Pokkali Rice Farming: বিশ্বের প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম ধান হলো পোক্কালি

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Pokkali paddy farming (image credit- Google)
Pokkali paddy farming (image credit- Google)

পোক্কালি লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের একটি অনন্য জাত | এই ধান উপকূলীয় জলাবদ্ধ অঞ্চলে জৈব উপায়ে বিস্তীর্ণ আকারে জলজ পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষ করা হয়। দক্ষিণ ভারতের কেরলের আলেপ্পি, ত্রিশূর এবং এর্নাকুলাম জেলায় প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমিতে এই ধানের চাষ হচ্ছে। পোক্কালি ধানের (ও চাল) জাতটি চেন্নাইয়ের ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন কার্যালয় থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (GI ) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ধান চাষ বিশ্বের প্রাচীনতম জৈব চাষ কৌশলগুলির মধ্যে একটি |

কেরালার ত্রিশুর, আলাপ্পুজা এবং এরনাকুলাম জেলায় প্রায় ৫০০০ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধ উপকূলীয় অঞ্চলে জৈবিকভাবে ধানের চাষ হয়। বর্তমানে, এ রাজ্যের সুন্দরবন অঞ্চলেও এই ধানের চাষ হয়ে থাকে | সুন্দরবন অঞ্চলে সাগরের নোনা জল ঢুকে ধানজমিগুলিকে কার্যত ধানচাষের  (Pokkali paddy) অযোগ্য করে দেয়। কিন্তু এই নোনা জমিতে পোক্কালি ধান চাষ করে আয়ের মুখ দেখছেন কৃষকরা |

আরও পড়ুন -Papaya Farming Method: জেনে নিন পেঁপের সহজ চাষাবাদ পদ্ধতি

পোক্কালি ধানের বিশেষত্ব(Importance of pokkali):

পোককলি চাষ বিকল্প জলচাষ দিয়ে করা হয়। এই ধান চাষে কোনো সারের ব্যবহার নেই। জৈবভাবে জন্মানো পোক্কালি চাল তার অসাধারণ স্বাদ এবং উচ্চ মাত্রার প্রোটিন উপাদানের জন্য খ্যাত। কৃষকরা দাবি করেন যে পোক্কালি চালের দানা অতিরিক্ত বড় এবং এর বেশ কয়েকটি ওষধি গুণ রয়েছে। তারা এও দাবি করেন যে অতীতে পোক্কালি চাল (চালের ভাত) মৎস্যজীবীদের সারা দিন সমুদ্রে থাকার শক্তি সরবরাহ করত। এমনকি আমেরিকার আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় পোক্কালি ধানের জন্য একটি ডিএনএ লাইব্রেরি বা সংগ্রাহাগার তৈরি করেছে |

পোক্কালি ধান চাষ পদ্ধতি(Pokkali farming process):

এই ধান জুন থেকে নভেম্বর মাসের শুরুতে চাষ হয় | এই সময় জমিতে জলে লবণের মাত্রা কম থাকে | নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যখন লবণাক্ততা বেশি থাকে তখন চিংড়ি চাষ শুরু হয়। সবথেকে বড় ব্যাপার হলো, ধান কাটার পরে চিংড়ির পোনাগুলো জলের উপর সাঁতার কাটে এবং কাটা ফসলের বাকি অংশ সেগুলোকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয়। জমিতে জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে নালা ও জলকপাট ব্যবহৃত হয়। ধানের ফসল, যা অন্য কোনও সার বা সার না পায়, চিংড়ির মলমূত্র এবং অন্যান্য অবশিষ্টাংশের থেকে পুষ্টি যোগায়।

জোয়ারের প্রবাহ যেহেতু জমিগুলোকে অত্যন্ত উর্বর করে তোলে, তাই কোনও সার বা রাসায়নিক প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না | ধানের চারাগুলো কেবল প্রাকৃতিক উপায়েই বৃদ্ধি পায়। জলাবদ্ধ জমিতে টিকে থাকার জন্য ধানের গাছগুলো ১৩০-১৪০ সেমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পরিপক্ব হওয়ার পরে এগুলো উপরের অংশে বেঁকে যায় এবং শুধুমাত্র ধানের শাখামঞ্জরীটি দাঁড়িয়ে থাকে। অক্টোবরের শেষের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা হয়। কেবল শাখামঞ্জরীগুলো (প্যানিকেল) শীর্ষ থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার কেটে ফেলা হয় এবং বাকি অংশ জলে ক্ষয়ে জমিতে থেকে যায় | যা সময়মতো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে চাষ শুরু হওয়া চিংড়ির জন্য খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

পোক্কালি ধানের ইতিহাস(History of Pokkali):

অনেক বছর আগে একবার ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। এই বন্যার জল পশ্চিম ঘাট থেকে কেরলের নিম্নাঞ্চল, জলাবদ্ধ অঞ্চলে পোক্কালির বীজ পুরো ধুয়ে দিয়েছিলো। অথচ এই জায়গায় ধানে বিভিন্ন জাত বেঁচে থাকে ও সমৃদ্ধ হয় | এটি কথিত আছে যে গোয়া থেকে কেরালায় চলে আসা কুডুম্বি সম্প্রদায় তাদের সাথে এই ধানের বীজ নিয়ে এসেছিল। এই ধানের চাষ শ্রীলংকাতেও হয়ে থাকে |

কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ থাকা সত্ত্বেও, কোনোরকম সার ছাড়া জলাবদ্ধ জায়গায় জন্মানো এই ধান খুবই উপকারী | পোক্কালি ধান ও জলজ প্রাণী একে অন্যের ওপর ভরসা করে বেড়ে ওঠে | এরা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে |

আরও পড়ুন -Hydroponics Farming: হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে চাষ করে হয়ে উঠুন লাভবান

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters