উত্তরপ্রদেশে জেলা কারাগারের কয়েদি উৎপাদন করলেন এক কেজি ওজনের আলু

KJ Staff
KJ Staff

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য সমস্যা সমাধানের জন্য উচ্চপ্রযুক্তির কৃষিব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। শুধু মাত্র উচ্চ প্রযুক্তির কৃষি হলেই চলবে না, এই বিষয়ে সবথেকে বেশী প্রয়োজন বিশেষ কয়েকটি বিষয় যেমন-উচ্চফলনশীল বীজ, পরিমিত জৈব বা রাসায়নিক সার, কীটনাশক, প্রয়োজনীয় জল, এবং সবথেকে জরুরী হলো যেটি সেটি হলো ফসলের সঠিক সময়ে চাষাবাদ, আর সবথেকে বেশী জরুরী হল আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার। আধুনিক যুগে কৃষিকার্যকে সময়মত করতে হলে উন্নতমানের কৃষি যন্ত্রের সাহায্য নিতেই হবে, যেমন- ফসল বোনা, জলসেচ, ফসল কাটা, ঝাড়াই, মারাই, এবং সঞ্চয় ইত্যাদি সমস্ত কাজেই প্রযুক্তি দরকার হয়। এই ধরণের কিছু আধুনিক যন্ত্র ও উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার করে উত্তর প্রদেশের এটা জেলায় জিলা কারাগারে এক কয়েদি হাইটেক কৃষিকার্য করে হাইটেক কৃষক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

আসলে এটা জেলা কারাগারের এক কয়েদি সম্পূর্ণ জৈব উপায়ে কৃষিকার্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং তাঁরা প্রশিক্ষণের শেষে জৈব উপায়ে কৃষিকার্য করতে শুরু করেন এবং তাঁরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফসল চাষে সমর্থ হয়েছেন। কয়েদি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ও প্রচেষ্টায় এত সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ফসল উৎপাদন করেছেন যে সমস্ত জেলা আধিকারিকদের তাক লেগে গিয়েছে। সবাই তাঁর এই উৎপাদন ক্ষমতার তারিফ করেছেন। সবথেকে বড় কথা হলো তিনি যে আলু উৎপাদন করেছেন জৈব উপায়ে উৎপাদিত এই আলুগুলির এক একটির ওজন প্রায় ১কেজি বা তার আশেপাশে। তিনি আলুর জাতের নাম দিয়েছেন ‘সি এম’।

একথা বলে রাখা ভালো এই সি এম আলুর বিষয়টি এই জেলার কৃষিমহলে একটি বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তি কৃষিজ্ঞান সম্পন্ন এই কয়েদি বেশ কয়েকটি অপরাধের সাজা কাটাচ্ছেন এই জেলা কারাগারে, কিন্তু তাঁর বর্তমান পরিচয় হলো তিনি একজন উন্নত জ্ঞানসম্পন্ন জৈবিক কৃষক। জেলা কারাগারের মধ্যে অবস্থিত ৫ একর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ জন কয়েদি মিলে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা করে তাঁকে কৃষিকার্যে সাহায্য করছেন। সি এম আলুর উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করে এইসব কয়েদিরা খুব খুশি। তাঁদের খুশি হবার মূল কারণ হলো শুধুমাত্র আলু উৎপাদনই নয়, বরং এখন থেকে তাঁদের খাদ্যের জন্য বাইরের আলুর প্রয়োজন পড়বে না এটা ভেবেই তাঁদের খুশি দ্বিগুণ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সি এম আলু স্বাদে খুবই ভালো এবং যেহেতু এটি জৈব উপায়ে তৈরী তাই এর থেকে কোনো রকম শারীরিক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই।

- প্রদীপ পাল (pradip@krishijagran.com)

Like this article?

Hey! I am KJ Staff. Did you liked this article and have suggestions to improve this article? Mail me your suggestions and feedback.

Share your comments

আমাদের নিউজলেটার অপশনটি সাবস্ক্রাইব করুন আর আপনার আগ্রহের বিষয়গুলি বেছে নিন। আমরা আপনার পছন্দ অনুসারে খবর এবং সর্বশেষ আপডেটগুলি প্রেরণ করব।

Subscribe Newsletters