উল্লম্ব কৃষি (Vertical farming) - খাদ্য সংকট সমাধানের এক নতুন উদ্ভাবনী চিন্তন

Friday, 01 March 2019 03:08 PM
উল্লম্ব কৃষি (Vertical Farming)

উল্লম্ব কৃষি (Vertical Farming)

উল্লম্ব কৃষি (Vertical farming) এমন একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যা আধুনিক কৃষিকার্যকে গ্রামীণ পরিবেশ ও পরিসীমা ছড়িয়ে একটি উন্মুক্ত পরিধি প্রদান করেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে মানুষের পরিবর্তিত মানসিকতা, কৃষির প্রতি আন্তরিকতা ও প্রযুক্তির সুব্যবহার এই নতুন ধরণের কৃষি ভাবনার উদ্ভাবন করেছে। মানুষের একটি সহজাত অভ্যাস হলো নতুন কিছু ভাবনাকে কর্মে পরিণত করা। উল্লম্ব কৃষিও তার মধ্যে একটি সৃজনশীল বিষয়। এই পর্বে এই বিশেষ বিষয়টিকে নিয়ে সবিস্তার আলোচনা রইলো।

উল্লম্ব কৃষি কি?

উল্লম্ব কৃষি হ’ল এমন একটি ব্যবহারিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে অতি অল্প স্থানে অধিক পরিমাণে খাদ্যফসল ও ভেষজ উদ্ভিদকে উৎপাদন করা যায় শুধুমাত্র উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায়। এই কৃষিকে পোষাকি ভাষায় Indoor farming বা অন্দরমহল কৃষিও বলা হয়ে থাকে। কিছু কাঠের বা কংক্রিটের অথবা ধাতব তাককে পর পর উল্লম্বভাবে সাজিয়ে এই কৃষির ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। আসলে এটি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ কৃষি প্রযুক্তি, এখানে কৃষি সহায়ক সমস্ত রকমের পরিবেশ ও বিষয়গুলি (যেমন-আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, গ্যাসসমূহ ইত্যাদি) তৈরি করা যায়। বলা ভালো, একটি কৃত্রিম আবহ সৃষ্টি করা হয়, যেমনটা গ্রীণহাউস-এর ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। এখানে প্রাকৃতিক সূর্যালোকের বদলে কৃত্রিম লাল, নীল তরঙ্গের আলোকে সৃষ্টি করা যেতে পারে। কখনোও কখনোও এক্ষেত্রে ধাতব প্রতিফলক (Metal Reflector)-ও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই কৃত্রিম আলোকে LED (Light Emitting Diods) দ্বারা পরিচালিত করা হয় এবং একটি বিশেষ সফটওয়্যার এর মাধ্যমে সব কটি উদ্ভিদ সঠিক পরিমাণ আলো, জল, ও পুষ্টিদ্রব্য পাচ্ছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। যদি সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কৃষিব্যবস্থাকে পরিচালিত করা হয়, সেক্ষেত্রে কোনোরকম আগাছানাশক বা কীটনাশকের প্রয়োজনীয়তা নেই, অর্থাৎ রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব।

উল্লম্ব কৃষির ইতিহাস

একটি প্রায় শতাধিক বৎসরের পুরানো তৈলচিত্রকে আমেরিকার Life Magazine দ্বারা প্রকাশিত করা হয়েছিলো ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। সেই চিত্রে দেখা গেছে একটি বহুতল অট্টালিকার প্রতিটি তলে কৃত্রিম উপায়ে খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। এই চিত্র থেকেই প্রথম এই ধরণের কৃষি ব্যবস্থার ধারণাটি আসে। পরবর্তীকালে আমেরিকার অপর একটি পত্রিকা Delirious Newyork-Rem Koolhaas তাঁর একটি রচনাতে প্রথম Vertical Farming-এর ধারণা দেন। Rem Koolhaas-এর এই নীতিকে অনুসরণ করে ১৯২২ সালে Immenbles villas ও ১৯৭২ সালে SITE’S Highrise of Homes নামক দুটি অট্টালিকা তৈরি করা হয়েছিলো যেগুলি ১৯০৯ সালের Life Magazine-এ প্রকাশিত শস্যশ্যামল অট্টালিকার মতই ছিলো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯১৫ সালে স্যার গিলবার্ট এলিস বেইলে এই প্রযুক্তির নামকরণ করেন Vertical Farming.

কোথায় Vertical Farming ব্যবস্থাকে প্রচলিত করা যেতে পারে -

Vertical Farming-যেহেতু কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিতে পরিচালিত কৃষি ব্যবস্থা, তাই শহর ও মফঃস্বলেই এর প্রচলন হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রধানতঃ শহর ও মফঃস্বলগুলিকে খাদ্যের জন্য গ্রামীণ উৎপাদনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই Vertical Farming-এর ধারণাটি বর্তমানে কারিগরি দপ্তর দ্বারা প্রচলনের চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। সরকারীভাবে কারিগরি ভবনে একটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সমগ্র বিষয়টিকে একটি প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে যার নাম “গ্রিন সিটি”। শুধুমাত্র কলকাতাই নয়, এই প্রকল্পে মফস্বলগুলিকেও প্রাথমিক সারিতে রাখা হয়েছে

অন্যান্য Indoor Farming-এর সাথে Vertical Farming পদ্ধতির সুবিধাজনক তুলনা -

স্কটল্যান্ডের একটি কোম্পানি Vertical Farming-এর ব্যাপারে খুব যুক্তিপূর্ণ রিপোর্ট পেশ করেছে। তাদের মতে এই কৃষিপ্রযুক্তি সারাবিশ্বের যতরকম অন্দরমহল প্রযুক্তি রয়েছে তাদের মধ্যে সবথেকে উন্নত ও সাবলীল প্রযুক্তি, কারণ এই ধরণের কৃষিপ্রযুক্তিতে কৃত্রিম সুপরিকল্পিত বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয়ে থাকে। এই সংস্থার মতে, এই প্রযুক্তিতে অন্যান্য কৃষিপ্রযুক্তির তুলনায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ খরচ ও ৮০ শতাংশ মজুরি খরচ কম লাগে, এবং সাধারণ গ্রীণহাউসের তুলনায় এই পদ্ধতিতে প্রায় ২০০ শতাংশ ফলন পাওয়া সম্ভব।

Vertical Farming-এর প্রয়োজনীয়তাঃ

গবেষণা বলছে, উন্নত দেশগুলিতে ২০৫০ সালের মধ্যে খাদ্যের উৎপাদনের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে প্রায় ১০০ শতাংশ এর কারণ অবশ্যই বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনবিস্ফোরণ। ২০০৫-২০০৭ সালের একটি রিপোর্ট অনুসারে সমস্ত দেশই তাদের অধিকাংশ জমি কৃষির জন্য প্রায় ব্যবহার করে ফেলেছে, উদাহরণ স্বরূপ ইংল্যান্ডের কথা বলা যেতে পারে, ব্রিটিশরা তাদের দেশের মোট কৃষিজমির ৭২ শতাংশই প্রায় ব্যবহার করে ফেলেছে এবং তারা তাদের উৎপাদিত ফসলের ভোগের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে পেরেছে, এর জন্য তাদের যদি ৭০ শতাংশ ফসল বেশী উৎপাদন করতে হয় তবে রপ্তানির পরিমাণ হতে হবে ১৪০ শতাংশ (বর্তমান হিসাব অনুসারে)। এই অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ ফসল উৎপাদন করতে হলে এই দেশের কৃষির জন্য বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার করতেই হবে। Sir Dickson Despommier-এর রচিত ২০১০ সালের একটি বই “The Vertical Farming; Feeding the world in the 21st century” থেকে একটি বিষয় আঁচ করা গেছে যে vertical farming ব্যবস্থা আদতে একটি শহুরে কৃষির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যার অনুসরণ করে বর্তমান বিশ্বে শহুরে বাড়িঘরের নির্মাণ কার্য চলছে। বাড়ির নির্মাতা ও ভাস্করাও নিজেদের সেইভাবে তৈরি করেছেন। আমাদের দেশে বিভিন্ন শহরাঞ্চলে কম শতাংশের হলেও মানুষের মধ্যে এই ধরণের কৃষিতে ঝোঁক বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা বাড়ালে হয়তো বহু মানুষ-ই নিজের থেকেই এই কাজে নিজেদেরকে নিযুক্ত করতে সক্ষম হবেন।

Vertical Farming-এর সুবিধা

Vertical Farming-কে বিজ্ঞানীমহলের তরফ থেকে কেন বেশী সুবিধাজনক বলা হচ্ছে, তার কারণ সমূহ-

* এই ধরণের কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বৎসর গৃহস্থালিনভাবে প্রয়োজনীয় ফসলকে উৎপাদন করা যায়।

* কৃষিকার্য সম্পর্কীত যে সমস্ত অভাব বা অসুবিধাসমূহ রয়েছে সেগুলির সম্মুখীন খুব বেশী হতে হয় না।

* জ্বালানীর ব্যবহার সবথেকে কম হয় (উল্লেখ্য-গ্রামীণ কৃষিতে কৃষি-যন্ত্রাদি ও পরিবহন কার্যে অনেক বেশী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হয়ে থাকে)

* এই কৃষিতে বাড়ির অপ্রয়োজনীয় ও অব্যবহৃত বস্তুসমূহকে ভালোভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

* এই ধরণের কৃষি বাড়ির অন্দরমহলে সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয় বলে কীট আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে শস্যহানির কোনো সম্ভাবনা নেই।

* vertical farming এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলে বা তৎসংলগ্ন এলাকায় কৃষির প্রবহমানতা সৃষ্টি করা যায়।

* এই পদ্ধতিতে জলের অপচয় অনেক কম হয় কারণ কৃষিতে অব্যবহৃত জল স্তরে স্তরে ফিল্ট্রেশন হবার কারণে পানীয় জলে পরিণত হয়।

* অব্যবহৃত শস্যাংশকে পচিয়ে মিথেন গ্যাসে পরিণত করা যায়, যাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানীর চাহিদা পূরণ হতে পারে।

* শহরে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

* শস্যের সংক্রামক ব্যাধি হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

Vertical Farming-এর সাহায্যে কি কি উৎপাদন করা যায় -

Vertical Farming-এর সাহায্যে বর্তমানে অনেক ধরণের ফসল চাষ করা সম্ভব হয়েছে, এর মধ্যে সবুজ সবজি, মাঝারি মানের ফসল, এমন কি বড় মানের ফসলও চাষ করা হচ্ছে। ছোট ফসলের মধ্যে লেটুস, ব্রকলি, কন্দজাতীয় ফসল, অ্যামার‍্যান্থাস ইত্যাদি; মাঝারি মানের ফসলের মধ্যে বাধাকপি, ফুলকপি, টম্যাটো, বেগুণ ইত্যাদি এবং বড় মানের ফসলের মধ্যে ভুট্টা, শোরগম ইত্যাদি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। তবে ভারতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার তেমনভাবে প্রচলিত না হলেও সবুজ শাকসবজি উৎপাদন করা হচ্ছে অর্থাৎ মানুষের মধ্যে Vertical farming-এর ঝোঁক বৃদ্ধি করতে হলে আগে উপযুক্ত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বাড়াতে হবে। ভারতের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে শীতলীকরণ ও অনার্দ্রকরণ খরচ অত্যন্ত বেশী হবার কারণে এখানে বড় ও মাঝারি মানের ফসলের উৎপাদন সম্ভব নয়।

কতপ্রকারের Vertical Farming হয় - 

আধুনিক বিশ্বে প্রায় ১৩ রকম উপায়ে Vertical farming করা হয় এবং প্রতিটি উপায় প্রযুক্তিগতভাবে এতটাই উন্নত যা কৃষিতে বিপ্লব আনার পক্ষে যথেষ্ট। এদের মধ্যে থেকে কয়েকটি পদ্ধতির ব্যাপারে সামান্য আলোচনা রইলো

হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics)

Hydroponics হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাকে vertical farming-এর একটি মূল অংশ বলা যেতে পারে। অত্যন্ত ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থাটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই পদ্ধতিতে মাটির বদলে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদ্রব্যের মিশ্রণের মধ্যে উদ্ভিদমূল নিমজ্জিত থাকে, এক্ষেত্রে পুষ্টিমৌলগুলিকে সঠিক অনুপাতে মেশাতে হবে।

অ্যারোপোনিক (Aeroponics)

১৯৯০ সালে এই প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিলো NASA-র দ্বারা যখন তারা মহাকাশে ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছিলো। সেই সময় থেকে এই প্রযুক্তির নামকরণ হয় Aeroponics অর্থাৎ উদ্ভিদকে বিনা মেদিনীতে ও স্বল্পজলে উৎপাদন করা। যদিও প্রক্রিয়াটি এখনো পরীক্ষাধীন রয়েছে।

অ্যাকোয়াপনিক্স (Aquaponics)

অ্যাকোয়াপনিক্স প্রযুক্তি অনেকটাই হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তির সমগোত্রীয় তবে একটু উন্নতমানের, এর মাধ্যমে জলজ পরিবেশে উদ্ভিদ ও মাছ উভয় উৎপাদনই সম্ভবপর। এক্ষেত্রে জলজ বাস্তুতন্ত্র একটি আলাদা মাত্রা পায়।

লকাল (Lokal)

IKEA-এর The Space 10-এর ল্যাবরেটরিতে এই লকাল পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছিলো। লকাল পদ্ধতির ভাস্কর বলেছেন যে, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্য সাধারণ প্রথাগত বাগানে উৎপাদিত বস্তুর তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় বাড়িতে উৎপাদিত খাদ্য ফসলকে বাড়িতেই ব্যবহার করা যায়।

স্কাইগ্রীণ (Skygreen)

এই পদ্ধতিতে Vertical Farming ব্যবস্থা চালু করে সিঙ্গাপুরের Skygreen নামক কোম্পানি, যা এই উল্লম্ব কৃষির ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিলো। এটিই প্রথম অতিস্বল্প কার্বনযুক্ত হাইড্রোলিক ফার্ম, এই পদ্ধতিতে চলমান তাকের মধ্যে উৎপাদিত উদ্ভিদগুলি সারাদিন যাবত আবর্তিত হতে থাকে। এতে সব কটি উদ্ভিদ সমানভাবে জল ও আলো পেতে পারে।

স্কাইফার্ম (Skyfarm)

লন্ডনের বজারস স্টার্ক হারবার সংস্থাটি তাদের অংশীদারদের সাহায্যে বায়ুচালিত একটি Vertical Farming Tower তৈরি করে যা তারা ২০১৪ তে বিশ্বকৃষি উৎসবে প্রদর্শিত করেন। এই প্রক্রিয়াটিতে aquaponics hydroponics এর মতবাদ কিছুটা হলেও ব্যবহৃত হয়েছিলো

এইসব প্রক্রিয়াগুলি ছাড়াও আরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেমন-

বোওয়ারি (Bowery) (বিশ্বের সবথেকে বেশী প্রযুক্তিগতভাবে সফল বাণিজ্যিক অন্দরমহল কৃষি)

জিপগ্রো (Zipgrow)

কিউবিক-ফার্মিং (Cubic farming)

মডুলার ফার্ম (Modular farms)

ভার্টি ক্রপ ( Verti Crop)

প্ল্যান্টিস্ক্যাপার (Plantscaper)

অ্যারোফার্মস (Aerofarms)  

এইসব পদ্ধতির মধ্যে অনেকগুলিই পরীক্ষাধীন রয়েছে, তবে গবেষক মন্তব্য Vertical farming যেমন আকর্ষনীয়, তেমনটাই শিক্ষণীয়। অদূর ভবিষ্যতে বাড়তি জনসংখ্যার পরিপূর্ণ খাদ্যসংস্থানের জন্য এই প্রযুক্তির দোসর তেমনভাবে আর কোনো প্রক্রিয়াকেই ভাবা যেতে পারে না।

ভারতে Vertical Farming-এর বিকল্প

ভারতে vertical farming-এর পরিকাঠামোগত প্রযুক্তির উন্নয়ন না ঘটানো পর্যন্ত এই প্রযুক্তির বিকল্প হিসাবে “Roof Top Farming” বা ছাদে চাষবাসকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি অনেকটাই উল্লম্ব কৃষির মতো বিষয়, তবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে-যেমন ‘Roof top farming’-এ প্রকৃতিক আলোয় উৎপাদন হয় যেটা Vertical farming-এর ক্ষেত্রে কৃত্রিম উপায়ে হয়ে থাকে। Roof top farming-এর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কম কারণ এই ধরণের প্রক্রিয়ায় LED-এর জন্য বিদ্যুৎ খরচ নেই। নিউইয়র্কের গথামগ্রীন (Gotham Green) ও মন্ট্রিল-এর লুফা ফার্ম (Lufa Farm) এর বক্তব্য অনুসারে, তাদের দেশে যত সংখ্যক বাড়ির ছাদ রয়েছে তাতে আনুমানিক ফাঁকা স্থানের পরিমাণ সম্মিলিত ভাবে প্রায় ১৩৬ হেক্টর, সুতরাং আমরা প্রত্যেকে যদি বাড়ির ছাদকে এমনভাবে ফাঁকা ফেলে না রেখে কিছু না কিছু ভাবে উৎপাদনের কাজে লাগাই তবে প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সমূহ খুব সহজেই পেতে পারি। এতে আমরা ন্যূনতম উৎপাদন ব্যয়ে অনেক বেশী স্বাস্থ্যকর ফসল পেতে পারি।

অনুসিদ্ধান্ত

Vertical Farming ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের কাছে কখনই অজানা কোনো প্রযুক্তি নয়, বহুকাল ধরেই কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ এর কিছুমাত্র চর্চা করেছেন। এই প্রযুক্তির প্রচারকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে গেলে প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। খাদ্যের ব্যাপারে স্বয়ম্ভরতা আনতে হলে অবিলম্বে কৃত্রিম Vertical Farming চালু করতে না পারলেও অন্তত প্রাকৃতিক vertical farming-এর সহজ পাঠটি মানুষের বুঝে নেওয়া উচিত, যাতে অন্তত আগামী প্রজন্মকে খাদ্যসংকটে না পরতে হয়।

প্রদীপ পাল (লেখক) (pradip@krishijagran.com)

- অভিষেক চক্রবর্তী

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.