ফসলের পোকা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের পরিবর্তে ব্যবহার করুন জৈব কীটনাশক ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস

KJ Staff
KJ Staff

ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (বি.টি) নামক ব্যাকটেরিয়া একটি পাকস্থলীজনিত জৈব কীটনাশক। পোকার হাত থেকে শস্যকে রক্ষা করতে রাসায়নিকের পরিবর্তে ব্যবহার করুন জৈব কীটনাশক বি.টি। এটি সাধারণত বাহকের সঙ্গে মেশানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া মথ জাতীয় পোকার লার্ভা বা লেদা, যেমন লঙ্কা, টমেটো ও ছোলার ফলছিদ্রকারী লেদা, বিভিন্ন ফসলের কাটুই পোকা, বাঁধাকপি ও সরষের তিড়িং পোকা, আমের শূলী পোকা, বেগুনের নলে পোকা, তুলার বিভিন্নরকম লেদা ইত্যাদি দমনে বিশেষ কার্যকরী।

ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস (বিটি) দ্বারা উত্পাদিত টক্সিন ১৯২০ সাল থেকে কীটনাশক স্প্রে হিসাবে  জৈব চাষে সাধারণত ব্যবহৃত হয়। বিটি জিনগতভাবে খাদ্য শস্যের বিভিন্ন পোকার কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ করতে নিজেরাই টক্সিন তৈরি করে ফসলকে সুরক্ষা প্রদান করে।

খাবারের সঙ্গে লেদা পোকার পাকস্থলীতে এই কীটনাশকের কনা ঢোকার পর দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে পোকার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং পোকার দেহে পুঁজ জমে গিয়ে সেপ্টিক হয়ে লেদা ২-৩ দিনের মধ্যে মারা যায়। বি.টি.-এর বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলি হল- প্রথমে লেদার খাওয়া বন্ধ হয়, তারপর অনাহারে থাকে এবং শেষে পক্ষাঘাত হয়ে মারা যায়।

মথ বা প্রজাপতির ডিম বা ছোট ছোট লেদা নজরে পরা মাত্রই এই কীটনাশকটি প্রয়োগ করা একান্ত দরকার। টোপ সহ জৈব ফাঁদ ব্যবহার করে এর প্রয়োগ করলেও নিশ্চিত ফল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে হলে, এটি ১৫ দিন অন্তর, বিকেলের দিকে স্প্রে করতে হবে।

মানুষের শরীরে এর কোন ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। ফসলে এর কোন ক্ষতিকারক অবশিষ্টাংশ থাকে না। এটি পোকার কোন প্রতিরোধী জাত সৃষ্টি করে না, উদ্ভিদ, প্রাণী, মাছ, পাখি পরভোজী ও পরজীবী বন্ধুপোকাদের উপর এর কোন ক্ষতিকারক প্রভাব নেই বলে আই.পি.এম (Integrated Pest Management) –এ আদর্শ কীটনাশক হিসাবে কাজ করে।

প্রয়োগ বিধি –

১) প্রতি লিটার জলে ১-২ গ্রাম বাহকযুক্ত জৈব কীটনাশকটি খুব ভালো করে মেশাতে হবে। প্রথমে পাউডারটি অল্প জলে লেই তৈরী করে তারপর স্প্রেয়ার ভর্তি জলে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

২) যদি সম্ভব হয়, ৫০ গ্রাম নিম বীজ গুঁড়ো ১ লিটার পরিমাণ জলে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর ছাঁকনি বা কাপড়ের সাহায্যে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর ১-২ গ্রাম বি.টি ও ০.৫ এম.এল অ্যাডজুভেন্ট ঐ জলে ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

সতর্কতা –

  • শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখুন।
  • রোদ, তাপ, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের কাছে রাখবেন না।
  • প্যাকেটে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।

স্বপ্নম সেন (swapnam@krishijagran.com)

তথ্যসূত্র – শুভ্রজ্যোতি চ্যাটার্জ্জী  

 

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters