জানুন অল্পদিনে বেশি উৎপাদনে সক্ষম ও খরা সহনশীল ফসল তিল চাষের জন্য কি কি করণীয় (Sesame Cultivation)

Saturday, 30 January 2021 03:58 PM
Sesame (Image Credit - Google)

Sesame (Image Credit - Google)

তিল এর বৈজ্ঞানিক নাম Sesamum indicum। খাবার তেল হিসাবে সর্ষের তেলের তুলনায় তিল তেল বেশি স্বাস্থ্যকর। তিল থেকে তৈরি নাড়ু, খাজা ও নানান মুখরোচক খাবারও যথেষ্ট জনপ্রিয়। পাশাপাশি প্রসাধনী শিল্পে তিল তেল ব্যবহার হচ্ছে। সব মিলিয়ে তিলের কদর বাড়ছে দিন দিন।

বসন্তে জমি ফেলে না রেখে অল্প দিনে বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম ও খরা সহনশীল ফসল তিল চাষ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন বাড়তি আয় হয় তেমনই ফসলের আচ্ছাদনে মাটির রস ও জৈব কার্বন সংরক্ষিত থাকায় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকে।

  • উন্নত জাত তিলোত্তমা—৭০-৭৫  দিনের, তেলের পরিমাণ ৪০%, কালচে বাদািম।

  • রমা— ৮৫-৯০ দিনের, তেলের পরিমাণ ৪৫%, বাদামি রঙের বীজ।

  • কৃষ্ণা— ৭৫-৮৫   দিনের,  লের পরিমাণ ৪২%, কালচে বীজ।

মাটি -

ভারী মাটি বাদ দিলে, জল নিকাশের সুবিধাযুক্ত এই রাজ্যের প্রায় সব ধরনের মাটিতে তিল চাষ করা যায়। তবে বেলে-দোঁয়াশ ও পলি-দোঁয়াশ মাটি বিশেষ উপযোগী।

বপন সময় –

উপযুক্ত সময় হল ফাল্গুন মাস। চৈত্রের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বোনা শেষ করলে ভাল হয়। কারণ দেরিতে বীজ বুনলে ফলন কমে যায়।

বীজ -

ছিটিয়ে বুনলে একর প্রতি ৩ কেজি আর লাইনে বুনলে ২.৫ কেজি। বীজ বোনার আগে প্রতি কেজি বীজের জন্য ২ গ্রাম কারবেন্ডাজিম ৫০% বা ৩ গ্রাম ম্যানকোজেব ৭৫% বা ৩ গ্রাম থাইরাম ৭৫% জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে শোধন করে নিতে হবে।

বপন - 

তিল বীজ ছোট হওয়ায় মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হবে। মাটিতে রসের অভাব থাকলে হালকা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করা প্রয়োজন। জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত জৈব সারের সঙ্গে একর প্রতি ২ কেজি ট্রাইকোডারমা ভিরিডি জৈব ছত্রাকনাশক জীবাণু সার প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে।

সারিতে বুনলে দুই সারির মধ্যে দূরত্ব থাকবে ১০-১২ ইঞ্চি এবং বীজ থেকে বীজ ৪ ইঞ্চি। ছিটিয়ে বুনলে মই দিয়ে বীজকে ভাল ভাবে মাটি চাপা দিতে হবে যাতে তিল বীজের অঙ্কুরোদগম ভাল হয়। দেখতে হবে, নিড়ান  দেওয়ার পর প্রতি বর্গমিটারে গড়ে যেন ৪০-৪৫টি গাছ থাকে।

আরও পড়ুন - নারকেল গাছে ফলন বৃদ্ধিতে সার প্রয়োগের পরিমাণ ও কীট পরিচালনা (Management Of Coconut Tree)

সার প্রয়োগ -

আলু চাষের পর তিল চাষ করলে সার না দিলেও চলে। মাটির উর্বরতা স্বাভাবিক থাকলে সেচ সেবিত জমিতে সারের হিসাব এই রকম :-

মূল সার - 

এন.পি.কে ১০:২৬:২৬ – ৪৬ কেজি বা (শেষ চাষের আগে) এস.এস.পি ৭৫ কেজি + এম.ও.পি ২০ কেজি + ইউরিয়া ২৬ কেজি একর প্রতি।

চাপান সার -

একর প্রতি ২৬ কেজি ইউরিয়া ফুলের কুঁড়ি আসার আগে (বোনার ২৮-৩০ দিনে)।

অসেচ সেবিত জমিতে ইউরিয়া চাপান না দিলেও চলে। একর প্রতি ২.৫ কেজি বোরন (১৪.৬%) অনুখাদ্য প্রয়োগে বাড়তি সুফল পাওয়া যায়। ৩০ দিনের মাথায় ১% হারে ১৮:১৮:১৮ স্প্রে করলে ফসল পায় পরিপূরক পুষ্টি।

সেচ -

তিল কম জলে চাষের ফসল। একটি সেচের সংস্থান থাকলে ৩০ দিনের মাথায় এবং ২টি সেচের সুযোগ থাকলে দ্বিতীয়টি ৫০-৫৫ দিনের মাথায় দানা বাঁধার সময় দিতে হবে।

সুসংহত শস্য রক্ষা - 

গোড়া পচা, ডাঁটা পচা ও সাদা গুঁড়ো রোগ আক্রান্ত ফসলে কারবেন্ডাজিম ৫০% ১ গ্রাম বা ম্যানকোজেব ৭৫% ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ফাইলোডি আক্রান্ত গাছের উপরভাগ চ্যাপ্টা হয়ে যায়, ফুলগুলো পাতার মতো হয়। ফুল-ফল হয় না। এটা শ্যামা পোকা বাহিত মাইকোপ্লাজমা ঘটিত রোগ। এই রোগ ও পাতা মোড়া রোগ দমনে প্রথমে আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে দিতে হবে। পরে জমিতে বাহক পোকা দমনের জন্য ডাইমিথোরেট ২ মিলি/লিটার জলে স্প্রে করতে হবে। বিছা পোকা, লেদা ও ফলছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ৩৩% গাছ আক্রান্ত হলে তবেই অ্যাসিফেট ৭৫% (০.৭৫ গ্রাম) বা প্রফেনোফস ৫০%(১.৫ মিলি) প্রতি লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফসল কাটা -

গাছের মাঝামাঝি অংশের শুঁটি ভেঙে দানা পুষ্ট হয়েছে কিনা দেখে নিন।এর পর ফসল কেটে কয়েকদিন জাঁক দিয়ে এবং ঝাড়াই মাড়াই করে ও শুকিয়ে রাখতে হবে। ভাল পরিচর্যা করলে একর প্রতি ৪.৫–৫.৫ কুইন্টাল ফলন মিলতে পারে।  

আরও পড়ুন - জানুন বরবটির বিভিন্ন জাত ও চাষের পদ্ধতি (Cultivation Methods Of Cow Peas)

English Summary: Know how to grow sesame in a short period of time

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.