কৃষককে লাভের মুখ দেখাতে প্রশিক্ষণ

Wednesday, 13 March 2019 01:03 PM

কৃষককে লাভের মুখ দেখাতে বাজারমুখী ফসল উৎপাদন ও সঠিক দামে তা বিপণনের ব্যবস্থা করে দিতে মিলবে নিখরচায় তিনমাসের উন্নত আবাসিক প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে রয়েছে ২ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান ও ব্যাঙ্কঋণের সুযোগ। হুগলির বৈদ্যবাটিতে রাজ্য সরকারের কৃষি বিপণন দপ্তরের অধীনে থাকা নেতাজি সুভাষ ট্রেনিং ইন্সটিটিউট অফ এগ্রিকালচারাল মার্কেটিংয়ে বছরভর রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কৃষক এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ হয়ে থাকে। 

শুধু আবাসিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করাই নয়, চাষিরা যাতে একেবারে নিজেদের মাঠে হাতেকলমে উন্নত কৃষির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, সেজন্য জেলায় জেলায় ব্লক স্তরেও এক সপ্তাহের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

যে জেলায় যেসব ফসলের বেশি চাষ হয়, প্রচুর উৎপাদনের কারণে সেই ফসল যাতে কোনওভাবেই কৃষককে অভাবীবিক্রি করতে না হয়, সেজন্য প্রক্রিয়াকরণের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওই ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। সেক্ষেত্রে কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়ে এবং এলাকার উৎসাহী যুবক-যুবতীদের নিয়ে ‘ফার্মার্স ইন্টারেস্টেড গ্রুফ’ (এফআইজি) গঠন করে দেওয়া হয়। উদ্যোগে শামিল করা হয়ে থাকে বিভিন্ন কৃষি সমবায় সমিতি ও ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানির মতো কৃষক সঙ্ঘকে। কৃষকবাজার ও সুফল বাংলা-র সঙ্গেও যুক্ত করে দেওয়া হয়ে থাকে ফার্মার্স ইন্টারেস্টেড গ্রুপগুলিকে। ফলে বিক্রির সমস্যা থাকবে না। তারা তাদের নিজেদের প্রকল্প অনুযায়ী, কৃষকের কাছ থেকে ফল, সব্জি কিনে তা আংশিক প্রক্রিয়াকরণ করে সংরক্ষণ করে রাখে। তার পর চাহিদা বুঝে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তা বাজারজাত করেন। এতে একদিকে যেমন ফল, সব্জি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয়, তেমনই তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়া যায় বলে দাবি।

২০১৪-১৫ সাল থেকে এপর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি কৃষক ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ১১১টি ব্লক থেকে টিম নিয়ে এসে ওই ট্রেনিং করানো হয়েছে। 

বর্তমানে আমাদের ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে ৭টি ক্লাসরুম রয়েছে। থাকার ব্যবস্থা আছে ১১৮জনের। আরও বেশি করে যাতে কৃষক ও গ্রামীণ ছেলেমেয়েদের আমাদের এখানে রেখে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে উন্নত কৃষির পথ দেখানো যায়, সেকারণে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি হস্টেল হচ্ছে। ২ লক্ষ টাকা এককালীন অনুদানের পাশাপাশি প্রতিটি এফআইজি যাতে প্রকল্প চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্কঋণ পায়, তারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়ে থাকে।

তিন মাসের ট্রেনিংয়ে ব্লক ভিত্তিক টিমের কাছ থেকে প্রথমে জেনে নেওয়া হয়, তাদের এলাকায় কী কী ফসল চাষ হয়। তার পর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারে নিয়ে গিয়ে সেসব ফসল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। কীভাবে সেই ফসল চাষ করতে হয় এবং উৎপাদিত ফসল কীভাবে প্রক্রিয়াকরণ করতে হয় তা হাতেকলমে শেখানো হয়। এর পর তাঁরা জানান, তাঁরা কী করতে চান। এবার সেই সম্পর্কে আরও বেশি করে পরামর্শ দেওয়া হয়। শেষে প্রকল্প জমা দেয় প্রতিটি টিম।

তথ্যসূত্র: বর্তমান পত্রিকা

- রুনা নাথ (runa@krishijagran.com)

English Summary: Training for farmers to gain more profit

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.