বাতাসের দূষণকে বন্দী করে তা থেকে জ্বালানি তৈরীর দিশা দেখিয়ে ভাটনগর পেলেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী!

Monday, 01 January 0001 12:00 AM

এ বছর রসায়নে ভাটনগর পুরস্কার জয়ী দুই বাঙালি বিজ্ঞানী ড: স্বাধীন মণ্ডল ও ড: রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। বাতাসের দূষণ থেকে বিকল্প জ্বালানি তৈরীর দিশা দেখিয়ে আমাদের রোজকার জীবনে কাজে লাগানোর উপায় দেখিয়েছেন ,যা তুলনামূলক ভাবে সস্তা ও করা যায় সহজে। ওই দুই কৃতিত্বের জন্য এ বছর রসায়নে ভাটনগর পুরস্কার পেলেন তাঁরা। ড: স্বাধীন মণ্ডল মোহনপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (আই আই এস এ আর-কলকাতা)-এর ডিপার্টমেন্ট অফ কেমিক্যাল সায়েন্সেসের বিভাগীয় প্রধান  এবং ড: রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অফ কেমিস্ট্রির ফেলো।

বিজ্ঞানে ভারতের এই সেরা পুরস্কারের ঘোষণা করেছে ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’ (সি এস আই আর)। তাঁরা বাতাসের বিষকে ঘিরে ফেলার’ (ক্যাপচার) খুব সস্তা আর সহজ উপায় দেখিয়েছেন এই প্রথম, যাতে ধাতুকে ব্যবহার করতে হয় না। ফলে, ধাতুর অক্সাইড, নাইট্রেট, নাইট্রাইট যৌগগুলি থেকে বাতাসে নতুন করে বিষ মেশার সম্ভাবনা থাকে না। তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে নেচার’, ‘জার্নাল অফ আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির মতো আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নালে।

কলকারখানার ধুলো-ধোঁয়া আর বর্জ্য পদার্থ প্রতি মুহূর্তেই বাতাসে দূষণ বাড়িয়ে তুলেছে। যত শিল্পোৎপাদন বাড়ছে, গাড়িঘোড়া বাড়ছে পেট্রল, ডিজেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি (ফসিল ফুয়েল)-র ব্যবহার, ততই আরও বেশি পরিমাণে এই দূষিত গ্যসগুলি (কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড ইত্যাদি) মিশছে বাতাসে। যার জেরে বাড়ছে উষ্ণায়ন।

উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাতাসে ওই বিষের পরিমাণ কমানো যখন প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে, তখন ওই বিষকে ঘিরে ফেলা’ (ক্যাপচার) আর তাকে মানুষের রোজকার জীবনে কাজে লাগানোর (কনভার্ট) জোর চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বেই। ক্যাপচার আর কনভার্ট, ওই দুটি পদ্ধতিকে এক সঙ্গে বলা হয় সি-টুপ্রক্রিয়া।

এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো বিষগুলিকে খুব সহজে ঘিরে ফেলা বা ক্যাপটার করা যায় না। কারণ, সেগুলি গ্যাসীয় পদার্থ। কঠিন বা তরল পদার্থকে ঘিরে ফেলা যতটা সহজ, কোনও গ্যাসীয় পদার্থকে ঘিরে ফেলা ততটাই কঠিন! তাই বাতাসের বিষকে ক্যাপচার করার বিভিন্ন পদ্ধতিতেই কিছু ফাঁক থেকে গিয়েছে। কারণ, বিষকে ক্যাপচার করার জন্য বিশেষ ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া (কেমিক্যাল রিঅ্যাকশান) ঘটানোর প্রয়োজন হয়। আর সেই বিক্রিয়াগুলি যাতে খুব তাড়াতাড়ি হয়, তার ঘটকালি করে কয়েকটি বিশেষ পদার্থ। যেগুলিকে বলা হয় ক্যাটালিস্ট বা অণুঘটক। কোনও বিক্রিয়ার গতি বাড়াতে সাহায্য করলে সেই ক্যাটালিস্টগুলি হয় পজিটিভ। আর বিক্রিয়ার গতিতে শ্লথ করে সেই অণুঘটকগুলিকে নেগেটিভ ক্যাটালিস্টবলা হয়।

বাতাসের বিষকে ক্যাপচার করার জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পজিটিভ ক্যাটালিস্ট ব্যবহার করা হয়। আর গোটা বিশ্বে এখনও সেই ক্যাটালিস্ট বানানো হচ্ছে মূলত ধাতু দিয়ে। সেগুলি খুব সহজলভ্য ধাতুও নয়। তাই ওই পদ্ধতিগুলি খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। ওই ধাতুগুলির মধ্যে রয়েছে প্যালাডিয়াম, ইরিডিয়াম, প্ল্যাটিনাম, রোডিয়াম, রুথেনিয়ামের মতো অত্যন্ত দুর্লভ ও দামি মৌলিক পদার্থ (ধাতু)।

এই দুজন বিজ্ঞানী মূল্যবান ধাতুর ব্যবহার না করেই এমন অণুঘটক বানিয়েছেন, যা একেবারে ধাতুর মতো আচরণ করে বাতাসের বিষকে ঘিরে ফেলতে সাহায্য করে, কিন্তু ধাতুর মতো বাতাসে বিষের বোঝা বাড়িয়ে দেয় না। বাতাসের বিষকে ঘিরে ফেলার পরেও বেশিক্ষণ তাকে ঘিরে রাখা যায় না। কারণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডের মতো বাতাসে মিশে থাকা গ্যাসীয় পদার্থগুলি নানা রকমের বিক্রিয়ায় জল আর বিভিন্ন ধরনের অ্যাসিডের জন্ম দেয় যা বিষগুলিকে ঘিরে রাখার পাঁচিলটাকে ক্ষইয়ে দেয়। ফলে, বিষকে বেশিক্ষণ ঘিরে রাখা যায় না। তাই তারা আরেকটি পদার্থ আবিষ্কার করেছেন , যার নাম ‘ফ্লুরো-গ্লুসিমল ট্রাইঅ্যালডিহাইড’।

 

- রুনা নাথ

English Summary: air pollution prevented

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.