Kendu farming guide: জেনে নিন কেন্দু ফল চাষ করার সহজ উপায়

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Kendu fruit (image credit- Google)
Kendu fruit (image credit- Google)

টেন্ডু বা কেন্দু গাছ (ডায়োস্পাইরোস মেলানোক্সন রক্সব) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, Ebenaceae, যা ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয়। স্থানীয়ভাবে এটি তেম্বুরিনী নামে পরিচিত। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় ফল যা গ্রীষ্মকালীন মধ্য প্রদেশের, ছত্তিসগড়,ঝাড়খণ্ড এবং উড়িষ্যা রাজ্যে পাওয়া যায় | ফলগুলি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ফাইবার সমৃদ্ধ |

এই অঞ্চলের উপজাতিরা লু বা গরম থেকে রক্ষা পেতে এই ফলটি খেয়ে থাকে | এই ফলে প্রচুর পরিমানে শর্করা, প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বি-ক্যারোটিন, টের্পেনয়েডস,স্যাপোনিন এবং ট্যানিন থাকে |কেন্দুল পাতা থেকে বিড়ি তৈরী হয় | গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই পাতা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে | এই পাতা বিক্রি করে কৃষকরা অর্থ উপার্জন করে থাকে |তাই কেন্দু ফল চাষে কৃষকদের আর্থিক উন্নতি হয়ে থাকে |

মাটি ও জলবায়ু(Soil and climate):

ল্যাটেরাইট এবং কালো মেটি এই গাছের বৃদ্ধির জন্য উপযোগী | এছাড়াও, বনাঞ্চলের মাটি এই গাছের জন্য ফলদায়ক | বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য, ভাল জল ধারণ ক্ষমতা এবং হিউমাস সহ মাটি প্রয়োজন | কোয়ার্টজাইট, শেল এবং বেলেপাথর সহ পাথুরে মাটিতেও এটি বেড়ে ওঠে ভালোভাবে |

শীতল এবং আর্দ্র জলবায়ুতে এটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে | কেন্দু হলো  উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফল যেখানে ০-৯০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় এই গাছ জন্মায় | বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫০০-১৫০০ মিমি এবং তাপমাত্রা ০-৪৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এই গাছের বৃদ্ধির জন্য উত্তম | উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ফল পরিপক্ক হওয়ার জন্য প্রয়োজন |

বীজ শোধন(Seed):

ঠান্ডা জলে প্রায় 12 ঘন্টা বীজ ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম হয়। স্টাম্প পদ্ধতিতে বীজ রোপণ করলে এই গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় | গ্রাফটিং পদ্ধতি দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি সম্ভব | ৫:৩:২ অনুপাতের FYM, মাটি এবং বালির মিশ্রণ পলিথিন ব্যাগে দিয়ে বীজের অঙ্কুরোদগম করা হয় | জানুয়ারি-মার্চ মাসে গ্রাফটিং করা যেতে পারে |

আরও পড়ুন -Baukul cultivation: দেখে নিন বাংলাদেশে বাউকুল চাষ করে অধিক উপার্জন করার সুযোগ

রোপন পদ্ধতি(Plantation process):

কেন্দু  হলো একটি মাঝারি আকারের গাছ বা গাছের গুল্ম যা প্রাকৃতিক অবস্থায় বনভূমিতে  বা অবনমিত জমিতে পাওয়া যায় | ভাল ধরণের মাটিতে যেমন বেলে দোআঁশ মাটিতে গাছের বৃদ্ধি হয় ভালোভাবে | মাটি ও জলবায়ুর ধরণ অনুসারে উদ্ভিদের মধ্যে ব্যাবধান ঠিক করা হয় | দেশের পূর্বাঞ্চলে  যেখানে পাথুরে মাটি বা ল্যাটেরাইট মাটি রয়েছে সেখানে গাছগুলি ৬ মিটার দূরত্বে রোপন করতে হবে |গাঙ্গেয় সমভূমিতে গাছের ব্যাবধান থাকবে ৮-১০ মিটার দূরত্বে | জুলাই-আগস্ট মাসে এই গাছ রোপণ করা হয়। যেহেতু, কেন্দু ধীর গতির উদ্ভিদ তাই ১ বছরের বেশি পুরানো উদ্ভিদ যার বৃদ্ধি রয়েছে এবং গাছটি সতেজ সবল সেরকম গাছের কয়েকটি পাতা রোপন করা উচিত | বর্গাকার পদ্ধতিতে রোপন করা উত্তম |

ছাঁটাই(Pruning):

চারাগুলি সাধারণত 2 মি x 2 মিটারে রোপণ করা হয় | বেশি পরিমানে  ছাঁটাই করা প্রয়োজন | তবে গাছগুলির বৃদ্ধি ঘটবে | অতিরিক্ত ডাল-পালা গ্রহের বৃদ্ধি ব্যাহত করে | এবং অতিরিক্ত আগাছাও ছেঁটে ফেলতে হবে | গাছগুলি সাধারণত ৬০-৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় কাটা হয়, যাতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে | কিছু অবাঞ্ছিত গাছও ফসলের বৃদ্ধির সাথে বাড়তে থাকে | আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য লাঙ্গল চালিয়ে জমি পরিষ্কার রাখতে হবে |

মালচিং(Mulching):

এটি আগাছা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মাটির আর্দ্রতাকে গাছের বৃদ্ধির জন্য বজায় রাখে | মালচিং করার সামগ্রী হলো, ধানের খড়, করাত ধুলো, শুকনো কলা পাতা, পলিথিন ইত্যাদি | কালো পলিথিন আগাছা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে উপযুক্ত। জৈব মালচিং মাটির গুণমান উন্নত করার পাশাপাশি আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং মাটির জৈবিক ক্রিয়াকলাপ উন্নত করে |

রোগবালাই ও দমন(Disease management system):

গাছের পুরোনো পাতা বেশি রোগাসক্ত হয়ে থাকে | প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক বা মানকোজেব দ্বারা এই রোগ নিরাময় সম্ভব | এছাড়াও, জৈব পদ্ধতিতে নিমতেল ব্যবহার করে এই গাছের রোগ নিরাময় করা যায় | অনেক ধরণের পোকা-মাকড়, মাছির আক্রমণও দেখা যায় এই গাছে |

আরও পড়ুন -Weed management methods: দেখে নিন ক্ষেতের আগাছা দমন করার উপায়

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters