জলজ- প্রাণীর ওপর উষ্মায়নের কুপ্রভাব

Monday, 10 June 2019 04:14 PM
  • সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী – এই শ্রেণীর প্রাণীদের ওপর উষ্মায়ন এর প্রভাব বর্তমানে খুবই বর্ধিত হয়েছে। এই প্রভাবগুলির ভিতর যেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সরাসরি প্রভাবশালী সেগুলি হল , বাসস্থান হইতে উতখাতন ,তাপমাত্রা প্রদত্ত চাপ, খারাপ আবহাওয়ার সম্মুখিন হওয়া ইত্যাদি। এছাড়া আরও প্রভূত প্রভাব চোখে পড়ে , সেগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ না। সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শারীরিক বাবস্থাপনা সমুদ্রে বসবাসের উপযোগী। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তন তাদের এই স্বাভাবিক বাসভুমিকে বিপুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। এদের মধ্যে কিছু দ্রুত আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে না পেরে অবলুপ্তির পথে পাড়ি দিয়েছে। এই সকল প্রাণীদের জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট একটা অনুকুল তাপমাত্রা- পরিসরের প্রয়োজন। সমুদ্রের অতিরিক্ত তাপমাত্রা তাদের এই সহ্য ক্ষমতাকে অতিক্রম করে যাছে। ফলে তারা অনেকেই স্বাভাবিক বাসস্থান পরিত্যাগে বাধ্য হয়ে, পরিযায়ী প্রাণীতে পরিণত হয়। আর যদি কোনো প্রাণী পরিযান করার জন্য কোনো অনুকূল স্থান এর সন্ধান না পায় এবং বর্তমান বাসস্থান এর অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে  না  পারে , তাহলে অবশেষে তাড়া অবলুপ্ত হয়।
  • সামুদ্রিক জলে ভাসমান প্ল্যাঙ্কটনগুলি হল সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রধান খাদ্য।তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে এই প্ল্যাঙ্কটনগুলির উৎপাদনের হার ও স্থানের প্রভূত পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে খাদ্যের অভাবও টাডেড় পরিযায়ী হওয়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
  • অতিরিক্ত বর্ধিত তাপমাত্রা সামুদ্রিক আলোড়নের সঞ্চার করে, অনেক সময়ে যা সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

 উষ্মায়ন এর প্রভাবে সমুদ্রের জলে কার্বন ডাই অক্সিডের পরিমাণ বৃদ্ধি প্রাপ্ত  হয় ।তার ফলে পি এইচ কমে , সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমানে আম্লীকরণ ঘটে। এই ঘটনাটি সমুদ্র-জলে থাকা  খোলক যুক্ত প্রাণীদের প্রচণ্ড পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থ করে।  কবচই প্রাণীদের বহিরাবরণে আরাগোনাইট নামক পদার্থ থাকে , যা সমুদ্রের আম্লিক জলে দ্রবীভূত হয়ে পরে। ফলে এই কবচই শ্রেণীর প্রাণীদের অবলুপ্তি ঘটে ।যা সমুদ্রের সমগ্র বাস্তুতন্ত্রকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আরও একটি ঘটনা লক্ষ্য করা হয় , কবচি শ্রেণির প্রানীদের মধ্যে যারা ফাইটোপ্লাঙ্কটনদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে যেমন ক্রিল,তারা ৮০% এর কাছাকাছি অবলুপ্ত হয়েছে বিগত ৩০ বছরে। উষ্মায়ন এর প্রভাবে বরফ চাদর গলিত হয়, ফলে সামুদ্রিক শৈবাল ও ক্রিল অবলুপ্ত হয় । তাদের অবলুপ্তির ফলে বহু সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যু ঘটে, যারা তাদের পুষ্টির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে।

প্রবালপ্রাচীর-  প্রবালপ্রাচীর সামুদ্রিক পরিবেশে খুবই জরুরি, কারণ এখানে কার্বনচক্র সংঘটিত হয় । এটি এমন একটি স্থান যেখানে জলজ প্রাণিদের সমাগম ঘটে, বংশ-বিস্তারের জন্য অথবা খাবার সংগ্রহ করার জন্য।ফলে এদের অবলুপ্তির ফলে একটি সম্পূর্ণ খাদ্দ্য-চক্রএর বিনাশ ঘটে।   প্রবাল দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধি পেতে থাকে,কারণ বাইরের প্রভাবের কারণে এগুলো বিনষ্ট হয় না।কিন্তু তাপমাত্রার পরিবর্তন  প্রবালপ্রাচীরকে বিনষ্ট করতে পারে।মৃত প্রবাল আবার বৃদ্ধি প্রাপ্ত হতে পারে না।প্রবালপ্রাচীর এর অবলুপ্তি শুধু মাত্র সমুদ্রে জীব- বৈচিত্র্যএর ক্ষতি করে তাই না ,তার সাথে বায়ুমণ্ডলের কারবন-ডাই-অক্সাইড শোষণ কম করে।ফলে পরোক্ষভাবে উষ্মায়নে সাহায্য করে।

জলের তাপমাত্রা মাছের বংশ-বিস্তারে সাহায্য করে এবং সঠিক জলজ পরিবেশ স্থাপণে সাহায্য করে। বড় মাছের থেকেও লার্ভা ও জুভেনাইল স্তরের মাছ কে বেশি পরিমানে প্রভাবিত করে।

জলের তাপমাত্রা কচ্ছপ এর লিঙ্গ নির্ধারণে সাহায্য করে। বেশি তাপমাত্রা পুংলিঙ্গ এবং কম তাপমাত্রা স্ত্রীলিঙ্গ এর জন্মে সাহায্য করে। তাই এটি সহজেই বলা যেতে পারে , কচ্ছপ জলজ প্রাণীদের ভিতর উষ্মায়নের প্রভাবে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এছাড়া এদের পরিপাক –ক্রিয়া ,বৃদ্ধির হার ও প্রজননের হারের ওপর উষ্মায়নের কুপ্রভাব বিস্তার করতে দেখা যাচ্ছে।

লেখক: শতরূপা ঘোষ (পি এইচ ডি স্কলার , অ্যাকোয়াটিক এনভারমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়,  কলকাতা,  পশ্চিমবঙ্গ)

রুনা নাথ(runa@krishijagran.com)



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.