Pomegranate Cultivation: জেনে নিন বেদানা চাষের সম্পূর্ণ চাষ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

রায়না ঘোষ
রায়না ঘোষ
Pomegranate tree (image credit- Google)
Pomegranate tree (image credit- Google)

বেদনা একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ, যা ৫-৮ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় | এর ইংরেজি নাম পমেগ্রেনেট (pomegranate)। সংস্কৃত এবং নেপালি ভাষায় বলা হয় দারিম। এই লাল রঙের মিষ্টি ফল কিন্তু আপনার লক্ষীলাভে খুবই সহায়ক | আপনি কিন্তু আপনার ছাদ-বাগানে খুব সহজেই ডালিম বা বেদনা চাষ করতে পারেন | শুধু ফল হিসাবে নয় এই ডালিমের অনেক ঔষধী গুণও রয়েছে | নিয়মিত পরিচর্যা করলে এই গাছ থেকে সারা বছর ফল পাওয়া যায় । ছাদ বাগানে  টবে বা ড্রামে খুব সহজেই ডালিম তথা বেদনার চাষ করা যায় | এবং সেই লাভ আপনি ঘরে তুলতে পারেন অনায়াসে |

বেদানার চাষ পদ্ধতি(pomegranate farming process):

বেদানার চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি টব বা ড্রাম নিয়ে নিতে হবে | ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে, যাতে গাছের গোড়ায় একেবারেই জল জমে না থাকে। টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে । এবার বেলে দোআঁশ মাটি ২ ভাগ, গোবর ১ ভাগ, টিএসপি ৪০-৫০ গ্রাম, পটাশ ৪০-৫০ গ্রাম এবং ২০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টবে জল দিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে। তারপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে  আলগা করে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন আগের মতো একইভাবে রেখে দিতে হবে।

রোপণ পদ্ধতি:

মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি কলমের চারা সেই টবে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় গাছের গোড়া মাটি থেকে কোনভাবে যেন আলাদা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চারা গাছটিকে সোজা করে সঠিকভাবে রোপণ করতে হবে। তারপর গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উঁচু করে হাত দিয়ে মাটি চেপে দিতে হবে। যাতে, গাছের গোড়া দিয়ে জল যাতে বেশি ঢুকতে না পারে । একটি লাঠি বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে। চারা রোপণের শুরুর দিকে জল অল্প দিলেই চলবে। তবে, কোনোভাবেই যেন গাছের গোড়ায় জল জমে না থাকে | মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দিলে প্রয়োজনমতো গাছে সেচ দিতে হবে।

আরও পড়ুন - Lotus cultivation guide: কিভাবে ঘরে চাষ করবেন পদ্মফুল, জেনে নিন পদ্ধতি

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

চারা লাগানোর আগে ফলন বৃদ্ধির জন্য গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে | প্রতি বছর গাছে নিয়মিতভাবে সার দিতে হবে |গর্ত করার ৮-১০ দিন পর গর্তের মাটির সাথে ১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৭০ গ্রাম জিপসাম, ১০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি ও ৫০০ গ্রাম কম্পস্টের গুঁড়ো মিশিয়ে দিতে হবে | ১ বছর বয়সের প্রতিটি গাছে টিএসপি ১২৫ গ্রাম, গোবর ১০ কেজি, পটাশ সার ১২৫ গ্রাম এবং ইউরিয়া ১২৫ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি বছর সারের মাত্রা একটু করে বাড়াতে হবে। পর্যায়ক্রমে পূর্ণ বয়স্ক ১ টি গাছে ১.৫ কেজি ইউরিয়া, ৬০ কেজি গোবর, ১.৫ কেজি টিএসপি এবং ১.৫ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হবে। এই পরিমান সার  ২ বারে গাছে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বারে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ( মে- জুন ) মাসে এবং ২য় বারে আশ্বিন-কার্তিক ( সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ) মাসে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে হবে।

আগাছা দমন:

এই চাষে লক্ষ্য রাখতে হবে, ডালিম গাছের গোড়ায় কোন প্রকার যেন আগাছা না লেগে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এজন্য নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কারণ, ডালিমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ না হলে গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

রোগবালাই ও দমন(Disease Management system):

কান্ড ছিদ্রকারী পোকা:

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে দেখা যায়। এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড ও শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে। দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এই শূঁককীট লুকিয়ে থাকে ও বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে। কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে এ পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়।

প্রতিকারঃ

 গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে। গর্ত থেকে এ পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে।

ফল পচা রোগ:

ছত্রাকজনিত এই রোগটি সাধারণত বর্ষাকালে দেখা যায়। এ রোগের জীবাণু দিয়ে ফুল আক্রান্ত হলে ফলধারণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং কচি ফল ঝরে যায়। ফলের গায়ে, বিশেষ করে বোঁটায় হলদে বা কালো দাগ দেখে এ রোগের আক্রমণ বোঝা যায়। এই রোগের আক্রমণে ফলের খোসা কুঁচকে যায় ও ফলের ওজন কমে যায়। আক্রান্ত ফল কাঁচা থাকে, আকার ছোট হয় এবংফলের উজ্জ্বলভাব নষ্ট  হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফল নরম হয়ে পচে যায়।

প্রতিকার:

রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার জলে ২ গ্রাম হারে মেনকোজেব (ইণ্ডোফিল এম ৪৫/ ডিইথেন এম ৪৫) বা ১ গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম( নোইন/ অটোস্টিন/এমকোজিম) জলে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

ফলনঃ

ডালিম গাছ  সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই ফল দিতে শুরু করে। সাধারণত ৮-১০ বছর বয়স থেকে ডালিম গাছ ভালো ফলন দিয়ে থাকে। প্রথম ফল ধরার সময় গাছপ্রতি ২০-২৫ টির বেশি ফল পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর বয়সের গাছে গড়ে ১০০-১৫০ টি ফল ধরে। তবে ভালো পরিচর্যা নিলে গাছপ্রতি ২০০-২৫০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে। প্রধানত, একটি ডালিম গাছ ৩০ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফলন দিতে পারে। তাই এই চাষে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন অধিক লাভবান |

আরও পড়ুন -Honey farming method: জেনে নিন সহজ উপায়ে মধু চাষের পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am রায়না ঘোষ . Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters