বিন্দুসেচ ব্যবহার করে উড়িষ্যার উপজাতীয় কৃষকরা লাখপতি হচ্ছে

Monday, 25 February 2019 02:49 PM

উড়িষ্যার টাঙ্গিরায়পল উপজাতীয় গ্রামে কোনও পাকা রাস্তা বা বিদ্যুৎ নেই তবে বিন্দুসেচ এখানে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌছেছে, যাতে করে তারা সারা বছর ধরে ফসল কাটতে পারে এবং আরো ভাল আয় করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, হরিচন্দনপুর ব্লকের ৬৮ টি গ্রামের উপজাতীয় কৃষক, যারা বর্ষাকালের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিল এবং বছরে শুধুমাত্র একটি ফসল ফলাচ্ছিল, তারা বিন্দুসেচের সুবিধা নিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে  শস্যের উৎপাদন করছে। বিন্দুসেচ নিয়ন্ত্রিত সেচের একটি পদ্ধতি যেখানে জল ধীরে ধীরে গাছপালায় সরবরাহ করা হয়, যার ফলে জলের ও সারের কার্যকর ব্যবহার হয়। অনেক উপজাতি যারা কম দামে স্থানীয় হাটে তাদের ফসল বিক্রি করে আসছিল তাদের জীবনের প্রথমবারের জন্য তারা বাজারে উচ্চমূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি শুরু করেছে এবং তারা 'লাখপতি কৃষক' হয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গিরায়পল গ্রামের বাবলা হাসদা বলেন যে আমার ৪ একর জমি আছে। আমি অর্ধেক একর জমিতে বিন্দুসেচ ব্যবহার করে লঙ্কা চাষ করেছি আর তার থেকে আমি ভাল আয় করছি। এ পর্যন্ত হাসদা ৩০০০ টাকা প্রতি কুইন্টালের গড় হারে ৩৫ কুইন্টাল লঙ্কা বিক্রি করে ১,০৫.০০০ টাকা আয় করেছে। তিনি ফসলের খরচ, ঋণ প্রদান  এবং অন্যান্য খরচ করার পরেও ২৫,০০০ টাকা নগদ অর্থ সংরক্ষিত করতে পেরেছে। হাসদা প্রথমদিনে বাজারে গিয়ে জানতে পেরেছিলেন যে কিভাবে ডিজিটাল ওজন মেশিনে কৃষি উৎপাদনের সঠিকভাবে ওজন হয় এবং তা উচ্চ হারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়ে যায়।

এর আগে, তারা প্রচুর পরিমাণে ফসল ফলাতে ভয় পেত কারণ তারা কাছাকাছি কোন বাজারের ব্যাপারে অজ্ঞাত ছিল। ৩ একর জমিতে বিন্দুসেচ ব্যবহার করে প্রায় ১১ জন কৃষক প্রথমবারের মতো লঙ্কা চাষ করেছেন এবং এর জন্য এরা ভালো দাম পাচ্ছে। টাঙ্গিরিয়াপল গ্রাম সমিতির সচিব সুমিত্রা কুদুর মতে, টাটা ট্রাস্টগুলির একটি সংগঠিত সংস্থা কালেক্টিভ ফর ইন্টিগ্রেটেড লাইভলিহুড ইনিশিয়েটিভ (সিনি) থেকে প্রশিক্ষণ ও সমর্থনের জন্য গ্রামের রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। সিনি কর্তৃক আয়োজিত একটি কর্মশালা থেকে বিন্দুসেচের কৌশল সম্পর্কে জানতে পেরে ১১ টি টাঙ্গিরিয়াপিলের পরিবার তিন একর কৃষি জমিতে বিন্দুসেচ গ্রহণ করেছে। এক একর জমির জন্য বিন্দুসেচের খরচ ১ লাখ, যার মধ্যে সিনি ৫০ শতাংশ ও বাকিটা কৃষকরা বহন করে। এই বছর আরো ২৪ জন কৃষক বিন্দুসেচিং চেষ্টা করতে আগ্রহী। কুদু বলেন যে ১৬ জন কৃষক আমাদের গ্রামে লাখপতি হবার পর আরো কৃষক উৎসাহিত হচ্ছে। ফসলের খরচ এবং অন্যান্য খরচ বাদে কৃষকরা বছরে ১ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করছে।

সিনি ও স্থানীয় এনজিওগুলির মাধ্যমে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে পরিচালিত ৬৮ টি গ্রামে উপজাতীয় মহিলা কৃষকেরা এই চাষের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ওঁই গ্রামের প্রতিটি পরিবারের এক মহিলাকে প্রশিক্ষিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে কারণ মহিলারা উভয় বাড়ি এবং কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কাজ করে। “একবার নারী প্রশিক্ষিত হলে, তারা তাদের পরিবারের পরিবর্তন আনতে পারবে", সিনি মুখপাত্র গণেশ নিলাম বলেন। যেহেতু ৬৮ টি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, তাই সিনি দ্বারা আংশিক তহবিল সরবরাহ করে বিন্দুসেচ চালানোর জন্য ডিজেল এবং সৌর ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে হরিচন্দনপুর ব্লকের ৬৮ টি গ্রামে ৬,৫০০ পরিবারে মধ্যে ১০০০ পরিবারের আয় বছরে কমপক্ষে ১,০০,০০০ টাকা হয়ে উঠছে। এর আগে এই কৃষকদের গড় আয় বছরে ৩৫,০০০-৪০,০০০ ছিল, কিছু জায়গায় আয় বছরে ১৫,০০০ হাজারেরও কম ছিল।

- দেবাশীষ চক্রবর্তী



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.