৭ ই সেপ্টেম্বর চাঁদে পা রাখবে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান

KJ Staff
KJ Staff

ইসরোর (ISRO) সাফল্য, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-২। গতকাল দুপুর ২.৪৩-এ অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি মার্ক-৩ রকেটে চাঁদের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হল চন্দ্রযান-২। ৪৭ দিন উপবৃত্তাকার পথে চাঁদের চারপাশে ঘুরবে এটি। ধীরে ধীরে অভিকর্ষীয় টানে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যাবে চন্দ্রযান-২। এরপর চাঁদের বুকে পদার্পণ করবে বিক্রম আর প্রজ্ঞান। টানা ১৪ দিন তারা চাঁদের মাটিতে সন্ধান করবে চাঁদের রহস্য। এটি প্রথম চন্দ্র অভিযান, যাতে স্বয়ংক্রিয় যান চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে। যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, যে অংশ আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে এবার তার সম্বন্ধেও জানা যাবে। এর আগে সব ল্যান্ডিং-ই চাঁদের বিষুবরেখা অঞ্চলে হয়েছিল। এটি প্রথম ভারতীয় চন্দ্র অভিযান, যার প্রধান চারটি অংশ- উৎক্ষেপণ যান, উপগ্রহ, ল্যান্ডার ও রোভার সমস্ত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। কোন বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই এটি চাঁদের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখবে এবং জিও ম্যাপিং করবে। এর আগে চন্দ্রযান-১ চাঁদের মাটির উত্তর মেরুতে জলের সন্ধান পেয়েছিল।

ভারত চতুর্থ দেশ হতে চলেছে, যাদের স্যাটেলাইট চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করল। ইসরোর এই অভিযান সফল হলে মহাবিশ্বের সৃষ্টির হদিশ পাওয়া যাবে বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। চন্দ্রযান-২ –এর অভিযান সফল হলে জানা যাবে, কেমন ছিল আগে মহাকাশের গঠন, চাঁদের জন্ম বৃত্তান্ত ইত্যাদি সম্বন্ধে। বিজ্ঞানী সঞ্জীব সেন বলেছেন, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনেক গহ্বর আছে, সেখানে সফট ল্যান্ডিং করানো একটি চ্যালেঞ্জ’। পৃথিবীর খনিজ সম্পদ দিন দিন শেষ হয়ে আসছে, যা পৃথিবীর পক্ষে অত্যন্ত সঙ্কটজনক। পৃথিবীর এই সংকটের দিশা খুঁজতেই চাঁদে পাড়ি দিল চন্দ্রযান-২। প্রজ্ঞান একটি রোভার যান, যা চাঁদের বুকে প্রায় আধ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ঘুরবে। এটি চাঁদের মাটি, ধুলো, বাষ্প, মাটির উষ্ণতা, খনিজ পদার্থ এবং তার আশেপাশের অণু, পরমাণু সংগ্রহ করবে। এই তথ্য সে পাঠাবে অবতারণকারী যান বিক্রমের কাছে আর বিক্রম সেই তথ্য পৃথিবীতে বিজ্ঞানীদের কাছে পাঠাবে। বিক্রম প্রায় ১৪০০ কেজি ওজনের একটি ল্যান্ডার। মহাকাশ বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই-এর নামে এই যানের নামকরণ করা হয়েছে। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম এর অধিকর্তা, দেবীপ্রসাদ দুয়ারি বলছেন, চাঁদের তাপমাত্রা কি করে পরিবর্তন হয়, ‘চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে কোন গহ্বরের তলদেশে জলীয় বরফের আচ্ছাদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে চন্দ্রযান-২’। এর সাফল্য ভারতকে এক অনন্য সাধারণ জায়গায় নিয়ে যাবে।

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters