আয় বৃদ্ধির জন্য কোন জাতের গো - পালন করবেন কৃষকবন্ধুরা?

KJ Staff
KJ Staff
Cow farm (Image Credit - Google)
Cow farm (Image Credit - Google)

কৃষি নির্ভর দেশ ভারতবর্ষের গ্রামীন আর্থ-সামাজিক বিকাশে প্রাণী পালন একটি নির্ভরযোগ্য জীবিকা। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় মানব সভ্যতায় প্রাণীপালনের সূচনায় ৩৫০০ বছর আগে। জীবিকা ও আনন্দ বিশেষতঃ এই দুটি কারনেই মানুষের সাথে গৃহপালিত প্রাণীর গড়ে উঠেছে এক নিবিড় সম্পর্ক। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রামের মানুষের কাছে প্রাণীপালন জীবিকা নির্বাহের একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। এই চিত্রের কিছুটা প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণীসম্পদ কর্তৃক প্রদত্ত আয়ের মাধ্যমে, যার পরিমান সমগ্ৰ আয়ের ৩.৯ শতাংশ।

পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এর সাথে সাথে বেড়ে চলেছে দুধ, ডিম, মাংস বা প্রাণীজাত বিভিন্ন দ্রব্যের চাহিদা। এই কারনেই প্রাণীপালন সুরক্ষিত ভবিষ্যত এবং স্বনির্ভর জীবিকা উপার্জনের জন্য উপযুক্ত।

উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ মানুষেরা প্রাণীপালন বলতে মুখ্যভাবে গবাদি পশু (যেমন- গরু, ছাগল/ভেড়া), শূকর, হাঁস ও মুরগী পালনেই নিয়োজিত রয়েছেন। আমরা এখানে গরু পালনের বিভিন্ন দিকগুলি এবং এর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর প্রসঙ্গগুলি নিয়ে আলোচনা করা হল।

আয়বৃদ্ধির জন্য গো-পালন (Cow rearing for income generation) -

গরু পালনের ক্ষেত্রে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হল দুধ, দুধ ছাড়াও জ্বালানীর জন্য ব্যবহৃত হয় গোবর। এছাড়াও বলদের সাহায্যে মাঠে লাঙলও দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গের যে সকল চাষীভাই কৃষিকাজের সাথে যুক্ত আছেন, তারা সকলেরই গোপালনের সাথে যুক্ত। উত্তরবঙ্গে চাষীরা সাধারণতঃ দুই ধরনের গরু পালন করে থাকেন।

১। লোকাল/ দেশী গরুঃ এরা আকারে ও আয়তনে ছোট, কম দুধ উৎপাদনশীল হয়। দিনে ১-৩ কেজি।

২। ক্রসব্রিড/ সংকর গরু – এই পদ্ধতিতে দেশী গরুকে শাহিওয়াল ষাঁড়ের বীর্য দিয়ে কৃত্রিম ভাবে প্রজনিত করা হয়। এই জাতের গরুর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বেশী। দিনে ৮-১০ কেজি।

আয় বৃদ্ধির জন্য সেক্ষেত্রে সংকর গাই পালন করাই চাষীদের ক্ষেত্রে লাভজনক, এতে নিজের পরিবারের দুধ পানের পরও উদ্বৃত্ত দুধ সে বাজারে বিক্রি করতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে কোন নির্দিষ্ট জাতের গরু পাওয়া যায় না এবং সেই জন্য গ্রেডিং আপ বা উন্নতিকরণের মাধ্যমে দেশীয় গরুগুলিকে সংকর গরু হিসাবে পালন করতে হবে।

দেশীয় গরুর কৃত্রিমপ্রজনন (Artificial insemination of native cows) -

দেশীয় বা লোকাল গরু গরম হলে বা ডাকলে গরুটিকে নিকটবর্তী কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে অথবা কোন প্রাণীবন্ধুকে যোগাযোগ করতে হবে। গরু কখন গরম হলো, সেই সময়টি পালককে সঠিক ভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ তা না হলে বাচ্চা ধরার হার কমে যাবে। গরু গরম হওয়ার বিভিন্ন লক্ষণগুলি হল-

১। গরু বারংবার অল্প অল্প করে প্রস্রাব করবে।

২। গরুর যোনি থেকে স্বচ্ছ শ্লেষ্মা ধরণের স্রাব সুতোর মতো ঝুলবে।

৩। গরু একাধিক বার ডাকাডাকি করবে।

৪। গরু লেজটি এক পাশে করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

৫। গরুটি অন্য গরুর উপরে চড়বে।

এই লক্ষণগুলি দেখার ১২ ঘন্টা পরে গরুটিকে শাহিওয়াল বীর্য দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করাতে হবে। সফল ভাবে কৃত্রিম প্রজনন হয়েছে কিনা ২ মাস পরে তা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। নাহলে গরু আবার গরম হলে একই পদ্ধতি পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

প্রতিবার কৃত্রিম প্রজননের সময় কোন ষাঁড়ের বীর্য ব্যবহার করা হল, তা প্রতিটি গরু হিসাবে নথিভুক্ত করে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ঐ ষাঁড়ের বীর্য একই গরুর সন্তানে ব্যবহার যেন না করা হয়, এতে ইনব্রিডিং ডিপ্রেশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে ও গরুটির উৎপাদন ক্ষমতা কম হয়ে যেতে পারে।

সংকর গরুর পুষ্টি বা পোষন (Nutrition of crossbred cows) -

সংকর গরু বেশী পরিমান দুধ উৎপাদনে সক্ষম। বেশী দুধ উৎপাদনের জন্য এর পুষ্টি বা পোষনের প্রয়োজন দেশী গরুর থেকে বেশি হয়। সংকর গরু পালনের ক্ষেত্রে পুষ্টি বা পোষণ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন - Sheep farming: স্বল্প পুঁজিতে মেষ পালনে ব্যাপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

সবুজ গো-খাদ্যেরসরবরাহ:-

সবুজ গো-খাদ্য বা ঘাস জাতীয় খাবার পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরবঙ্গে সহজলভ্য নয়। তাই চাষীভাইরা পর্যাপ্ত পরিমানে সবুজ খাদ্যের সরবরাহ গরুকে দিতে পারেন না। কিন্তু, সবুজ খাদ্য দুধের পরিমান ও গুনগত মান বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে উপযোগী এবং এর ফলে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বেশী। তাই, কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত চাষীরা জমির একাংশে সবুজ গো-খাদ্য চাষ করলে তা সেই চাষীদেরই আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

সবুজ গো-খাদ্য বলতে সারা বছর চাষ করা যায় এমন কিছু ঘাস হল হাইব্রিড নেপিয়ার, প্যারা, স্টাইলে বা গিনি ঘাস। এদের মধ্যে হাইব্রিড নেপিয়ার ঘাসের চাষ সাধারণত বেশী হয়, কারন এই ঘাসের উৎপাদন হয় বেশী ও উৎকৃষ্ট পুষ্টিগুন সম্পন্ন।

সবুজ গো-খাদ্যের মধ্যে এছাড়াও মরসুম ভিত্তিক কিছু উদ্ভিদ রয়েছে যেমন :- গরম কালে যব, ভুট্টা ইত্যাদি এবং শীতকালে লুসার্ন, বারসীম ইত্যাদি। এদের মধ্যে যব, জই, ভুট্টা ইত্যাদি গো-খাদ্যগুলি শক্তি উৎপাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ও লুসার্ণ, বারসীম এরা উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন - Pig Farming: ছাগলের চেয়েও লাভজনক শূকর প্রতিপালন! জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ টিপস

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters