খারিফ মৌসুমে রজনীগন্ধা চাষে উপার্জন বাড়বে কৃষকদের

KJ Staff
KJ Staff
Tuberose field (Image Credit - Google)
Tuberose field (Image Credit - Google)

রজনীগন্ধার সুবাসের সাথে পরিচিত নয় এরকম কম লোকই আছেন | এই ফুলের বাজার চাহিদা ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে | মূলত, বেশিরভাগ চাষীরা ধানের পরিবর্তে ফুলের দিকে ঝুঁকছেন | পশ্চিম মেদিনীপুর এলাকার চাষীরা রজনীগন্ধা চাষে পেয়েছেন সাফল্য | এক মরসুমে ধান চাষ করে যেখানে বিঘা প্রতি বড় জোর হাজার পাঁচেক টাকা লাভ, সেখানে রজনীগন্ধা চাষে এক বারের মেয়াদে (মোটামুটি ১৮ মাস) ৭৫ হাজার থেকে লাখ খানেক টাকা লাভ। তাই, তাদের মতোই অনেক কৃষকভাইরা এগিয়ে এসেছে রজনীগন্ধা চাষে (Tuberose Cultivation) |

আবহাওয়া (Climate):

এই ফুলের উপযুক্ত বৃদ্ধির জন্য আর্দ্র আবহাওয়া এবং গড় তাপমাত্রা ২০০ থেকে ৩০০ সে. হওয়া দরকার | প্রধানত, পযাপ্ত সূর্যোলোকসহ উপকূলীয় এলাকা ও বর্ষাকাল উৎপাদনের উপযুক্ত সময় । শীতকালে রজনীগন্ধা ফুলের উৎপাদন কমে যায়। তবে সেমি ডবল ও ডবল জাত শীতকালেও ফুল দিতে থাকে।

মাটি (Soil):

সুনিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন দোআঁশ ও বেলে মাটি রজনীগন্ধা চাষের জন্যে উপযুক্ত। মাটির পিএইচ 6.5-7.৫ এই ফুলের বৃদ্ধির জন্য উপযোগী | উঁচু ও মাঝারি জমি, যেখানে জল বের করে দেওয়ার সুব্যবস্থা আছে, সেখানে এই চাষ খুবই উপযোগী |

কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময় (Proper Time):

খারিফ মৌসুম: ১লা চৈত্র থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি ।

রবি মৌসুম: মধ্য আশ্বিন হতে কার্ত্তিকের শেষ পর্যন্ত।

কন্দের পরিমান:

সাধারণত, একর প্রতি ১২০০০ টি কন্দ লাগাতে হবে। কন্দ বাছাইয়ের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলি যাতে উন্নত হয় এবং দেশীয় মাটি ও আবহাওয়ায় চাষ উপযোগী হয় |

রোপণ পদ্ধতি:

প্রধানত, জমি তৈরির ৭ থেকে  ১০ দিন পর কন্দ রোপণ করা উচিত। ০.৬ থেকে ১.১৮ ইঞ্চি ব্যাসের কন্দ লাগাতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ১২ ইঞ্চি এবং কন্দ হতে কন্দের দূরত্ব ৮ ইঞ্চি। কন্দকে প্রায় ৬ ইঞ্চি গভীরে লাগাতে হবে। কন্দ রোপণের আগে কন্দের সুপ্তাবস্থা (যে সময়টুকুতে বীজ গজাবে না তাকেই সুপ্তাবস্থা বলে) কাটানোর জন্য কন্দ গুলোকে ৪ শতাংশ থায়ো ইউরিয়া জলীয় দ্রবনে প্রায় ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

জমি তৈরী ও সার প্রয়োগ:

প্রথমে চাষের সময় প্রতি বিঘা জমিতে ৩ টন জৈবসার বা খামারের সার মিশাতে হবে এবং ৪-৫ বার গভীরভাবে চাষ করে  অগাছামুক্ত করতে হবে ও জমির মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করতে হবে। শেষ চাষের আগে প্রতি বিঘাতে ১৪:২৮:২৮ ইউরিয়া, টিএসপি,এমপি সারের মিশ্রণ মূল সার হিসাবে জমিতে মেশাতে হবে । এঁটেল মাটিতে ১০% সার কম দিলেও চলবে । ২ মাস পর থেকে,  প্রতি ২ মাস পর পর ৭ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির কাজ চারা লাগাবার অন্ততঃ ১৫ দিন আগে শেষ করতে হবে। টবে চাষের ক্ষেত্রে ২ ভাগ মাটি, ১ ভাগ পাতা পচা সার, ১ ভাগ পচা গোবর সার মিশিয়ে টব ভরে নিতে হবে। একটি টবে ২টি কন্দ লাগানো যায়।

গাছের পরিচর্যা:

রজনীগন্ধা জমির মাটিতে সবসময় রস থাকা উচিত | শীতকালে ১০ দিন পর পর এবং গ্রীষ্মকালে ৭ দিন পর পর সেচ দেওয়া উচিত | রজনীগন্ধার জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আগাছা দমনের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কন্দের কোন ক্ষতি না হয়। আগাছা দমনে প্রয়োজনে অনুমোদিত আগাছানাশক ১.৮ কেজি/একর প্রতি স্প্রে করতে হবে | এছাড়াও, এই ফুলের চাষের জমিতে নিড়ানী দিতে হবে। নিড়ানী দেওয়ার ফলে গাছ আলো, বাতাস ও জল সহজেই পেতে পারে | নিড়ানীর ফলে জমির আর্দ্রতার ধারন ক্ষমতা বাড়ে এবং আগাছা মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

পোকা-মাকড় ও দমন পদ্ধতি (Disease Management Sytstem):

পাতার দাগ রোগ:

এ রোগের ফলে রজনীগন্ধার গাছের পাতার অগ্রভাগ থেকে প্রথমে দাগ পড়ে। পরে তা শুকিয়ে বাদামী হয়ে যায় ও ধীরে ধীরে নীচের দিকে পাতার কিনারা বরাবর ঢেউ খেলানো দাগের মত নামতে থাকে। গাছ দুর্বল হয়ে শেষে মরে যায়।

প্রতিকার:

প্রাথমিকভাবে অল্প গাছ আক্রান্ত হলে সেসব গাছের আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জমি তৈরির সময় একর প্রতি ৬ থেকে ৯ কেজি হারে রুটোন/এগ্রো-গ্রো (দানাদার) প্রয়োগ করলে শিকড়ের রোগ কম হয়।

ধ্বসা রোগ:

এ রোগের ফলে গাছের শিঁকড়ে পচন ধরে। শেষে গাছের পাতা খসে যায় এবং ফুলের মঞ্জরীগুলো মাটিতে ঢলে পড়ে।

প্রতিকার:

আক্রান্ত গাছগুলো তুলে ধ্বংস করতে হবে। গাছের গোড়ার মাটি প্রতি লিটার জলে ৪ গ্রাম কুপ্রাভিট/বেনডাজিম/ব্যাভিস্টিন/সেভিন মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছে ১৫ দিন পরপর ২ থেকে ৩ বার প্রতি লিটার জলে  ৪ গ্রাম হারে কুপ্রাভিট/বেনডাজিম/ব্যাভিস্টিন/সেভিন মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

আরও পড়ুন - খারিফ মরসুমে তিলের চাষ করে কৃষক সহজেই উপার্জন করতে পারেন অতিরিক্ত অর্থ

ফুল কাটা:

কন্দ লাগানোর ৭০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে গাছে স্টিক আসতে শুরু করে। রজনীগন্ধার স্টিকের প্রথম ফুল ফুটলেই ডাঁটিসহ ফুল কাটতে হবে। ভোরের ঠান্ডা আবহাওয়ায় অথবা পড়ন্ত বিকেলে ফুল কাটতে হবে। স্টিক কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন এটি মাটি থেকে ১.৫ থেকে ২.৫ ইঞ্চি উপরে থাকে।

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - বাড়িতে শিম চাষ করতে চান? রইলো পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters