কৃষকদের জন্য সরকারের কাছে ‘স্পেশাল প্যাকেজ’-এর দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

Tuesday, 28 April 2020 06:25 PM

বর্তমান পরিস্থিতিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ আপামর দেশবাসীর৷ আর লকডাউন পিরিয়ডে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে কৃষকদের৷ কৃষিজ উপাদানের সরবরাহ থেকে শস্য বিক্রি, সমস্যায় কৃষকেরা৷ আর এরই মধ্যে কৃষকদের হয়ে বললেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া৷ সোমবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে তিনি চিঠিতে জানান, কোভিড ১৯-এর কারণে বর্তমানের সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে কর্ণাটক সরকারের কৃষকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা উচিত৷

জেডি(এস) সুপ্রিমো জানান, দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের পাশে যেভাবে থেকেছে সরকার, তাদের বিক্রি না হওয়া দুধ দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তেমনই রাজ্যের কৃষকদেরও সাহায্য করা প্রয়োজন৷ এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায় কেউ, তাহলে তারা তাদের জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হবে৷

এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে৷ সংবাদ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষোভে এক কৃষক তার এক একর জমিতে ফলানো ফসল নষ্ট করে দেন৷ ওসমানাবাদ জেলার এই কৃষককে তার ফসলের জন্য, এক ব্যবসায়ী বাজার দরের এক ষষ্ঠাংশ মূল্য দেওয়ার কথা বললে ওই কৃষক ক্ষোভে নিজের এক একর জমিতে ফলানো বাঁধাকপি নষ্ট করে দেন৷ জানা যায়, যে মূল্য দেওয়ার কথা ওই কৃষককে বলা হয়েছিল তা এতোটাই কম ছিল যে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বেছে নিতে বাধ্য হন ওই কৃষক৷ তবে শুধু মহারাষ্ট্রেই নয়, কৃষক-শ্রমিক-ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে৷

এর পাশাপাশি, উদাহরস্বরূপ নাসিকের কৃষকদের কথাও বলা যেতে পারে৷ এক সংবাদ সংস্থাকে এক দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষক জানান, হোটেল থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান প্রায় সব বন্ধ থাকায় কমেছে দুধের চাহিদা৷ আর যা বিক্রি হচ্ছে তাতে তাদের ধার্য মূল্য থেকে দামের পার্থক্য থাকছে প্রায় ২০ টাকা৷ তাই খরচ সামলানো তাদের পক্ষে সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তারা এও জানাচ্ছেন, লকডাউনে দুধ কিনতে সাধারণ মানুষেরাও আসছে না অথচ অত দুধ সংরক্ষণও সম্ভব নয়৷ তাই অনেক ক্ষেত্রে গরীব, দুঃস্থদের তা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এর পাশাপাশি গৃহপালিত পশুদের রক্ষণাবেক্ষণ, তাদের চিকিৎসার দিকটিও যথেষ্ট ব্যয়সাধ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ৷ ফলে পরিস্থিতির চাপে কোণঠাসা কৃষকরা৷

এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঋণের জালে জড়িয়ে কৃষকেরা বর্তমান পরিস্থিতিতে খারাপ অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করার মুখে৷ এই ক্ষতির থেকে তাদের বের করে না আনলে তারা আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে৷

শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, শস্য-পণ্য উৎপাদনে যে ব্যয় হয়েছে তাদের সেই অনুযায়ী তারা দাম পাচ্ছে না ফসল বিক্রির সময়৷ এবং খুবই কম টাকাতে তাদের সেসব বিক্রি করে দিতে হচ্ছে উপায় না থাকায়৷

গত ৩ এপ্রিল গৌড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে লকডাউনে কৃষক, শ্রমিক এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মন্দাবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণে আবেদন করেন৷

Name- Barsha Chatterjee

Mail Id- barshachatterjee.news@gmail.com

English Summary: Deve Gowda monday demands special package for farmers

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.