Wheat Farming: জেনে নিন গমের আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

KJ Staff
KJ Staff
Wheat Farming (image credit- Google)
Wheat Farming (image credit- Google)

ধানের পরই পশিমবঙ্গে যে খাদ্যটির চাহিদা বেশি সেটি হলো তথা গম | দেশের মানুষের বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সকালের নাস্তার একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকে গমের আটা বা ময়দার রুটি-পরোটা। যদিও পশিমবঙ্গে গমের চাষ যতটা প্রসার লাভ করার কথা ছিল ততটা হয়নি, তবুও যে পরিমাণ জমিতে গমের চাষ হয় সেই জমিতে আধুনিক পদ্ধতি মেনে চাষ করলে গমের ফলন বেশি পাওয়া যেতে পারে।এই নিবন্ধে গমের আধুনিক চাষাবাদ (Wheat Cultivation) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

চাষের সময়:

গম বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো কার্তিক মাসের শেষ থেকে অগ্রহায়ণের তৃতীয় সপ্তাহ বা নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু কিছু কিছু জাত আছে যেগুলো কিছুটা তাপ সহনশীল, সেগুলো ডিসেম্বর মাসের ১৫-২০ তারিখ পর্যন্ত বোনা যেতে পারে। যে সব এলাকায় ধান কাটতে ও জমি তৈরি করতে বিলম্ব হয় যেসব এলাকায় বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়৷

জলবায়ু (Climate):                                                                  

গ্রীষ্ম ও অবগ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু হতে শুরু করে নাতিশীতোষ্ণ ও তুন্দ্রাঞ্চলীয় জলবায়ুতেও গম জন্মায় | বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৩৮০-১১৪৩ মিলিমিটার গম চাষের জন্য খুব উপযোগী, তবে ২৫৪-১৭৭৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বার্ষিক গড়পড়তা বৃষ্টিতেও গম ভালো জন্মায়

মাটি (Soil):

উঁচু ও মাঝারি দো-আঁশ মাটি গম চাষের জন্য বেশি উপযোগী৷ লোনা মাটিতে গমের ফলন কম হয়৷ সাধারণত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি গম চাষের জন্য উপযুক্ত৷ তবে মাঝারি নিচু জমিতেও গম চাষ চলে৷ দোঁআশ ও বেলে-দোঁআশ মাটি গম চাষের জন্য সর্বোত্তম৷ সহজে জল নিষ্কাশিত হয় এমন ভারী অর্থাৎ  এঁটেল ও এঁটেল-দোঁআশ মাটিতেও গমের চাষ করা চলে৷

আরও পড়ুন - Khesari Crop Farming: এই জাতের খেসারি চাষে আপনিও হবেন লাভবান

চাষ পদ্ধতি (Farming Process):

পশিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতেই গমের চাষ বেশি হয়ে থাকে। গম চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি জমি বেশি উপযোগী। তবে মাঝারি নিচু জমিতেও গম চাষ করা যায়। দোআঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি গম চাষের জন্য সর্বোত্তম। আবার সহজে পানি নিষ্কাশিত হয়, এমন এঁটেল ও এঁটেল দোআঁশ মাটিতেও গমের চাষ করা যায়। লবণাক্ত মাটিতে গমের ফলন কম হয়। বোনার জন্য একর প্রতি গম বীজের প্রয়োজন হয় ৪৮ কেজি বা বিঘা প্রতি ১৬ কেজি। বীজ গজানোর ক্ষমতা ৮৫% বা তার বেশি হলে ভালো হয়। ৮০% এর নিচে হলে প্রতি ১ ভাগ কমের জন্য একরপ্রতি ৪০০ গ্রাম গম বীজ বেশি বুনতে হয়। তবে ৬০% এর নিচে হলে সেই গম বীজ বোনা উচিত নয়। বোনার আগে গম বীজ প্রোভেক্স-২০০ (প্রতি কেজি বীজে ৩ গ্রাম হারে) বা কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক (প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম হারে) দিয়ে শোধন করে নিতে হয়। বীজ শোধন করলে বীজবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং নতুন গজানো চারা সুস্থ ও সবল থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে গমের ফলন শতকরা ১০-১২ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সারিতে অথবা ছিটিয়ে গম বীজ বপন করা যায়। তবে সারিতে বুনলে জমি তৈরির পর লাঙ্গল দিয়ে বা বীজ বপন যন্ত্রের সাহায্যে সরু নালা করে ২০ সেমি. দূরত্বের সারিতে ৪-৫ সেমি. গভীরতায় বীজ বুনতে হয়। ধান কাটার পরপরই পাওয়ার টিলারচালিত বীজ বোনার যন্ত্রের সাহায্যে স্বল্পতম সময়ে গম বোনা যায়। এই যন্ত্র দিয়ে একসঙ্গে জমি চাষ, সারিতে বীজ বপন ও মইয়ের কাজ করা যায়।

সার প্রয়োগ (Fertilizer):

গমের ভালো ফলন পাওয়ার জন্য জমি চাষ করার সময়ই প্রতি শতকে ৩০-৪০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করা ভালো। সেচসহ শেষ চাষের সময় প্রতি শতাংশে ৬০০-৭০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৬০০-৭০০ গ্রাম টিএসপি, ৩০০-৪০০ গ্রাম এমওপি এবং ৪৫০-৫০০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হয়। সেচসহ চাষের বেলায় চারার ৩ পাতা হলে প্রথম সেচের পর দুপুরে মাটি ভেজা থাকা অবস্থায় প্রতি শতাংশে ৩০০-৩৫০ গ্রাম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হয়। অন্যদিকে সেচ ছাড়া চাষের বেলায় সব ইউরিয়া (শেষ চাষের সময়+উপরি প্রয়োগের সময় দেয়) সার একত্রে শেষ চাষের সময় অন্যান্য রাসায়নিক সারের সঙ্গে প্রয়োগ করতে হয়। জমিতে বোরনের ঘাটতি দেখা দিলে বা বোরন ঘাটতি থাকলে প্রতি শতাংশে ২৫ গ্রাম করে বোরিক এসিড শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়। যেসব জমিতে দস্তা সারের ঘাটতি থাকে এবং আগের ফসলে দস্তা সার ব্যবহার করা হয়নি সেসব জমিতে শতকপ্রতি ৫০ গ্রাম করে দস্তা সার প্রয়োগ করতে হয়। দস্তা সার শেষ চাষের সময় দেয়া ভালো।

রোগবালাই ও দমন (Disease management system):

গমের পাতার মরিচা রোগ:

পাকসিনিয়া রিকন্ডিটা নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে। প্রথমে পাতার উপর ছোট গোলাকার হলুদ দাগ পড়ে। শেষ পর্যায়ে এই দাগ মরিচার মত বাদামী বা কালচে রংয়ে পরিনত হয়। হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা ঘষা দিলে লালচে মরিচার মত গুড়া হাতে লাগে। এ রোগের লক্ষণ প্রথমে নীচের পাতায় , তারপর সব পাতায় ও কান্ডে দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ রোগ বেশী হয়ে থাকে।

প্রতিকার:

১। রোগ প্রতিরোধী গমের জাত  কাঞ্চন, আতবর , অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরবের চাষ করতে হবে।

২। সুষম হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

৩। টিল্ট ২৫০ ইসি ১ মিলি আড়াই লিটার জলে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

গমের পাতার দাগ রোগ:

বাইপোলারিস সরোকিনিয়ানা নামক ছত্রাক এ রোগ ঘটায়। গাছ মাটির উপর আসলে প্রথমে নীচের পাতাতে ছোটছোট বাদামী ডিম্বাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে দাগসমূহ বাড়তে থাকে এবং গমের পাতা ঝলসে দেয়। রোগের জীবাণু বীজে কিংবা ফসলের পরিত্যাক্ত অংশে বেঁচে থাকে। বাতাসের অধিক আর্দ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রা ( ২৫ ডিগ্রী সে. ) এ রোগ বিস্তারের জন্য সহায়ক।

প্রতিকার:                                   

১। রোগমুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

২। গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

৩।প্রতি কেজি গম বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম ভিটাভেক্স ২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

৪। টিল্ট ২৫০ ইসি  ১ মিলি  প্রতি আড়াই লিটার জলে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

ফসল সংগ্রহ:

গম পেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করলে চৈত্র মাসের প্রথম থেকে মধ্য চৈত্র (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম) পর্যন্ত কেটে গম সংগ্রহ করতে হয়। উপযুক্ত যত্ন  নিলে  একর প্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ কেজি পর্যন্ত গমের ফলন পাওয়া যায়।

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন -Student Credit Card: বুধবার থেকে পড়ুয়াদের ক্রেডিট কার্ড দেবে রাজ্য

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters