৭৫০ কেজির দাম মাত্র ১০৬৪ টাকা

Tuesday, 04 December 2018 11:53 AM

দেশের কৃষকদের দুর্দশা কমার নামই নিচ্ছে না, দুদিন আগেই সারা উত্তরভারতের কৃষকরা রাজধানীতে সারা দিনব্যাপী ধর্ণা মিছিল করে গেছে, কারণ তাদের দুর্দশা যে দিন দিন বেড়েই চলেছে সেটা নিয়ে সরকারের কাছে উত্তেজনা সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি তাদের এই আন্দোলনকে বিশেষভাবে সমর্থন করেছিলো, কিন্তু বছরের পর বছর তাদের দেওয়া আশ্বাসে কোনো কাজ তো হয়ই নি, উল্টে কৃষকদের অবস্থা খারাপ হয়ে চলেছে, যা সত্যিই চিন্তার বিষয়। এই কৃষক আন্দোলন ছিলো প্রকৃতপক্ষে তাদের মনে চেপে থাকা আগ্নেয়গিরি যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে দিন দিন।

আজ মহারাষ্ট্র থেকে একটি বিশেষ ও মর্মান্তিক খবর এসেছে, সেটি হল সেখানকার কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পিঁয়াজ ১ টাকা প্রতি কিলো বেচতে হচ্ছে। একজন পিঁয়াজ উৎপাদক তাঁর উৎপাদিত ৭৫০ কেজি পিঁয়াজের মূল্য পেয়েছেন মাত্র ১০৬৪ টাকা। বিরক্তিকর অবস্থা এমন মাত্রা ছুঁয়েছে যে সেই কৃষক এই বিক্রয়প্রাপ্ত মূল্যকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দরবারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য হলো, এই টাকা পাঠিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভারতীয় কৃষক ও কৃষির প্রকৃত অবস্থাকে বোঝাতে চেয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার নিফাড তফসিলে অবস্থিত এক গ্রামের কৃষক সঞ্জয় সাঠে ওনার উৎপাদিত ফসল বেচে প্রতি কিলোতে ১ টাকারও কম দাম পেয়েছেন। অনেক দর কষাকষির পরেও তাকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত পেঁয়াজ ১ টাকা ৪০ পয়সা প্রতি কিলো হিসাবে বিক্রি করতে হয়। এই ১ টাকা ৪০ পয়সা হিসাবে তিনি ৭৫০ কেজি পেঁয়াজ বেচে পান মাত্র ১০৬৪ টাকা। সারা চাষের সময়ে তাঁর হাড়ভাঙ্গা খাটনি ও প্রচুর মূলধন লাগানোর পরেও তাঁর এই সামান্য প্রাপ্তি তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি। তাই তাঁর এই দুঃখের সংগ্রহকে তিনি নিজের কাছে না রেখে সোজা পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর দরবারে।

জানা গেছে যে সঞ্জয় ওই জেলার নির্বাচিত প্রগতিশীল চাষিদের মধ্যে একজন ছিলেন, যাকে ২০১০ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাড়াক ওবামার ভারত যাত্রার সময় কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক থেকে কৃষি সংবাদদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিলো।

সরকারি নিউজ এজেন্সি পি টি আই-এর কাছে সঞ্জয় বলেন, এই সপ্তাহে তিনি তাঁর ক্ষেতে উৎপাদিত পেঁয়াজ তোলেন ও নিফাড পাইকারি বাজারে নিয়ে যান বেচার জন্য, সেখানে তাকে তাঁর সমস্ত পেয়াজকে ১ টাকার কিছু বেশি মূল্য প্রতি কেজি হিসেবে বিক্রি করে দিতে হয়। তিনি বলেছেন “এই পেঁয়াজ উৎপাদন করার জন্য তাকে বিগত চারমাস ধরে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে, আর সেখানে তাঁর পরিশ্রমের জন্য এই অতি সামান্য মূল্য তাঁর মনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিলো। তাই তিনি সেই করুণ মানসিক অবস্থার থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করবেন, এবং তিনি তা করেছেনও, আর তাঁর জন্য তাকে আলাদা করে ৫৪ টাকার মানি অর্ডার খরচও বহন করতে হয়।

সঞ্জয় আরো বলেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত নন। কিন্তু ওনার বক্তব্য হলো কেন্দ্রীয় সরকার কিছুতেই কৃষকদের দুঃখ বুঝতে চাইছেন না। কৃষি ও কৃষকদের প্রতি সরকারি উদাসীনতা তাকে গভীর ভাবে দুঃখ দিয়েছে।

তিনি বলেছেন যে নভেম্বরের ২৯ তারিখ তিনি এই টাকা ডাকঘরের মারফত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঠিকানায় পাঠিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, মহারাষ্ট্রের নাসিক ভারতের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী ক্ষেত্র। ভারতে মোট উৎপাদিত ৫০% পেঁয়াজ নাসিক জেলায় উৎপাদিত হয়।

ওবামা-এর সাথে সাক্ষাতকারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বললেন আসলে ওটা ছিলো একটি টেলিফোনিক পরামর্শ যার সাহায্যে কৃষক তাঁর ক্ষেতের উৎপাদন বাড়াতে পারে। তিনি টেলিফোনের কথোপকথনের মাধ্যমে আবহাওয়া ও সেই আবহাওয়ায় পরিচালিত কৃষির সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছেন। এই ভাবে তিনি এই মরশুমে তাঁর উৎপাদনের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে সমর্থ হয়েছেন।

সঞ্জয় বলেছেন, “আমার চাষের প্রক্রিয়া জানার জন্য আমাকে আকাশবাণীর একটি কার্যক্রমে বক্তব্য রাখতে বলা হয়, এই কারণেই ওবামার মুম্বাই যাত্রার সময় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে একটি জৈব স্টল খোলার জন্য আমাকে নির্বাচিত করেছে। একজন দোভাষীর সাহায্যে তিনি আমেরিকার রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের বক্তব্য জাহির করেছিলাম।”

- প্রদীপ পাল(pradip@krishijagran.com)

Share your comments



Krishi Jagran Bengali Magazine Subscription Subscribe Online


Download Krishi Jagran Mobile App

CopyRight - 2018 Krishi Jagran Media Group. All Rights Reserved.