Monsoon Crop Farming –বর্ষায় কোন কোন উদ্ভিদ চাষে মুনাফা হবে কৃষকের, খরিফ মরসুমে জলজ ফসল চাষ

স্বপ্নম সেন
স্বপ্নম সেন
Lotus flower (Image Credit - Google)
Lotus flower (Image Credit - Google)

দেশের বহু জায়গাতেই বর্ষার অতি বৃষ্টিতে শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় সবজি চাষ করেন এমন অনেক কৃষকেরই মাথায় হাত পড়েছে৷ কিন্তু বর্ষাকালে জলজ শাক সবজি বা Aquatic Vegetables যদি চাষ করা শুরু করেন কৃষকেরা, সেক্ষেত্রে লাভের সম্ভাবনাই বাড়বে৷ বর্ষার জলে চাষ ভালো হবে এমন শাক সবজিতেই (Profitable Farming in Monsoon) জোর দিচ্ছেন কৃষকেরা৷ বলা যায়, লকডাউনে ধাক্কা খাওয়ার পর কৃষিক্ষেত্রে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে বর্ষাকাল৷

এসময় কৃষকেরা খারিফ শস্য (Kharif Crops) চাষে বিশেষ নজর দেন৷ ধান, অড়হর, সোয়াবিন সহ বিভিন্ন চাষ হয়ে থাকে বিভিন্ন রাজ্যে৷ তবে এসব ছাড়াও, বেশ কয়েকটি উদ্ভিদ চাষে (Kharif Crop Farming) বর্ষায় যে কতটা লাভ হতে পারে সে সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না৷ বিশেষ করে বর্ষাকালেই এমন বহু ঔষধি গুন সম্পন্ন গাছ রয়েছে যাদের চাষ হতে পারে লাভজনক৷

এই বিষয়ে সঠিক তথ্য না পাওয়ার কারণেই অনেকের কাছে বিষয়টি অধরা৷ চলুন এই প্রতিবেদনে এমনই কিছু গাছ নিয়ে আলোচনা করা যাক যা কৃষকদের জন্য হতে পারে লাভদায়ক৷ তবে সঠিক সময়ে, সঠিক রোপন, সেচ, কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন এগুলিতে, না হলে এর ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে৷

পদ্ম (Lotus)-

এটিও বহুল পরিমাণে চাষ হয়ে থাকে৷ চিন-জাপানে পদ্ম প্রচুর চাষ করা হয়৷ এর পাতা, কাণ্ড, ফুল, বীজ থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই ব্যবহার করা হয়৷ সবজি, আচার, স্যুপ, বিভিন্ন প্রকারের রান্না তৈরিতে পদ্মের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার হয়৷ ভিটামিন, প্রোটিন, ৮ প্রকারের খনিজে ভরপুর এগুলি৷ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে পদ্ম৷ পদ্মপাতা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে৷

পানিফল (Water Chestnut) -

বিভিন্ন শাক সবজির পাশাপাশি পানিফল চাষও কিন্তু খুবই লাভজনক৷ সবুজ বা মেরুন রঙের শক্ত খোসার ভিতরে সাদা রঙের পানিফল খুবই জনপ্রিয়৷ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সবুজ পানিফলের গুরুত্ব বেশি৷ পানফেলর চাষ করে বহু চাষিই লাভের মুখ দেখেছেন৷

বর্ষাকালে (Farming in Monsoon) বিভিন্ন শাকের মধ্যে কলমি শাকের (Water Spinach) চাষ উল্লেখযোগ্য৷ এর বৈজ্ঞানিক নাম আইপোমিয়া অ্যাকোয়াটিকা৷ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভূত পরিমাণে এই শাকের চাষ হয়ে থাকে৷ দেশে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, ওডিশা, কর্ণাটকে এর চাষ করা হয়৷ জুন-জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর এই চারমাসেই এর বীজ বপন করা যেতে পারে৷ বীজ বপনের ৫-৬ দিনের মধ্যে এই শাক সংগ্রহের উপযুক্ত হয়ে যায়৷

ঘৃতকুমারী -

এর ভালো উৎপাদনের জন্য জলনিকাশি ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে৷ এই ধরনের ঔষধি গুনসম্পন্ন গাছ শীতকাল বাদ দিয়ে যে কোনও সময় চাষ করতে পারেন৷ বর্ষাকালে দূরত্ব রেখে বীজ বপন করতে হবে৷ কম সময়ের মধ্যেই ব্যবহারোপযোগী হয়ে ওঠে এগুলি৷

অগ্নিশিখা বা কলিহারি -

এটি চাষের জন্য কৃষকেরা জুন মাসেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন৷ জুলাইয়ে ভালো বৃষ্টিতে এর চাষ শুরু করা যেতে পারে৷ উল্লেখ্য, ১ হেক্টর জমির জন্য প্রায় ১০ ক্যুইন্টাল কন্দের প্রয়োজন৷ এটি চাষের আগেও জমিতে গোবর সার প্রয়োগ করে তা প্রস্তুত করে নিতে হবে৷

আরও পড়ুন - Profitable Mushroom Farming - দারিদ্র দূরীকরণে দিশা দেখাচ্ছে মাশরুম, চাষে আয়ের সম্ভবনা প্রচুর

যষ্টিমধু - জুলাই থেকে অগস্ট পর্যন্ত এর চাষ করা হয়৷ আর তাই জুন থেকেই এর প্রস্তুতি শুরু করে দেন কৃষকেরা৷ জলনিকাশি ব্যবস্থা উচ্চমানের হওয়া প্রয়োজন এই গাছ চাষের জন্য৷ মনে রাখতে হবে এর চাষের আগে জমিতে কমপক্ষে ১৫ টন গোবর সার দেওয়া প্রয়োজন, এরপরেই এটি চাষ করা উচিত৷

অশ্বগন্ধা - বর্ষায় এর চাষ ভালো৷ জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত এর চাষ করতে পারেন৷ এর বিভিন্ন জাত রয়েছে৷ উন্নত মানের গাছের চাষে কৃষকের লাভের পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে৷ উল্লেখ্য, প্রতি হেক্টরে ৫ কিলোগ্রাম বীজ ব্যবস্থা করতে হবে৷ যদি কেউ ১ হেক্টর জমিতে অশ্বগন্ধার চাষ করতে চায় তাহলে তাকে প্রায় ৫০০ বর্গমিটারে নার্সারি তৈরি করতে হবে৷ প্রায় ১ সেন্টিমিটার গভীরে বীজ বপন করতে হবে৷

আরও পড়ুন - Monsoon Crop Care - ভালো ফল পেতে এই মরসুমে কীভাবে করবেন পেয়ারা গাছের পরিচর্যা, জেনে নিন পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am স্বপ্নম সেন . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters