Orchid Farming: জেনে নিন অর্কিড ফুল চাষ পদ্ধতি ও রোগদমন ব্যবস্থা

Thursday, 10 June 2021 02:20 PM
Orchid (Image Credit - Google)

Orchid (Image Credit - Google)

অর্কিড এক অতি জনপ্রিয় ফুল | এক অনিন্দ সুন্দর ফুল হিসেবে এর খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। বলা হয়, ফুল উৎপাদনোক্ষম উদ্ভিদ জগতে অর্কিড একটি বিশাল পরিবার, যার প্রায় ৯০০ গণ এবং ৩০,০০০ এরও অধিক প্রজাতি রয়েছে। ফুলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আকর্ষণীয় রঙ, বিভিন্ন ধরনের গড়ন, সুগন্ধ, ঔষধি গুণাগুণ, দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল। এই অর্কিড ফুলের গঠন বৈচিত্র্যে বিস্মিত হয়ে প্রাচীন চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস সেরাফুল  বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

এই নিবন্ধে অর্কিড চাষের (Orchid Cultivation) বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো;

জলবায়ু (Climate):

অর্কিড ছায়াযুক্ত সুনিষ্কাশিত কিন্তু স্যাঁতস্যাঁতে জমিতে চাষ করা যায়। প্রখর সূর্যের আলোতে এ ফুল ভালো হয় না | চাষের জন্য জমিতে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হয়, যাতে ৪০-৬০% সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। টবে চাষের ক্ষেত্রে বড় গাছের নিচে এ ফুলের চাষ করা যেতে পারে। এ জাতটি বহুবর্ষজীবী।

বংশবিস্তার:

গাছের ফুল বা ফুল কাটার পর প্রতিটি গাছ থেকে পার্শ্বীয়ভাবে সাকার বের হয়। এই সাকারসমূহ গাছে লাগানো অবস্থায় যখন শিকড় বের হয় তখনই গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মূল জমিতে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া কেটে ফেলা ফ্লাওয়ার স্টিকের ফুল শেষ হয়ে গেলে তা থেকেও চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। এজন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

রোপণ (Plantation):

বিভাজন  প্রক্রিয়ায় গাছ থেকে সাকার সংগ্রহ করে অথবা টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারা তৈরি করে জমিতে লাগাতে হবে। পচা গোবর/কম্পোষ্ট, নারকেলের ছোবরা, ধানের তুষ ও বেলে দোআঁশ মাটির সমপরিমাণ মিশ্রনের মাধ্যমে বেড তৈরি করতে হবে। সাকার লাগানোর সময় সারি থেকে সারি ৩০-৪০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছে ২৫-৩০ সেমি দূরত্ব দরাখতে হবে। সাকার লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শিকড়গুলো পুরোপুরি মাটির নিচে থাকে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer):

ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সমৃদ্ধ ২০:২০:২০ মিশ্র সার বেশ উপযোগী। সার জলে গুলিয়ে সপ্তাহে এক বা দু’দিন গাছে স্প্রে করতে হয়। স্প্রে করার সময় গাছের পাতা যেন ভালোভাবে ভিজে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সেচ:

মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রস থাকতে লাগানোর পর হালকা সেচ দিতে হয় যাতে সাকারগুলো মাটিতে লেগে যায়। পরবর্তীতে আবহাওয়ার আবস্থা বুঝে সেচ দিতে হবে। এছাড়াও এ ফুল চাষের জন্য বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ বজায় রাখতে হলে স্প্রিংকলার দিয়ে মাঝে মাঝে জল স্প্রে করতে হবে। জমিতে দাঁড়ানো জল  এ ফসলের জন্য ক্ষতিকর। তবে, ফুলের বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজনও হয় |

রোগবালাই ও দমন (Disease management system):

এ ফুলটিতে সাধারণত কোন রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা যায় না। তবে ভাইরাস রোগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ফুলের কুঁড়ির কীড়া দমনের জন্য যে কোন  কীটনাশক অনুমোদিত প্রয়োগ মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন - Ice Apple Farming: আপনিও কি মিষ্টি তাল শাঁস চাষে ইচ্ছুক? জেনে নিন কৌশল

ফুল সংগ্রহ:

সাকার থেকে গাছ লাগানোর ১ বছরের মধ্যেই ফুল আসে। অপরদিকে টিস্যুকালচার থেকে প্রাপ্ত চারা থেকে ফুল পেতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগে। বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে স্টিকের ১ বা ২টি ফুল ফোটার সাথে সাথে কাটতে হবে। বাগানে বা টবে সৌখিন চাষের ক্ষেত্রে ফুল কাটার প্রয়োজন নেই। হেক্টর প্রতি প্রথম বছরে ৮০০০ স্টিক, দ্বিতীয় বছরে  ১৫০০ স্টিক, তৃতীয় বছরে ২৫০০০ স্টিক উৎপাদিত হয় |  এছাড়া প্রতিবছর গাছ থেকে চারা রেখে ২-৫টি সাকার সংগ্রহ করা সম্ভব |

নিবন্ধ: রায়না ঘোষ

আরও পড়ুন - Onion Farming: স্বল্প ব্যয়ে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

English Summary: Orchid Farming: Learn about orchid flower cultivation methods and disease control measures

আপনার সমর্থন প্রদর্শন করুন

প্রিয় অনুগ্রাহক, আমাদের পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার মতো পাঠকরা আমাদের কৃষি সাংবাদিকতা অগ্রগমনের অনুপ্রেরণা। গ্রামীণ ভারতের প্রতিটি কোণে কৃষক এবং অন্যান্য সকলের কাছে মানসম্পন্ন কৃষি সংবাদ বিতরণের জন্যে আমাদের আপনার সমর্থন দরকার। আপনার প্রতিটি অবদান আমাদের ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান।

এখনই অবদান রাখুন (Contribute Now)

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.