সিল্পোলিনের পলিশীটে জৈব সার বা কম্পোস্ট সার তৈরী

Monday, 03 September 2018 05:50 PM

জৈব সার হল প্রাণী ও উদ্ভিদ জাত দ্রব্য থেকে তৈরী সার। মাটিতে জৈব সার কম থকলে সেই জমিতে রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা কম পাওয়া যায়। জৈব বা বা কম্পোস্ট সার মাটির গঠন উন্নত করে ফলে মাটির মধ্যে বায়ু চলাচল ও জল ধারন ক্ষমতা ও মাটির  উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। মাটির অম্লত্ব , ক্ষারত্মের সাম্য বজায় থাকে ও গাছ অণুখাদ্যের সরবরাহ পায়। সিলপলিনের অধিক টেকসই , জল রোধক ( water proof) টারপলিন পলিশীট ব্যবহার করে সহজেই কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা যায়।

সিলপলিনের পলিশীটের সহায়তায় জৈব বস্তু থেকে কম্পোস্ট সার তৈরীর পদ্ধতি :

৫ ফুট চওড়া , ১০ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট গভীর গর্ত বানিয়ে তার উপর সিলপলিনের জল রোধক ( water proof) টারপলিন পলিশীট বিছিয়ে নিতে হবে। প্রথম স্তরে খর , গোয়ালের আবর্জনা, তুষ, ছোট করে কাটা তরকারীর খোসা ইত্যাদি দিতে হবে দেড় ইঞ্চি পুরু করে। এর উপর ইঞ্চি ছয়েক পুরু করে গোবর, হাঁস-মুরগীর মল, সবুজ পাতা দিতে হবে। সবার উপরের স্তরে এক ইঞ্চি পুরু ইউরিয়া মেশানো মাটির স্তর দিতে হবে। এই মাটির সঙ্গে সামান্য পরিমাণ গোবর জলে গোলা সুপার ফসফেট ও অ্যাজোটোব্যক্টর মেশালে পচন ক্রিয়া দ্রুত হবে। এই তিনটি স্তর নিয়ে একটি ধাপ হয়। গর্তে এই রকম ৩টি ধাপ থাকবে। জৈব সারে ফসফেটের পরিমাণ বাড়াতে ফসফেট দ্রবনকারী ব্যকটেরিয়া (PSB) মেশালে ভালো ফল পাওয়া যায়। সবার উপরে ঝুরঝুরে মাটি দিতে হবে ও সিলপলিনের পলিশীট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। গর্তের মধ্যে ২/৩ টি পাইপ বা বাঁশের লাঠি বসিয়ে দিতে হবে যাতে মাঝে মাঝে ওলট পালট করে ও  গোবর মিশ্রিত জল ছিটিয়ে কম্পোস্ট সারের আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়। ১১০ – ১২০ দিনের মাথায় উৎকৃষ্ট মানের  ফসফেট, সালফার ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ কম্পোস্ট সার জমিতে প্রয়োগের জন্য তৈরী হয়ে যাবে।

এই কম্পোস্ট সার মাটির জলধারণ ক্ষমতা, বায়ু চলাচল ক্ষমতা ও মাটিতে গাছের অব্যবহৃত খাদ্য উপাদানকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। অম্ল মাটি ও নোনা মাটিকে শোধনেও সিলপলিনের টারপলিন পলিশীটে তৈরি এই কম্পোস্ট সার কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে।

- রুনা নাথ

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.