পেশ হলো ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষের কৃষি বাজেট

Friday, 01 February 2019 01:26 PM
লোকসভায় পরিবর্ত ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী-রেলমন্ত্রী শ্রী পীয়ুষ গোয়েল ২০১৯-২০ আর্থিক বৎসরের অন্তরবর্তী বাজেট পেশ করছেন।

লোকসভায় পরিবর্ত ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী-রেলমন্ত্রী শ্রী পীয়ুষ গোয়েল ২০১৯-২০ আর্থিক বৎসরের অন্তরবর্তী বাজেট পেশ করছেন।

আজ ভারতীয় সংসদে ২০১৯-২০ আর্থিক বৎসরের অন্তরবর্তী বাজেট পেশ চলছে। অর্থমন্ত্রী শ্রী অরুণ জেটলির অনুপস্থিতিতে পরিবর্ত ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী রেলমন্ত্রী শ্রী পীয়ূষ গোয়েল আর্থিক বাজেট পেশ করছেন। প্রারম্ভিক অধিবেশনে এই তিনি কৃষিতে আগামী আর্থিক বৎসরের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি প্রথমেই কৃষি ও কৃষকদের উন্নতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক চিন্তার কথা ঘোষণা করেছেন। ২০২২ সালের মধ্যে ভারতীয় কৃষকদের কৃষিক্ষেত্র থেকে রোজগার দ্বিগুণ করার উদ্দেশ্য, এবং ভারতীয় কৃষির উন্নতির স্বার্থে একটি কৃষিস্বার্থ সংরক্ষণমুখী অন্তর্বতী বাজেট পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিগত আর্থিক বর্ষে কৃষি উৎপাদন অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পান নি, এর একটি কারণ হলো ফসলের অতিউৎপাদন এবং দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের দাম পড়ে যাওয়া। 

শুধুমাত্র কৃষিই নয় বিগত আর্থিক বৎসরে কৃষি সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষেত্রগুলিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী আর্থিক বৎসরে যাতে এই ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায় এবং ভারতীয় কৃষিকে যাতে লাভজনক নিয়ে আসা যায় সেই দিকে নজর রেখে “প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নীধি” চালু করা হচ্ছে, অবশ্য এই বিষয়টিতে তাঁদেরই বেশী লাভ হবে যারা প্রধানত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক অর্থাৎ যাঁদের জমির পরিমাণ ২ হেক্টর বা তারও কম। এই নীতির আওতায় থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের প্রতি বৎসর ৬০০০ টাকা “ডাইরেক্ট ইনকাম সাপোর্ট” দেওয়া হবে, এই রাশি কৃষকদের জনধন অ্যাকাউন্টে বৎসরে তিনটি কিস্তিতে সরাসরি জমা হয়ে যাবে, অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ২০০০ টাকা করে জমা করা হবে। এই রাশির মাধ্যমে হিসাবমত দেশের ১২ কোটি কৃষক পরিবার উপকৃত হবে, এবং তাঁদের কথা ভেবেই প্রতি চাষের মরশুমের প্রাক্কালে এই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় রাশি জমা করা হবে। এই নীতি অনুসারে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা জমা করা হবে, এবং এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। 

শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয় পশুপালন ক্ষেত্রেও প্রাধানমন্ত্রীর যোজনা থাকছে, গোপালন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর যোজনা “রাষ্ট্রীয় গোকূল মিশন” এর ক্ষেত্রে বরাদ্ধ হচ্ছে ৭.৫ হাজার কোটি। গোয়েল আরো বলেন ভারত মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং পূর্ববর্তী বৎসরের তুলনায় ৬.৩% উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে। বাজেটে মৎস্য ক্ষেত্রের উন্নতিকল্পে একটি আর্থিক সহায়ক অংশ থাকছে। কিষান ক্রেডিট কার্ড-এর মাধ্যমে গৃহীত ঋণের সুদের পরিমাণ ২% কম করা হয়েছে, এবং সময় মতো ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সেই সুদের পরিমাণ ৩% বিশেষ সুদ ছাড় দেওয়া হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে সহায়ক মূল্য প্রদান করা হবে এবং সেক্ষেত্রে সঠিক সময়ে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৫% পর্যন্ত সুদ ছাড় দেওয়া হবে। সুতরাং, অন্তরবর্তী বাজেট এবছর কৃষকদের জন্য একটি বরদান হতে চলেছে এটা বলাই বাহুল্য। 

- প্রদীপ পাল (pradip@krishijagran.com)

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.