কৃষকদের জন্য সরকারের কাছে ‘স্পেশাল প্যাকেজ’-এর দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

KJ Staff
KJ Staff

বর্তমান পরিস্থিতিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ আপামর দেশবাসীর৷ আর লকডাউন পিরিয়ডে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে কৃষকদের৷ কৃষিজ উপাদানের সরবরাহ থেকে শস্য বিক্রি, সমস্যায় কৃষকেরা৷ আর এরই মধ্যে কৃষকদের হয়ে বললেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবে গৌড়া৷ সোমবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে তিনি চিঠিতে জানান, কোভিড ১৯-এর কারণে বর্তমানের সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে কর্ণাটক সরকারের কৃষকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা উচিত৷

জেডি(এস) সুপ্রিমো জানান, দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের পাশে যেভাবে থেকেছে সরকার, তাদের বিক্রি না হওয়া দুধ দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তেমনই রাজ্যের কৃষকদেরও সাহায্য করা প্রয়োজন৷ এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায় কেউ, তাহলে তারা তাদের জমি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হবে৷

এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে৷ সংবাদ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষোভে এক কৃষক তার এক একর জমিতে ফলানো ফসল নষ্ট করে দেন৷ ওসমানাবাদ জেলার এই কৃষককে তার ফসলের জন্য, এক ব্যবসায়ী বাজার দরের এক ষষ্ঠাংশ মূল্য দেওয়ার কথা বললে ওই কৃষক ক্ষোভে নিজের এক একর জমিতে ফলানো বাঁধাকপি নষ্ট করে দেন৷ জানা যায়, যে মূল্য দেওয়ার কথা ওই কৃষককে বলা হয়েছিল তা এতোটাই কম ছিল যে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বেছে নিতে বাধ্য হন ওই কৃষক৷ তবে শুধু মহারাষ্ট্রেই নয়, কৃষক-শ্রমিক-ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে৷

এর পাশাপাশি, উদাহরস্বরূপ নাসিকের কৃষকদের কথাও বলা যেতে পারে৷ এক সংবাদ সংস্থাকে এক দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষক জানান, হোটেল থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান প্রায় সব বন্ধ থাকায় কমেছে দুধের চাহিদা৷ আর যা বিক্রি হচ্ছে তাতে তাদের ধার্য মূল্য থেকে দামের পার্থক্য থাকছে প্রায় ২০ টাকা৷ তাই খরচ সামলানো তাদের পক্ষে সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তারা এও জানাচ্ছেন, লকডাউনে দুধ কিনতে সাধারণ মানুষেরাও আসছে না অথচ অত দুধ সংরক্ষণও সম্ভব নয়৷ তাই অনেক ক্ষেত্রে গরীব, দুঃস্থদের তা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এর পাশাপাশি গৃহপালিত পশুদের রক্ষণাবেক্ষণ, তাদের চিকিৎসার দিকটিও যথেষ্ট ব্যয়সাধ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ৷ ফলে পরিস্থিতির চাপে কোণঠাসা কৃষকরা৷

এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঋণের জালে জড়িয়ে কৃষকেরা বর্তমান পরিস্থিতিতে খারাপ অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করার মুখে৷ এই ক্ষতির থেকে তাদের বের করে না আনলে তারা আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে৷

শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, শস্য-পণ্য উৎপাদনে যে ব্যয় হয়েছে তাদের সেই অনুযায়ী তারা দাম পাচ্ছে না ফসল বিক্রির সময়৷ এবং খুবই কম টাকাতে তাদের সেসব বিক্রি করে দিতে হচ্ছে উপায় না থাকায়৷

গত ৩ এপ্রিল গৌড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে লকডাউনে কৃষক, শ্রমিক এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মন্দাবস্থার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণে আবেদন করেন৷

Name- Barsha Chatterjee

Mail Id- barshachatterjee.news@gmail.com

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters