জৈব কৃষিকাজে এগিয়ে চলেছে ভাই ভাই কৃষক সংঘ

KJ Staff
KJ Staff

জলবায়ুর পরিবর্তনে বিশ্ব পরিবেশ বিপর্যস্ত। আর সে কারণে বিশ্ব জুড়ে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের সমাদর, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জৈব কৃষি। জৈব কৃষি এমন এক কৃষি ব্যবস্থা যেখানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব পদার্থের পুনঃচক্রায়ন যেমন কম্পোস্ট ও শস্যের অবশিষ্টাংশ, ফসল আবর্তন, মিশ্র চাষ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জমি চাষাবাদের মাধ্যমে মাটি ও ফসলের উৎকৃষ্টতা বজায় রেখে সুস্থ সবল বিষমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন বেড়েছে অথচ মাটির উর্বরতা ও উৎপাদিকা শক্তি কমছে, উচ্চমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মাটিতে ও কৃষিপণ্যের উপর কুপ্রভাব পড়েছে, ক্ষতি হয়েছে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের। এ কারণে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখতে পরিবেশকে সংরক্ষণ করে পরবর্তী বংশধরদের উপযোগী করতে, রাসায়নিক কীটনাশকের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে, পৃথিবীর পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাটির গুণাগুণ বজায় রাখার জন্য জৈব কৃষি ব্যবস্থার একান্ত প্রয়োজন। তাই কৃষকদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে, জৈব পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতে একত্রে এগিয়ে এসেছে ভাই-ভাই কৃষক সংঘ।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দেগঙ্গা ব্লক একটি মিশ্র জনজাতির কৃষি প্রধান এলাকা, এই এলাকার সোহাই-শ্বেতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁপুর মৌজা  সবজি উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। খাঁপুর গ্রামের একজন প্রগতিশীল কৃষক হলেন সইদুল ইসলাম । তিনি নিজ প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে ১৫ জন কৃষককে নিয়ে একটি ভাই-ভাই ফার্মার্স ইন্টারেস্ট গ্রুপ (FIG) তৈরি করেছেন এবং  নিজে সম্পাদকের দ্বায়িত্বভার নিয়েছেন, উদ্দ্যেশ্য প্রচলিত চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি জৈব পদ্ধতিতে সমস্ত প্রকার হাইব্রিড সবজি উৎপাদন করা, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং পাশাপাশি উৎপাদিত সবজি নিজ নিজ এলাকার পাশাপাশি শহর কোলকাতায় বিক্রি করা।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেগঙ্গা ব্লকের কৃষি বিভাগের সক্রিয় উদ্যোগে এখানে একটি আদর্শ জৈব গ্রাম তৈরি করা হয় এবং প্রায় ৪০ জন (চল্লিশ জন) কৃষককে নিয়ে টানা তিন মাস ধরে চলে কৃষির উপর উচ্চ পর্যায়ের পশিক্ষণ। এখানে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কৃষি বিভাগ, মহকুমা কৃষি বিভাগ এবং ব্লক কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কৃষিবিদ প্রশিক্ষণ দেন।

পাশাপাশি নিজ প্রচেষ্টায় উত্তর ২৪ পরগণা জেলার উদ্যান পালন আধিকারিক ড: দীপক ষড়ঙ্গীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সরকারী ভর্তুকিতে পলিশেড, নেটের পলিহাউসের পাকাপাকি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

দুটি প্রচেষ্টার যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৪-৫ বিঘা জমিতে সারা বছর নানা সবজি উৎপাদন করা হয়, যেমন – পটল, কুমড়ো, পেঁপে, বেগুন, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, বরবটি, টমেটো, ধনেপাতা, পালংশাক, লালশাক, ফুলকপি, ব্রকলি, মূলা, লাউ, গাজর ইত্যাদি। জৈব উপায়ে উৎপাদিত এই সকল সবজি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের হয়। রাজ্যের তৎকালিন কৃষিমন্ত্রী শ্রী পূর্ণেন্দু বোস মহাশয় নিজে এসে খাঁপুর গ্রামের সমস্ত কৃষি জমি, পলিহাউস ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ভিষণ সন্তুষ্ট হয়ে সেখানকার উৎপাদিত সবজি কোলকাতায় বিক্রির ব্যবস্থা নেন এবং নানা জায়গায় জৈব হাটের তৈরি করেন। এখনও পর্যন্ত উল্টোডাঙা হিডকোর মোড়ে বিধান শিশু উদ্যান জৈব হাটে, বাগুইহাটি জৈব হাটে ও দমদম নাগের বাজার জৈব হাটে সপ্তাহে ৩ দিন বিক্রির ব্যবস্থা আছে। আমাদের আশা এর সুফল রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিটি ব্লকে জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ুক।

তথ্য : সংগ্রিহীত

রুনা নাথ(runa@krishijagran.com)

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters