নবদ্বীপের কিংবদন্তীর মসলিনের এ বার জি আই রেজিস্ট্রেশন হতে চলেছে।

KJ Staff
KJ Staff

মসলিনের সূক্ষ্মতার কিংবদন্তী সত্যি প্রমাণ করছেন নবদ্বীপের মাটিয়ারি কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের কারিগরেরা। সর্বোচ্চ পাঁচশো কাউন্টের মসলিন সুতোর কাপড় তাঁরা বাণিজ্যক ভাবে উৎপাদন করছেন অনেক দিন ধরেই। সূক্ষ্ম মসলিন উৎপাদনে রাজ্যের অন্যতম অগ্রণী কেন্দ্র নবদ্বীপের ওই প্রতিষ্ঠানে কাটুনি থেকে বুনন শিল্পী— প্রায় প্রত্যেকেই রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন কোনও না কোনও সময়ে। এ বার তাঁদের মসলিন সাফল্যকে স্থায়ী করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের খাদি বোর্ড। কিংবদন্তীর মসলিনের এ বার জি আই রেজিস্ট্রেশন হতে চলেছে। 

পশ্চিমবঙ্গ খাদি এবং গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের তরফে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দু’হাজার বছর ধরে কিংবদন্তী হয়ে ওঠা  মসলিনের এবার জি আই রেজিস্ট্রেশন হতে চলেছে। সূক্ষ্ম মসলিন উৎপাদনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে জড়িয়ে আছে নদিয়া মাটিয়ারি কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ ভারতে এক সময়ে মসলিনের উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও স্বাধীনতার পর ফের শুরু হয়ে যায় মসলিন উৎপাদন। ফের সেই সূক্ষ্মতা অর্জনের লক্ষ্যে শুরু হয় সাধনা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় মসলিন উৎপাদনের কাজ। 

সূক্ষ্ম মসলিন উৎপাদনে রাজ্যের অন্যতম অগ্রণী কেন্দ্র নবদ্বীপের মাটিয়ার কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক শুভাশিস চক্রবর্তী জানান, দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাঁচশো কাউন্টের মসলিন তৈরিতে তারাই প্রথম সফল হন। এখন তা বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। এর পর তারা ছশো কাউন্টের উৎপাদন পরীক্ষামূলক ভাবে সফল হয়েছেন। কিন্তু  এই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মসলিন যে তারাই উৎপাদন করছেন, সেই দাবি চিরস্থায়ী করার জন্য জি আই রেজিস্ট্রেশন খুবই জরুরি । খাদি বোর্ড এর জন্য উদ্যোগী হয়েছে। গত মে মাসের শেষদিকে নবদ্বীপের মসলিন উৎপাদনকারী ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাবতীয় নথি নিয়ে গিয়েছেন খাদি বোর্ডের কর্তারা।    

এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ খাদি এবং গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এখন বিভিন্ন রাজ্যে মসলিন উৎপাদন হলেও সুক্ষ্ম মসলিন কেবল মাত্র এই রাজ্যেই হয়। অন্য রাজ্যের মসলিন যেখানে দেড়শো থেকে বড় জোর দুশো কাউন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সেখানে এই রাজ্যে পাঁচশো কাউন্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ভাবে উৎপন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের মসলিন উৎকৃষ্টতম। মিলে বোনা মসলিন আর হাতে বোনা কাপড়ের মধ্যে আসল নকলের ফারাকটা নির্ধারণ করতে জি আই ট্যাগ জরুরি।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

রুনা নাথ(runa@krisijagran.com)    

 

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters