Kharif season cash crop: অর্থকরী ফসল আখের চাষ পদ্ধতি

Thursday, 20 May 2021 02:56 PM
Sugarcane farming (Image Credit - Google)

Sugarcane farming (Image Credit - Google)

খারিফ মৌসুমে অর্থকরী ফসলের অন্যতম হলো আখ | আখ থেকে চিনি, গুড় এবং রস পাওয়া যায়। এই আখের চাষে চাষীরা ভালো লাভবান হতে পারে | তবে জেনে নিন, আখ চাষের  (Sugarcane Cultivation) সহজ পদ্ধতি

বীজ নির্বাচন (Seed selection):

রোপণের জন্য বীজ আখগুলো রোগমুক্ত, পরিপুষ্ট  এবং প্রত্যায়িত হতে হবে। ভাল অঙ্কুরোদগম, গাছের বৃদ্ধি এবং উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য অবশ্যই সুস্থ-সবল, রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত আট-দশ মাস বয়সী সতেজ আখ বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বীজ আখ শিকড়মুক্ত হতে হবে। প্রয়োজনে আখের গোড়ার এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিয়ে উপরের দুই-তৃতীয়াংশ বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বীজ আখ সংগ্রহের ৪-৫ সপ্তাহ আগে হেক্টরপ্রতি ১শ’ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করে বীজ আখের গুণগত মান বৃদ্ধি করা যায়। পটাশ ঘাটতি এলাকায় ইউরিয়ার সাথে একরপ্রতি ১৫-২০ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।

বীজখণ্ড তৈরী:

বীজ আখ কাটার পর পাতাসহ পরিবহন করতে হবে। ধারালো এবং জীবাণুমুক্ত দা, হাসুয়া, বিএসআরআই উদ্ভাবিত বীজ কাটা যন্ত্র বা বাডচিপস কাটার দিয়ে প্রয়োজনমতো এক, দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট বীজখণ্ড বা বাডচিপস তৈরি করতে হবে।

বীজ শোধন:

একবিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমির জন্য বীজখণ্ডকে ২৫ গ্রাম ছত্রাকনাশক ওষুধ ২৫ লিটার জলে মিশিয়ে তৈরি দ্রবণে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে শোধন করতে হবে।

জমি নির্বাচন (Soil):

উঁচু কিংবা মাঝারি উঁচু, সমান এবং একদিকে সামান্য ঢালু হলে ভালো হয়। নির্বাচিত জমি অবশ্যই জলাবদ্ধতা মুক্ত হতে হবে। মাটি এঁটেল দো-আঁশ কিংবা বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির হলে ভালো হয়।

জমি তৈরি:

লাঙল দিয়ে ৬-৮ ইঞ্চি গভীর আড়াআড়ি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে জমি উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। আখ রোপণের জন্য ১.৫ থেকে ৩.৫ ফুট দূরত্বে ৯-১০ ইঞ্চি গভীর নালা তৈরি করতে হবে। নালার ভেতর বেসালডোজ সার ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

আখের চারা তৈরী:

এক একর জমির জন্য ৪-৫ ইঞ্চি আকারের ০.০২ মিলিমিটার পুরু ১২ হাজার ব্যাগ (ওজনে প্রায় ৮ কেজি) প্রয়োজন হয়। ৫০ ভাগ বেলে দো-আঁশ ও ৫০ ভাগ গোবর বা কম্পোস্ট সার মিশ্রিত করতে হবে। উঁইপোকা ও মাজরা পোকা দমনের জন্য ২৫০ গ্রাম লরসবান বা ডারসবান এবং ১ কেজি ফুরাডান ৫জি মাটির মিশ্রণের সাথে মেশাতে হবে। মিশ্রিত ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ব্যাগের ৩-৪ ভাগ ভরতে হবে। চোখের ওপর ১ ইঞ্চি এবং চোখের নিচে ২ ইঞ্চি আখ রেখে তৈরি বীজখণ্ডগুলো একটি করে পলিব্যাগে চোখ উপর দিকে রেখে খাড়াভাবে স্থাপন করতে হবে। যাতে বীজখণ্ডটি ব্যাগের উপর থেকে আধা ইঞ্চি নিচে থাকে। ব্যাগের বাকি অংশ মাটি দিয়ে ভরে চাপ দিয়ে ব্যাগের মাটি এঁটে দিতে হবে। ব্যাগের মধ্যে যাতে অতিরিক্ত জল জমে চারা পচে না যায়, সে জন্য ব্যাগের তলায় ২-৩টি ছিদ্র করতে হবে। এ জন্য ব্যাগে মাটি ভরার আগেই কাগজ ছিদ্র করার পাঞ্চিং মেশিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন - আপনিও কি ধুন্দুল চাষে আগ্রহী? তবে এখনই জেনে নিন সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি

রোপণ পদ্ধতি (Planting Method):

সনাতন পদ্ধতিতে আখ রোপণ:

এ পদ্ধতিতে আখের বীজখণ্ডগুলো সরাসরি মূল জমিতে রোপণ করা হয়। ভালোভাবে জমি তৈরির পর কোদাল বা লাঙল দিয়ে নালা করে নালার ভেতর বেসালডোজ সার ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট বীজখণ্ড সরাসরি মাথায় মাথায় স্থাপন করে তার উপর প্রায় ২ ইঞ্চি মাটির আবরণে ঢেকে দিতে হবে। বীজ খণ্ডগুলোকে নালায় এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে চোখগুলো দুই পাশে থাকে। মাটিতে জো বেশি থাকলে বা আগাম রোপণে বীজখণ্ডের ওপর মাটি কম এবং জো কম থাকলে বা শীতের সময় বীজখণ্ডের ওপর মাটি বেশি দিতে হবে।

রোপা পদ্ধতিতে আখ রোপণ:

এ পদ্ধতিতে আখের চারা তৈরি করে চারাগুলো মূল জমিতে নালার ভেতর রোপণ করা হয়। আখের চারা তৈরির জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এরমধ্যে পলিব্যাগে চারা তৈরি, বীজতলায় চারা তৈরি এবং গাছচারা তৈরি পদ্ধতি প্রধান। চারা তৈরির জন্য বীজখণ্ডগুলো বিশেষ যত্নের সাথে তৈরি করা হয়। উৎপাদিত চারা স্টকলেস চারা করে সহজেই কম খরচে ধানের চারার মত দূর-দূরান্তে পরিবহন করা যায়।

চারা উৎপাদনের সময়:

শ্রাবণ- আশ্বিন মাস চারা উৎপাদনের উপযুক্ত সময়। এসময় তাপমাত্রা বেশি থাকায় চারা বেশি গজায়। আশ্বিনের পরে অঙ্কুরোদগম কমে এবং চারা উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। আশ্বিন মাসে চারা উৎপাদন করে শীতের পরেও জমিতে রোপণ করা যায়।

সার প্রয়োগ:

চাষের সময় জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য হেক্টরপ্রতি ১৫ টন পচা গোবর সার প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে | এরপর ফসফেট, জিঙ্ক, জিপসাম, ম্যাগনেসিয়াম এবং এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ প্রয়োগ করে কোদাল দিয়ে হালকাভাবে কুপিয়ে সার ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে | এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার আখের কুশি উৎপাদনের সময় ১২০-১৫০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হবে | বাকি এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রথম উপরি প্রয়োগের এক মাস পরেই দ্বিতীয় দফায় উপরি প্ৰয়োগ করতে হবে|

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - ভেষজ চাষের নতুন দিগন্ত একাঙ্গী চাষ, সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা

English Summary: Kharif season cash crop: Financial crop Sugarcane cultivation method

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.