নভেল করোনা ভাইরাসের কৃষিতে (Impact of Covid-19 on agriculture) প্রভাব

KJ Staff
KJ Staff

নভেল করোনার প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত সমগ্র বিশ্ব। দেশে লকডাউনের কারণে যেন থমকে রয়েছে জনজীবন। কৃষকদের এবং শ্রমিকদের যাতে কোন অসুবিধা না হয়, সেদিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি থাকলেও লকডাউনের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস না মেলায় ফসল বিক্রি করতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তারা। বেশীরভাগ কৃষকের ক্ষেতের ফসল রয়ে গেছে ক্ষেতেই, তা আর বাজারে পাঠানো সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। সঠিক সময়ে পশু খাদ্য না পাওয়া, জলজ প্রাণীর খাদ্যাভাব, সারের দোকান বন্ধ থাকায় ফসলে ঠিক মতো সার প্রয়োগ করতে না পারা- এই সকল দিক থেকেই ক্ষতি হয়েছে দেশের কৃষি খাতের, ফলত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের কৃষকবন্ধুরাই।

পরবর্তী মাসগুলিতে চিত্র আরও জটিল রূপ নিতে চলেছে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের। উচ্চমূল্যের পণ্য যেমন, ফল এবং শাকসবজি বাজারে আনা হচ্ছে কম, কারণ এই ধরণের খাদ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। এ জাতীয় ঘটনা কৃষি উত্পাদন এবং বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তৎসত্ত্বেও সংক্রমণের কারণে দেশ জুড়ে চলা লকডাউনে সন্ত্রস্ত সকলেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমরা ঘরবন্দি, কর্মক্ষেত্র, বাজারসহ সকল জায়গা থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য তো দরকার। এমতাবস্থায় সম্ভব বাজার না গিয়েও প্রয়োজনীয় শাকসবজি নিজের হাতের কাছে পাওয়া, খুব সহজে বাড়িতেই তা উৎপাদন করা যায়। দরকার নেই সুবৃহৎ ক্ষেত্রের বা উচ্চ বিনিয়োগের। স্বল্প পরিসরে ‘উল্লম্ব বাগান’ করে নিজের বাড়িতেই সবুজায়ন করা যায়।

বিভিন্ন শাকসবজি যেমন, লেটুস, ব্রকোলি, লালশাক, পালংশাক, ফরাস বিনস, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি সবজি ‘উল্লম্ব বাগান’ থেকে আমরা পেতে পারি। এতে যেমন পরিবারের সদস্যদের প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, তেমনি বাহারি রঙ-বেরঙের সবজি আমাদের সবুজ পিয়াসী মনের মধ্যে এক অনাবিল স্ফূর্তির সঞ্চার করে। ঘরের ভিতর, লিভিং রুম বা অফিসেও চাইলে অ্যালোকেশিয়া, ফার্ন, স্পাইডার লিলি, অ্যান্থুরিয়াম, রিও প্রভৃতি গাছ দিয়ে ভার্টিক্যাল গার্ডেন বানিয়ে ভিতরের দেওয়ালগুলিকে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। এই পদ্ধতিতে আমরা নিজেদের বাড়িতে সবুজায়ন করলে আখেরে লাভ আমাদেরই। মনোরম উদ্যানের সাথে সাথে কৃষিবিষ মুক্ত সতেজ জৈব ফসল, বিশুদ্ধ অক্সিজেন, গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহ থেকে স্বস্তি, বড় আকারে প্রয়োগ করলে ব্যবসা – অনেক কিছুই সম্ভব এর থেকে।

আমরা আশা করি, উদ্ভিজ্জ উত্পাদন অনেক বেশি স্থানীয় হয়ে উঠবে, তবে বিশ্বব্যাপী প্রধান খাদ্য (ধান, ভুট্টা জোয়ার, বাজরা)-এর ক্ষেত্রে কোনরকম পরিবর্তন কাম্য নয়। আমরা উন্নতির প্রত্যাশা রাখি আন্ত-আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, যার ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নতমানের সার প্রয়োগে কৃষকদের ফসলে উচ্চ গুনমানের অধিক ফলন সম্ভব হবে এবং তাদের পণ্য বিক্রির বাজারের অধিক সম্প্রসারণ ঘটবে, তারা ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন, সর্বতোভাবে কৃষকের উন্নতিসাধন হবে।

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters