মাত্র দু চামচ জ্বালানি তে গোটা পৃথিবী ঘুরে আসা

Tuesday, 09 October 2018 12:11 PM

এটি একটি অবাক হলেও সত্যি কথা যে মধু সংগ্রহের জন্য যে কোনো একটি মৌমাছি ৫০ থেকে ১০০ টি ফুলে বসে এবং এজন্য  একই পরিমান মধু তৈরী করতে মৌমাছিদের ৯০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভ্রমন করতে হয়। শুধু কি তাই মৌমাছি প্রতি ঘন্টায় ৮ কিলোমিটার অবধি উড়তে পারে ও পুরো পৃথিবী একবার ঘুরে আসতে মৌমাছির জন্য ২ চা চামচ মধুই জ্বালানি হিসেবে হলেই যথেষ্ট !! সুতরাং কবির ভাষায় "মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি" -এর সঙ্গে অদ্ভুত মিল রয়েছে মৌমাছির জীবন চক্রের।

মৌমাছিরদের মৌ সংগ্রহ করার ইতিহাস অনেক পুরনো প্রায় ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন হাজার বছর আগে এবং একটি পূর্ণবয়স্ক শ্রমিক মৌমাছি সারা জীবন ধরে মাত্র এক চা চামচের অর্ধেক মধু সংগ্রহ করতে পারে।অর্থাৎ আমরা যারা প্রতিদিন যাঁরা এক বা দু চামচ করে যে মধু খাই বা পুজোয় ভগবান কে প্রাসাদ হিসেবে নিবেদন করি তা কয়েকটি মৌ মাছির সারা জীবনের সঞ্চয়!শুধু কি তাই, একটি সমীক্ষা বলছে ৫০০গ্রাম মধুর জোগাড় করতে মৌমাছিদের ২ মিলিয়ন ফুলের দরকার হয়।এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে এই মহার্ঘ্য জিনিসটি পেতে যাদের এতো কালঘাম ছুটতে হয় তার পুষ্টি ও ওষধি গুণাগুণ ও অন্যের থেকে অনেক বেশি তো হওয়ারই কথা। এক চা চামচ মধুতে(২১গ্রাম) ৬৪ ক্যালোরি ও ১৭ গ্রাম শর্করা তৎসঙ্গে সুক্রোজ,ফ্রুকটোশ, গ্লুকোজ, মেলটোশ প্রভৃতি থাকে। এছাড়া খাঁটি মধু একটা ভালো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট(প্রতিরোধক) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।ডায়াবেটিস, রক্ত চাপ, হৃদয় যন্ত্রের রোগ, মেদ কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার। এছাড়া মৌচাক থেকে প্রাপ্ত মোম গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ও রূপচর্চার কাজে লাগানো হয়। তাই মধু নিয়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট এবং বড় ব্যবসার সম্ভাবনা আছে এবং থাকবে।

এর পাশাপাশি মৌমাছিদের ফল ও ফুলের পরাগ সংযোগের ভূমিকা গোটা পৃথিবীতে অতুলনীয়।পৃথিবীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ খাদ্য যেগুলি আমরা মানুষ ও পশুপ্রাণীরা গ্রহণ করি তার বেশিরভাগ ফুল ও ফলের পরাগ মিলনে মৌমাছিরা সাহায্য করে। সংযুক্ত আমেরিকার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী শস্য নির্ভর করে মৌমাছিদের উপর!তাহলে আসুন আমরা এদের* সম্পর্কে একটু জানি:

মৌমাছি আসলে বা মধুমক্ষিকা বা মধুকর (ইংরেজি: Bee) বোলতা এবং পিঁপড়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গবিশেষ। মধু ও মোম উৎপাদন এবং ফুলের পরাগায়ণের জন্য প্রসিদ্ধ। গোটা পৃথিবীতে ৯টি স্বীকৃত গোত্রের অধীনে প্রায় বিশ হাজার কিংবা আরো বেশি মৌমাছি প্রজাতি আছে । এন্টার্কটিকা ব্যতীত পৃথিবীর সকল মহাদেশে যেখানেই পতঙ্গ-পরাগায়িত সপুষ্পক উদ্ভিদ আছে, সেখানেই মৌমাছি বিরাজমান। সচরাচর যে মৌমাছি গুলি দেখা যায় তার বৈজ্ঞানিক নাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো:

রক বী বা পাথুরে মৌমাছি (এপিস ডর্সাটা): এরা ভালো মধু সংগ্রাহক এবং এদের প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ৫০-৮০ কেজি ফলন পাওয়া যায়৷

লিটল বী বা ক্ষুদে মৌমাছি : (এপিস ফ্লোরিয়া): এরা খুব কম মধু উপন্ন করে এবং প্রতি উপনিবেশ থেকে প্রায় ২০০-৯০০ গ্রাম মধু পাওয়া যায়৷

ইণ্ডিয়ান বী বা ভারতীয় মৌমাছি (এপিস সেরানা ইণ্ডিকা): এরা বছরে প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ৬-৮ কেজি মধু দেয়৷

ইউরোপিয়ান বী বা ইউরোপিয় মৌমাছি [ইতালীয় মৌমাছি] (এপিস মেলিফ্লেরা): প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ২৫-৪০ কেজি মধু পাওয়া যায়৷এগুলি ছাড়াও কেরলে আর একটি প্রজাতি পাওয়া যায় যারা "হুলবিহীন মৌমাছি" নামে পরিচিত৷ এরা আদৌ হুলবিহীন নয়, প্রকৃতপক্ষে এদের হুল পূর্ণ বিকশিত হয় না৷ তবে এরা খুব ভালো পরাগসংযোজক৷ এরা বছরে ৩০০-৪০০ গ্রাম মধু উৎপাদন করে৷।

- অমরজ্যোতি রায়

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.