Orchid Farming: এই ফুল চাষে আপনিও হবে লাভবান, জেনে নিন অর্কিডের চাষপদ্ধতি

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Orchid tree (image credit- Google)
Orchid tree (image credit- Google)

অর্কিড (Orchid) ফুলের পরিচিতি ও খ্যাতি বিশ্বজোড়া | রঙিন  এই ফুল প্রত্যেকের কাছেই বেশ আকর্ষণীয় | উদ্ভিদ জগতে অর্কিড একটি বিশাল পরিবার যার প্রায় ৩০,০০০ এরও অধিক প্রজাতি রয়েছে | শুধুমাত্র অর্কিড বিক্রি করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন থাইল্যান্ডের কৃষকরা | যা রপ্তানি হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এবং এই ফুলের চাহিদাও বেশি | বর্তমানে, এ রাজ্যেও অর্কিড চাষ হচ্ছে এবং এই চাষে কৃষকরা লাভবান হবে বিপুলভাবে | শুধুমাত্র অর্কিড চাষ করে মাসে ২০  হাজার টাকারও বেশি আয় করা সম্ভব |

মাটি ও জলবায়ু(Soil and climate):

প্রধানত, ছায়াযুক্ত সুনিষ্কাশিত কিন্তু স্যাঁতস্যাঁতে জমিতে চাষ করা যায় অর্কিড | প্রখর সূর্যালোকে এই ফুল ভালোভাবে জন্মাতে পারেনা | বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের জন্য সেডনেট দিয়ে ছায়ার বাবাঅস্থা করতে হবে | তাহলে, ৪০-৬০% সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারবে | টবে চাষের ক্ষেত্রে বড় গাছের নিচে এ ফুলের চাষ করা যেতে পারে | এ রাজ্যে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে একাধিক নার্সারিতে অর্কিড চাষ করা হয়েছে |  প্রায় ৩০০ অর্কিড গাছ থেকে প্রচুর ফুল মিলেছে  চাষীভাইদের| এই বাণিজ্যিক লাভ দেখেই অনেকেই অর্কিড চাষে যুক্ত হয়েছে

চারা উৎপাদন:

সাধারণত, গাছের ফুল বা ফুল কাটার পর প্রতিটি গাছ থেকে পার্শ্বীয়ভাবে সাকার বের হয় | এই সাকারগুলি গাছে লাগানো অবস্থায় যখন শেকড় বের হয়, তখনি এগুলি গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মূল জমিতে লাগানো হয় | এছাড়াও, বিশেষ প্রযুক্তির ব্যাবহারে কেটে ফেলা ফ্লাওয়ার স্টিকের ফুল শেষ হয়ে গেলে তা থেকেও চারা উৎপাদন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন -Green Malta Farming: গ্রিন মাল্টা চাষ করে ৬ লাখ টাকার ওপরে আয় কৃষক আব্দুর রহমানের

জমি তৈরী:

বিভাজন প্রক্রিয়ায় গাছ থেকে সাকার সংগ্রহ করে বা টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারা তৈরি করে জমিতে লাগাতে হয়। এই ধরণের চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি প্রয়োজনীয় | ধানের তুষ, নারকেল ছোবড়া এবং পচা গোবর বা কম্পোস্ট মাটির সাথে মিশিয়ে জমি তৈরী করতে হবে |

রোপণ(Planting):

সাকার লাগানোর সময় সারি থেকে সারি ৩০-৪০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখতে হয় | সাকার লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, শেকড়গুলো পুরোপুরো যেন মাটির নিচে থাকে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি- র ২০:২০:২০ মিশ্রণ সারের জন্য উত্তম | এই মিশ্রণ জলের মধ্যে গুলিয়ে সপ্তাহে একদিন বা ২ দিন গাছে স্প্রে করতে হবে | স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, গাছের পাতা যেন ভালোভাবে ভিজে যায় |

সেচ:

মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমানে রস থাকাকালীন হালকা সেচ দিতে হবে | তাহলে সাকারগুলো মাটিতে লেগে থাকবে | এর পরবর্তীতে আবহাওয়ার অবস্থা অনুযায়ী সেচ দিতে হবে | এছাড়াও, ফুল চাষের জন্য বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ ডিগ্রি বজায় রাখতে হয় | এই জন্য, স্প্রিংকলার দিয়ে মাঝে মাঝে জল স্প্রে করতে হবে | অর্কিড চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হলেও জমিতে জল জমা এ ফসলের জন্য খুবই ক্ষতিকর |

রোগবালাই ও দমন(Disease management system):

সাধারণত, ফুলটিতে কোনো পোকা বা রোগের আক্রমণ দেখা যায়না | তবে, ভাইরাস আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে | ফুলের কুঁড়ির পোকা দমনের জন্য যেকোনো সিস্টেমিক কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে | তবে, রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহারও বেশ ফলদায়ক |

ফুল কাটার নিয়ম:

সাকার থেকে গাছ লাগানোর একবছরের মধ্যেই ফুল আসতে থাকে | মূলত ফুল আসার সময় ফাল্গুন-চৈত্র মাস। অপরদিকে টিস্যু কালচার থেকে পাওয়া চারা থেকে ফুল পেতে কমপক্ষে আঠারো মাস সময় লাগে। বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে স্টিকের এক বা দুটি ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাটতে হবে | বাগানে বা টবে সৌখিন চাষের ক্ষেত্রে ফুল কাটার প্রয়োজন থাকেনা, এ ক্ষেত্রে গাছে প্রায় ৩০-৪৫ দিন পর্যন্ত ফুল টিকে থাকে।

আরও পড়ুন - Green House Farming: গ্রিন হাউজ চাষ পদ্ধতির বিশেষত্ব ও সুবিধা

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters