Monsoon Mixed Crop: বর্ষায় মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করে হোন লাভবান

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Monsoon Crop Care (Image Credit - Google)
Monsoon Crop Care (Image Credit - Google)

বর্ষায় এসেই গেছে | এই সময়ে কৃষিতে বিভিন্ন ফসলের মিশ্র চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন | ধানের সাথে সবজি, মাছ মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করা যায় | এইসময়ে, প্রাণিসম্পদও পালন করা যায় | এই বর্ষায় কৃষিতে সফলতা পেতে, মিশ্র পদ্ধতিতে (Mixed crop farming) আপনিও চাষ করতে পারেন |

এই নিবন্ধে সে সম্পর্কে বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো,

আউশ ধান (Paddy farming):

আউশ ধানের ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য যত্ন নিতে হবে।সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রোগ ও পোকামাকড় দমন করতে হবে। বন্যার আশঙ্কা হলে আগাম রোপণ করা আউশ ধান শতকরা ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

আমন ধান: ‍

আমন ধানের বীজতলা তৈরির সময় এখন। জলে ডোবেনা এমন উঁচু খোলা জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। বন্যার কারণে রোপা আমনের বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকলে ভাসমান পদ্ধতিতে বীজতলা করে চারা উৎপাদন করতে হবে।

বীজতলায় বীজ বপন করার আগে ভাল জাতের সুস্থ সবল বীজ নির্বাচন করতে হবে। রোপা আমনের উন্নত জাত যেমন বিআর১০, বিআর২৫, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১, ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১।

ভাল চারা পেতে প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ২ কেজি গোবর, ১০গ্রাম ইউরিয়া এবং ১০ গ্রাম জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। আষাঢ় মাসে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করা যায়। মূল জমিতে শেষ চাষের সময় হেক্টর প্রতি ৯০ কেজি টিএসপি, ৭০ কেজি এমওপি, ১১ কেজি দস্তা এবং ৬০ কেজি জিপসাম দিতে হবে। জমিতে চারা সারি করে রোপন করতে হবে। এতে পরবর্তী পরিচর্যা বিশেষ করে আগাছা দমন সহজ হবে। জমির এক কোণে মিনি পুকুর খনন করে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন, যেন পরবর্তীতে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করা যায়।

পাট (Jute farming):

পাট গাছের বয়স ৪ মাস হলে ক্ষেতের পাট গাছ কেটে নিতে হবে। পাট গাছ কাটার পর চিকণ ও মোটা পাট গাছ আলাদা করে আঁটি বেঁধে দুই/তিন দিন দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। পাতা ঝরে গেলে ৩/৪দিন পাটগাছগুলোর গোড়া একফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হবে।

পাট পচে গেলে জলে আঁটি ভাসিয়ে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে পাটের আঁশের গুনাগুন ভালো থাকবে। ছাড়ানো আঁশ পরিষ্কার জলে  ধুয়ে বাঁশের আড়ে শুকাতে হবে। যে সমস্ত জায়গায় জাগ দেয়ার জলের অভাব সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে পারেন। এতে আঁশের মান ভাল হয় এবং পচন সময় কমে যায়।

ভুট্টা (Maize):

পরিপক্ক হওয়ার পর বৃষ্টিতে নষ্ট হবার আগে মোচা সংগ্রহ করে  ঘরের বারান্দায় সংগ্রহ করতে পারেন। রোদ হলে শুকিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। মোচা পাকতে দেরি হলে মোচার আগা চাপ দিয়ে নিম্ন মুখী করে দিতে হবে, এতে বৃষ্টিতে মোচা নষ্ট হবে না।

শাক–সবজি (Vegetables):

 এ সময়ে উৎপাদিত শাকসবজির মধ্যে আছে ডাঁটা, কলমিশাক, পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙা, শসা, ঢেঁড়স, বেগুন। এসব সবজির গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রয়োজনে মাটি তুলে দিতে হবে। এছাড়া বৃষ্টির জল সহনশীল লতিরাজ কচুর আবাদ করতে পারেন।

আগাম জাতের শিম এবং লাউয়ের জন্য প্রায় ৩ ফুট দূরে দূরে ১ ফুট চওড়া ও ১ ফুট গভীর করে মাদা তৈরি করতে হবে। মাদা তৈরির সময় গর্তপ্রতি ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ২ কেজি ছাই, ১০০ গ্রাম টিএসপি ভালভাবে মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতি গাদায় ৩/৪টি ভাল সবল বীজ রোপণ করতে হবে।

গাছপালা:

এ সময়টা গাছের চারা রোপণের জন্য খুবই উপযুক্ত। বসতবাড়ির আশেপাশে, খোলা জায়গায়, চাষাবাদের অনুপযোগী পতিত জমিতে বনজ গাছের চারা ছাড়াও ফল ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করতে পারেন। 

আরও পড়ুন - Potato Farming: অর্থকরী ফসল আলুর চাষাবাদ পদ্ধতি

মাছ (Fish):

ধানের জমিতেই জলের মধ্যে মৃগেল, কাতলা, রুই ইত্যাদি মাছ চাষ করা যায় | ধান ও মাছের একসাথে চাষ করে বেশ লাভবান হওয়া যায় |

আরও পড়ুন - Kendu Fruit Farming: কিভাবে কেন্দু ফল চাষ করা হয়, জেনে নিন পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters