ICAR - CRIJAF - কৃষি পরার্মশ এবং উন্নত প্রযুক্তির সাথে আইসিএআর - ক্রাইজাফ (ICAR - CRIJAF) - এর নব্য প্রচার কার্যক্রম মহামারী রোগের সময় পাট চাষীদের উৎসাহ প্রদান করছে

KJ Staff
KJ Staff
Jute farmer & Jute field
Jute farmer & Jute field

আইসিএআর – সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যাণ্ড আলাইড ফাইবার্স (ক্রাইজাফ), ব্যারাকপুর একমাত্র শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গবেষণা সংস্থা, যা পাট, মেস্তা, সিসাল, শণপাট এবং রেমি চাষীদের জন্য কৃষিপ্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা করে। পাট পশ্চিম, বিহার, আসাম, ওড়িশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগদী ফসল এবং প্রায় ৫ মিলিয়ন কৃষক এবং পাটকল শ্রমিক তাদের জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাট চাষের উপর নির্ভরশীল।

গত বছরের মতো পাট উৎপাদক বেশীরভাগ রাজ্যে বর্তমানে কোভিড -১৯ মহামারীর বিস্তার রোধে কঠোর লকডাউন চলছে। এই সময় মাঠে পাটের ফসল রয়েছে এবং পাট চাষীরা পাট চাষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে ব্যস্ত আছে। লকডাউনের কারণে কৃষকরা চাষের নানা সমস্যার প্রতিকার পেতে বিজ্ঞানী এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারছেন না।

পাট চাষীদের জন্য পরামর্শ (Guidelines for jute farmers) - 

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টরের বেশী জমিতে পাটের ফসল বপন করা হয়েছে এবং জমিতে এখন পাটের ফসল প্রায় ২০-৫০ দিনের পুরানো। আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সার প্রয়োগ, কীট দমন ও রোগ প্রতিরোধ এবং ফসল কাটার পরবর্তী প্রযুক্তিগুলির জন্য প্রস্তাবিত সময় প্রযুক্তি অনুসরণ করে যদি শস্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে চাষ করা হয়, তবে অধিক পরিমাণে ভালো মানের তন্তু উৎপাদন করা যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের ৩ মিলিয়ন পাট কৃষকের সমস্যা বিবেচনা করে, আইসিএআর-সেন্ট্রাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর জুট অ্যাণ্ড আলাইড ফাইবার্স (ক্রাইজাফ), ব্যারাকপুর কৃষকদের সাহায্য ও গাইড করার জন্য কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে তারা সাফল্যের সাথে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পাট চাষ করে অধিক ও উচ্চ গুণমানের ফলন লাভ করতে পারে।

কৃষকদের সহায়তার উদ্যোগে ব্যারাকপুরের আইসিএআর- ক্রাইজাফ (ICAR-CRIJAF) -

ব্যারাকপুরের আইসিএআর- ক্রাইজাফের নির্দেশক ড. গৌরাঙ্গ কর জানিয়েছেন যে, ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা এবং এর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিষয়বস্তু বিশেষজ্ঞরা যথাযথ কৃষি তথ্য ও পরামর্শ সরবরাহ করে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য কৃষকদের সাথে, রাজ্যের কৃষি বিভাগের সাথে এবং জুট আইকেয়ার (JUTE-ICARE) প্রোগ্রামে কর্মরত ফিল্ড স্টাফদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ড. কর আরও জানান যে, তাঁর সংস্থা বিভিন্ন রাজ্যে পাট ফসলের বৃদ্ধির অবস্থা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। লকডাউন পরিস্থিতিতে ইন্সটিটিউট হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস, মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাট ফসলের কৃষি পরামর্শ প্রচার করছে।

এই প্রসঙ্গে, আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য এবং ক্ষেতের ক্রিয়াকলাপের জন্য ফসলের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায় অনুসারে ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রস্তুত ও প্রচারিত পাট ও সমবর্গীয় তন্তু ফসলগুলি চাষের জন্য সাপ্তাহিক কৃষি পরামর্শগুলি কৃষকদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাটচাষী, কৃষি সম্প্রসারণকর্মী এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের কাছে এই কৃষি পরামর্শ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংস্থা অবিচ্ছিন্ন ও কঠোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

উচ্চ উৎপাদনশীলতা, উন্নত গুণমান এবং জলবায়ুর স্থিতিস্থাপকতার জন্য ক্রাইজাফ কৃষকদের ইনস্টিটিউট দ্বারা বিকশিত উচ্চ ফলনশীল জাতের পাট - জেআরও ২০৪ ( সুরেন) চাষ করতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া কৃষকরা সারিতে বীজ বপন, উপযুক্ত সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগ এবং যান্ত্রিক আগাছা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যাযথভাবে গ্রহণ করেছেন। ইনস্টিটিউট দ্বারা উদ্ভাবিত জাফ - সেফ (JAF Safe) অ্যাপ্লিকেশনটি কীটপতঙ্গ এবং রোগের সঠিক নিৰ্ণয় ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রসারণ কর্মী, মাস্টার ট্রেনার এবং কৃষকদের গাইড করে।

পাট চাষীদের সুবিধার্থে ইনস্টিটিউট বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল - তফসিলি জাতি উপ–পরিকল্পনা (SCSP), উপজাতি উপ-পরিকল্পনা (TSP), পাট-উন্নত চাষাবাদ ও পচন অনুশীলন (Jute-ICARE) জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মিশন (বাণিজ্যিক ফসল) পাট [NFSM (cc) Jute]। এসসিএসপি এবং টিএসপির আওত্তায় উপকৃত কৃষকদের জীবিকার সামগ্রিক উন্নতির জন্য উন্নত খামার প্রযুক্তি প্রচারের জন্য সাতটি গ্রাম গৃহীত করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত বীজ, সরঞ্জাম, সার, কীটনাশক সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুন - ICAR CRIJAF - পূৰ্বাভাসিত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ' - এর সঙ্কট প্রশমিত করার জন্য আইসিএআর ক্রাইজাফ দ্বারা পাট চাষীদের জন্য পরামর্শ

আইসিএআর-ক্রাইজাফের নির্দেশক ড. গৌরাঙ্গ কর, জানিয়েছেন যে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাট চাষের জন্য প্রচারিত বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ ও তথ্য এই প্রকল্পগুলির আওতাভুক্ত কৃষকদের প্রচুর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এই প্রকল্পগুলির আওতাধীন কার্যক্রমের গুরুত্ব পাটের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে মহামারীর সময়ে কৃষকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা নিতে চলেছে। পাশাপাশি, লকডাউন সময়কালে, বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকদের এবং সম্প্রসারণ কর্মীদের যথাযথ কৃষি – পরামর্শ দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইনস্টিটিউটের সময় আঞ্চলিক স্টেশন এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলিও পাট চাষীদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নের জন্য পাট চাষীদের সাথে একত্রে কাজ করে চলেছে।

(সূত্র : ড. গৌরাঙ্গ কর, নির্দেশক, আইসিএআর – সেন্ট্রাল রিসার্চ ইন্সস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড আলাইড ফাইবার্স, ব্যারাকপুর, কলকাতা – ৭০০১২১)

আরও পড়ুন - Indian Railway Recruitment - চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি করল ইন্ডিয়ান রেলওয়ে, দেখুন আবেদন পদ্ধতি

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters