তখনই কার্যকর হবে যখন বীজগুলিকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত্য জলের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা হবে।

  • জলে রাসায়নিক মিশ্রণের সাথে বীজকে শক্ত করা এবং পুনরায় ভেজানো (Osmohardening) : ধানের বীজ উদ্দীপনের জন্য একটি নতুন কৌশল সম্প্রতি সম্প্রসারিত হচ্ছে। এটি উভয় বীজ শক্তকরণ এবং osmoconditioning সফলভাবে সংহত করা হয়। জলে রাসায়নিক মিশ্রণের সাথে বীজকে শক্ত করা এবং পুনরায় ভেজানো উভয় পদ্ধতির জন্য নির্দিষ্ট সময়কাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • মাতৃপ্রাইমিং (Matripriming) : এটি একটি নতুন কৌশল যাতে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা অনুরূপ বীজের মধ্যে জলসংযোজন এবং গুঁড়ো বাহকের মিশ্রণ, উদাহরণ স্বরূপ মৃত্তিকা কণা মিশ্রিত করা হয়।
  • হরমোন ও অন্যান্য উৎস মিশ্রণে বীজের ক্ষমতা বৃদ্ধি : বীজের কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য কিছু উদ্ভিদ বিধির নিয়ন্ত্রক হরমোন এবং উৎস অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বীজের অঙ্কুরোদ্গমের হার বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে সাহায্য করে। উদাহরন স্বরূপ – জিব্বেরেলিক অ্যাসিড, ইউরিয়া, নাফথালিনেসটিসি অ্যাসিড ইত্যাদি।
  • তাপীয় কৌশল : তাপীয় কৌশল মূলত দুটি কারণে করা হয় যার মধ্যে একটি বাহ্যিক এবং একটি অভ্যন্তরীন রোগজীবাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করা হয় যেমন ছত্রাক, ব্যাক্টেরিয়া, বিষাক্ত পদার্থ, কৃমি এবং অপর দিকে বীজের সুপ্ত অবস্থা ভেঙ্গে যায়।
  • বীজ আবরণ কৌশল : বীজ আবরণ কৌশলকে জীবাণু এবং কীটপতঙ্গ থেকে বীজকে রক্ষা করে যার ফলস্বরূপ সঠিক বীজ প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে কিন্তু বীজ আবরণ কৌশল ধানের বীজের অঙ্কুরোদ্গম হ্রাস করে ৪০-৬০ শতাংশ যখন আমরা সুপার ফসফেট, মনো অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা পটাশিয়াম দিয়ে বীজের আবরণ দিয়ে থাকি। বীজ আবরণে রক ফসফেট ব্যবহৃত হলে বীজ ধানের বৃদ্ধি দ্রুত হবে মাটিতে ফসফরাসের অভাব থাকলেও।

লেখক : ড: বেনুকর বিশ্বাস, অধ্যাপক, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুজয় অধিকারী, পি. এইচ. ডি. স্কলার , বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

রুনা নাথ(runa@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.