চাষিদের দিশা দেখাতে পারে GAP (গ্যাপ)

Monday, 11 March 2019 12:18 PM

কোচবিহার জেলার ৫টি গ্রামে ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সিলেরেটেড ডেভলপমেন্ট অফ মাইনর ইরিগেশন প্রোজেক্ট (WBADMI) এর আওতাধীন GAP (Good Agriculture Practice)প্রজেক্ট এ কাজ শুরু হয়েছে প্রায় 2 বছর আগে। এই জেলার মাথাভাঙ্গা ব্লকের ১ ও ২ নঃ যথাক্রমে পাতাকামারি, টেকনিয়া, কোদালখেতি, রুনিবাড়ি ও পঁচাগর  গ্রামের কম বেশি ২৫০ জনের কৃষি পরিবার নিয়ে কাজটি চলছে। ধীরে ধীরে চাষীরা আরো সংযুক্ত হচ্ছেন। বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির (নিমপিঠ,উত্তর ২৪ পরগণা) পরিচালনায় GAP প্রজেক্টের  মুখ্য উদ্দেশ্যে হল চাষীদের "সুশীল সমন্নিত কৃষি পদ্ধতিতে চাষ বাসে" উৎসাহিত করা।অর্থাৎ চাষের প্রথাগত পদ্ধতিকে কিছুটা বজায় রেখে আধুনিক প্রাকৃতিক বান্ধব ও বাস্তব বিজ্ঞান সম্মত কৃষি পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া।

এই পদ্ধতিতে কৃষকবন্ধুদের মাটি পরীক্ষার ফলাফলের মাধমে সার ব্যবহার করার  উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে পাশাপাশি জমিতে জৈব পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কম করার উপরও নজর রাখা হয়।এইসব গ্রামের নির্বাচিত কিছু কৃষকদের মাঝে মাঝেই কৃষি বিজ্ঞানকেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুলিতে শিক্ষণীয় ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও VIB এর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে হাতে কলমে বিভিন্ন বিষয়ে চাষীদের শেখানো হয়।

এছাড়া বছরের ভিন্ন মরসুমে চাষীদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞানী দ্বারা অথবা কোন সফল চাষীদের দিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ বাস নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। পঁচাগর গ্রামের চাষী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম একটি সাক্ষাৎকারে  বলেন যে তিনি এই গত মরসুমে ২.৫ বিঘা ধান চাষ করার পর এই মরসুমে বিভিন্ন শীতকালীন সবজি  টমেটো ০.৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন GAP পদ্ধতি কে লক্ষ রেখে, আগে উনি জানতেন না IPM কাকে বলে আজ উনি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেটি জানতে পেরেছেন জানান এবং জমির মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করছেন। তিনি এতে কিছুটা খরচের কমছে।তিনি আরো বলেন GAP এর প্যারা কর্মী সবসময় তাদের খোঁজ রাখেন এবং কোনো সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করেন।তবে তিনি এটিও বলেন যে, কোন কোন সময় তারা মতো প্রশিক্ষণ কিংবা মাটি পরীক্ষার ফলাফল সময় মত হাতে পান না এটা তাদের কাছে খুব দুঃখের। তবে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রার ক্ষেত্রে সবুজ, হলুদ, লাল বিষ যে ক্রমান্বয়ে ব্যবহার করতে চাষীরা ধীরে ধীরে শিখছে এটা GAP পদ্ধতির একটি সাফল্য৷ এছাড়া কৃষি বিষ ব্যবহার ছাড়াই রোগ পোকা দমনের পদ্ধতি তারা শিখছেন এই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে। এছাড়া জমিতে প্লাস্টিক জাতীয় ক্ষতিকারক পদার্থ গুলি পুঁতে কিংবা পুড়ে ফেলা কতটা প্রয়োজন সেটাও চাষী ভাইরা কিছুটা বুঝেছেন বলে জানান।

এখন তারা উদ্যোগ নিয়েছেন যৌথ ভাবে চাষ আবাদের পাশাপাশি মাশরুম,ভার্মি কম্পোস্ট করার এজন্য GAP ও স্হানীয় একটি ফার্মারস ক্লাবের তাঁরা সহযোগিতা পাচ্ছেন। তবে তিনি তারা আরো আশা করেন যে স্হানীয় কৃষি দফতর যদি GAP এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে তবে চাষীদের অনেক আশাই পূর্ন হতে পারে।

এই প্রজেক্ট এর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার কথা প্রসঙ্গে জানান যে, তারা নিজের তরফে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মকান্ডগুলি ঠিক রাখতে কিন্তু প্রজেক্ট এর কাজ গুলিতে অনেক সময়ই পরিকল্পিত অর্থ পেতে বিলম্ব হয় এবং প্রয়োজন মত অর্থ মেলে না তার জন্য কাজের গতিধারা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অসাধারণ তাই সাধ্যমত তাঁরা তাদের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আশা করছেন চাষীরা এতে লাভবান হবেন।

- অমরজ্যোতি রায় (amarjyoti@krishijagran.com)

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online

Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.