ফ্রান্সে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করছে নামী চকোলেট সংস্থা

KJ Staff
KJ Staff

একটি খুব জনপ্রিয় চকোলেট হেজেলনাট প্রস্তুতকারক সংস্থা নিউটেলা তাদের ফ্রান্সে অবস্থিত সবথেকে বড় কারখানাটি বন্ধ করতে চলেছে, কারণ এই সংস্থার উৎপাদনের গুণাবলী নিয়ে অনেক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে, ফ্রান্সের এক সংবাদ মাধ্যম দ্বারা এই খবর জানা গিয়েছে।

যাইহোক, ফ্রান্সের ভিল্লার্স-ইকালেস-এ অবস্থিত কারখানাটিতে সপ্তাহের প্রথমদিন থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়েছে, কারণ তাদের প্রায় উৎপাদিত পণ্যসমূহের গুণমানের মধ্যে বিশেষ খামতি দেখা গেছে, এই সংবাদ পাওয়া গেছে সি এন এন মারফৎ।

ইতালিয়ান ক্যান্ডি উৎপাদক সংস্থা নিউটেল্লা ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেরেরো একটি বক্তব্যতে বলেছেন, “এই ধরণের বিষয় একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় কারণ আমাদের সংস্থার একটা সুনাম রয়েছে। এই ধরণের ব্যাপার চলতে দেওয়া উচিৎ নয় বলেই আমরা কাজ থামিয়ে দিয়েছি কিছুকালের জন্য। এই কর্মবিরতি যতক্ষণ চলবে ততক্ষণ আমরা এর পেছনে কী কারণ ছিলো তা জানবো, এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আসলে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আমাদের আরও তদন্তের দরকার।“

যদিও, ফেরেরো বলেছেন, “আমাদের কাছে যে পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য মজুত রয়েছে তাই দিয়ে আমাদের ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা গেলেও আমরা এটা চাইছি না, কারণ এই উৎপাদিত ও মজুদ পণ্যসমূহ যে একেবারে সঠিকভাবে উৎপাদিত হয়েছিলো তা বলা যাবে না, তাই আগের উৎপাদনগুলির পরীক্ষা করেই তবেই বাজারজাত করা হবে। তবে আমরা চাইছি যাতে আমাদের ক্রেতারা হতাশ না হন”।

খুব নাটকীয়ভাবে নিউটেল্লা সংস্থাটি চালু হয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল থেকে যখন ইতালিতে কোকোয়ার আকাল শুরু হয়েছিলো, তখন অবশ্য নিউটেল্লা পেস্ট্রি উৎপাদন করতে শুরু করেছিলো এবং এটি ছিলো একদম নতুন ধরণের একটি খাবার মানুষের কাছে। অবশ্য এর পেছনে একজন মানুষের অবদান রয়েছে তিনি ছিলেন পিয়েত্র ফেরেরো। তিনিই প্রথম এই ধরণের খাবার তৈরি করেছিলেন হ্যাজেলনাট, চিনি ও সামান্য কোকোয়া দিয়ে এই দ্রব্যটি উৎপাদন করেছিলেন।

সেই সময়কাল থেকেই এইখাবারটি সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। প্রায় একবছর আগে, ফ্রান্সের একটি মুদিখানা দোকানে যখন নিউটেল্লা উৎপাদিত দ্রব্য প্রায় ৭০% ছার দিয়ে বিক্রি করা হয়েছিলো তখন কে আগে কিনবে এই নিয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

২০১৭-এর নভেম্বর মাসে নিউটেল্লাপ্রিয় মানুষ সোস্যাল মিডিয়াতে তোলপাড় করতে শুরু করেছিলো যখন তাঁরা জানতে পারে যে এই খাবারের উৎপাদনবিধির মধ্যে পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। আসলে পরে জানা যায়, কোনো উপাদানেরই পরিবর্তন ঘটানো হয় নি, আসলে একটু গুঁড়োদুধের প্রলেপ বাড়ানো হয়েছিলো, এর রঙ সামান্য ফিকে করার জন্য।

- প্রদীপ পাল (pradip@krishijagran.com)

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters