এমু পাখি পালনে কৃষকদের লক্ষাধিক আয় Emu Bird Farming

Emu Bird
Emu Bird

দেখতে অনেকটা উট পাখির মতো, কিন্তু আদতে এই পাখি উট পাখি নয়। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি এমু, শূন্য থেকে ৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় অতি সহজেই প্রাণ  নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। যে কোনও তাপমাত্রাতাই এই বড়সড় আকারের পাখি সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাট, বিহার, কেরলের মতো রাজ্যে এই পাখির পালন বহুলাংশে চোখে পড়ে। জেনে নেওয়া যাক এমু পাখি পালনের পদ্ধতি। এই বিশেষ প্রজাতির পাখির ব্যবসা করে বহু কৃষক উপকৃত হয়েছেন, এবং অর্থনৈতিক ভাবেও সফল হয়ে উঠেছেন। 

এমু পাখি ব্যবসা শুরু করার সহজতম উপায় (Easiest way to start Emu bird business)

এমু পাখি পালন করে, ব্যবসায় লাভবান হয়েছেন অনেকেই। শুরু দিকে ২০ জোড়া এমু পাখি দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেই চলবে। কম করে দুই লক্ষ টাকার মতো এই ব্যবসায় নামতে গেলে খরচ হবে বলে মনে করা হয়। ব্যবসায় নেঁমে প্রথম দিকে কম করে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেন কৃষকরা। পরের বছরগুলিতে ৬-৭ লাখ টাকা লাভ করা কোনো ব্যাপারই হবে না। কৃষক ভাইদের জেনে নেওয়া দরকার, একটি স্ত্রী এমু পাখি ১৭ থেকে ২০ মাস বয়সে ডিম পাড়ে। এদের পক্ষে  ৩০ থেকে ৪০-এর মতন ডিম দেওয়া কোনো কঠিন বিষয়ই নয়। 

এমু পাখির মাংস ও ডিমের ব্যবসায়িক ও স্বাস্থ্যগত দিক: (Business and health aspects of emu meat and eggs)

এমু পাখির শরীরের সব অংশই ব্যবসায়ী এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকে প্রয়োজনীয়। কৃষকদের কাছে লাভের ব্যবসা হিসাবে জনপ্রিয় এই এমু পাখি পালন। ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এক একটি ডিমের মূল্য এবং এই পাখির মাংস ১০০০ টাকা কেজি দামে বাজারে বিক্রি হয়। এমু পাখির শরীরের  তেলও ভীষণ স্বাস্থ্যসম্মত। প্রতি লিটার তেল প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় বাজারে বিক্রি হয়। এমুর মাংস সুস্বাদু এবং কোলেস্টেরল মুক্ত। এমুর মাংসের থেকে পাওয়া তেল হার্টের জন্য উপকারী, যা ক্যান্সারের মতো রোগকেও থামাতে কাজে লাগে। গলস্টোনের চিকিৎসাতেও এর মূল্য অপরিসীম। এমু পাখির চামড়া দিকে পার্স ও জুতোও তৈরী করা হয়। তাহলে  দেখা যাচ্ছে, এই পাখির ব্যবসা স্বাস্থ্যখাতেও যেমন উপকারী তেমনই ব্যবসায়িক দিক থেকেও লক্ষ্মীতুল্য। 

এমু পাখির বাচ্চা পালনের পদ্ধতি (Emu bird hatchery method)

এমুর বাচ্চাদের যথাযথ পালন করতে হবে। তাজা ঘাস, পাতা এবং পোকামাকড় এমুর বাচ্চাদের খেতে দেওয়া উচিত। কারণ এই খাবারগুলি এই বাচ্চারা সহজে গিলে খেতে পারে। এই পাখির পানের জন্য সবসময় পরিষ্কার জলের আয়োজন রাখতে হবে। এমুর বাচ্চাকে চোখে চোখে রাখা উচিত। শিশু এমু পাখি অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির হয়, অতিরিক্ত ছোটাছুটি করলে এদের পা ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। 

পরিচর্যার নিয়মাবলী (Rules of maintaining Emu bird)

এমু পাখির দৈহিক আকার যেমন বেশ বড় তেমনই এদের ডিমগুলিও বেশ বড়সড়। এক একটি ডিমের ওজন প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৫০ গ্রাম।ইনকিউবেটারে ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টা এই ডিমগুলি রাখা হয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোলে একটি ঘরে ৩ সপ্তাহ তাদের রাখতে হয়।  লক্ষ্য রাখতে হবে প্রতিটি এমু ছানার জন্য ৪ বর্গফুট জায়গা থাকা আবশ্যক। ১০-১২ দিনের জন্য বাচ্চাগুলিকে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখতে হবে। পরবর্তীকালে চার সপ্তাহের জন্য ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে বাচ্চাগুলিকে রাখতে হবে।

জন্য যাতে যথেষ্ট পরিমাণে জল এবং খাবার থাকে তা নজরে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলোর মধ্যে বাচ্চাগুলিকে রাখতে হবে। ৩ সপ্তাহ হয়ে গেলে, বড় ঘরে বাচ্চাদের জায়গা দিতে হবে। ১৪ সপ্তাহ শেষ হয় মাত্রই, এমু বাচ্চাদের ৩০ ফুট খোলা জায়গায় রাখা প্রয়োজন, এর ফলে বাচ্চাগুলির বড় হওয়ার পথে কোনওরকমের বাধা আসবে না।

Like this article?

Hey! I am কৌস্তভ গাঙ্গুলী. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters