১০০ কর্পোরেশন স্কুলে নিজেদের উৎপাদিত সবজি দিয়ে চলছে মিড-ডে মিল

Tuesday, 10 July 2018 03:54 PM

শিক্ষাই আয়ের প্রধান উৎস এই নীতির উপড় ভর করে তামিলনাড়ুর একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিভিন্ন কর্পোরেশন স্কুলের ৪০ জন ছাত্রকে নিয়ে চাষবাসের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং তাদের প্রত্যেককে বীজ ও ২৫ টি করে গাছের টব বিতরণ করা হয়েছে। The SHG নামক স্বনির্ভর গোষ্ঠীটি বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকদের নিয়ে একটি চাষবাসের প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলেছেন, যাতে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্ররা তাদের মিড-ডে মিলের জন্য প্রয়োজনীয় শাকসবজি নিজেরাই উৎপাদন করে নিতে পারে।

প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক এই SHG প্রক্রিয়াটির দায়িত্বে থাকবেন। “এই স্বনির্ভর চাষবাসের বিষয়টি ছাত্রদের মধ্যে চাষবাসের গুরুত্ব ও দায়িত্ব বাড়াবে বলে মনে করা হয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের অতিরিক্ত ফসলকে বিক্রয়ও করছে। আমরা এখন থেকে মনে করছি উৎপাদিত ফসলকে বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের কাজে ব্যবহার করতে চাই। যদি আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনে সক্ষম হই, তাহলে ছাত্ররা সেই ফসলকে বাজারে বিক্রয় করতে পারবে, এতে বিদ্যালয় মেরামতির ও প্রয়োজনীয় খরচ উঠে আসবে” একজন শিক্ষক বলেন। একটি National Urban Livelihood Mission এর বিশেষজ্ঞ স্বনির্ভর গোষ্ঠী যারা উঠনে সবজি বাগান তৈরীর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সমস্ত কর্পোরেশন স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের। এই প্রশিক্ষণে শহরের প্রায় ১০০ টি কর্পোরেশন স্কুল বিশেষভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা সবাই এই প্রশিক্ষণ পেতে চায় যাতে তারা নিজেদের তৈরী তরকারি মিড-ডে মিলে ব্যবহার করতে পারে।

“SHG এর সদস্যরা বর্তমানে ৪০ জন ছাত্রকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন যারা সবাই ইকো-ক্লাব ও ন্যাশনাল গ্রীণ কর্প সংস্থার সদস্য। প্রত্যেক ছাত্রদের কিছু বীজ ও ২৫ টি টবসহ চারাগাছ প্রদান করা হবে। তারা এই সব গাছগুলিকে ঐ টবের মধ্যেই বড় করতে পারে অথবা টব থেকে তুলে নিয়ে স্কুলের ভেতরে সামান্য জমির মধ্যেও বড় করতে পারে।“ শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার মাগেশ্বরী রবিকুমার এই কথা বলেন।

একজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা শ্রীরথি বলেন, তারা এই ধরণের টেরেস ফার্মিং মডেল বানিয়েছেন ভুল্লুভার কোট্টাম এর নিকটে অবস্থিত আন্নাই টেরেসা মাগালির ভাজাঘামে, সেখানেও বিভিন্ন স্কুল গুলি এই টেরেস গার্ডেনিং এর মডেল অনুসরণ করছেন। তিনি আরও বলেন যে, সেখানে তারা শিক্ষক ও ছাত্রদের এই ধরণের চাষবাসে প্রশিক্ষিত করে তুলছেন।

বিভিন্ন আধিকারিকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে অনেকদিন ধরেই দেখছি তারা আবর্জনা নিয়ে যাচ্ছে, এখন বোঝা যাচ্ছে তারা বাগান তৈরির কাজে এই সব আবর্জনাকে ব্যবহার করতে চায়। মাগেশ্বরী বলেছেন কিছুদিন তারা এভাবেই শহরের আবর্জনা সংগ্রহ করে কাজ চালাবেন, যতদিন না তাদের কোনো আয় হয়, একবার বাগানের উৎপাদিত ফসল থেকে আয় হতে থাকলে তারা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে চাষাবাদকে ঢেলে সাজাবেন।

বিভিন্ন স্কুলের কাছে বিষয়টি সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন এখন আপাতত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের জন্য উৎপাদন হচ্ছে। তবে কিছু উচ্চতর মাধ্যমিক স্কুলেও এই প্রক্রিয়াকে চালু করা হচ্ছে। আসলে সবটাই চাষবাসের উপযুক্ত জায়গার উপর নির্ভরশীল। একজন প্রক্রিয়া সহায়ক বলেন প্রতিটি স্কুলেই তারা অভিযান চালান কোন স্কুলে এই কাজের জন্য কতখানি জায়গা পাওয়া যায় সেইটি পর্যবেক্ষনের উদ্দেশ্যে, যে সব স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা মিলেছে সেখানেই চাষের কাজ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আধিকারিকদের মতে, এখন থেকেই ছাত্রদের মধ্যে বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও কম্পোস্ট তৈরির ধারণা গড়ে উঠুক, যাতে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্ববান হতে পারে। National Urban Livelihood Mission এর একজন সদস্যা স্নেহলতা বলেন শুধুমাত্র শিক্ষক বা ছাত্ররাই নয় বরং বহু দুঃস্থ মহিলাদেরও তারা এই বিষয়ের উপড় শিক্ষিত করে তুলছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, তারা চায় এই সব মহিলারা প্রশিক্ষিত হয়ে কাজ করুক ও সরকারের পাশে দাঁড়াক। তারা যখনই তাদের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছে, তখনই তারা সাহায্যের হাত বাড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছে।

ইকো-ক্লাবের সদস্য হিসেবে একজন কর্পোরেশনের আধিকারিক বলেন যে, ছাত্ররা প্রায় সবাই এই কাজে খুব আগ্রহের সাথে যুক্ত হয়েছে যারা বিভিন্ন জায়গায় বৃক্ষ রোপণ প্রকল্প, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য ও আবর্জনা পরিষ্কৃতকরণ প্রকল্পের সাথে যুক্ত রয়েছে।   

- প্রদীপ পাল

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.